শিরোনাম

নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা মির্জা আব্বাসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা মির্জা আব্বাসের
রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের অডিটোরিয়ামে এক নির্বাচনী সভায় মির্জা আব্বাস। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশের মানুষ বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার অর্জন করেছে। এই অধিকার প্রয়োগে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বলেছেন, এমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের অডিটোরিয়ামে এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। সভা শেষে তিনি কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড ও পিজি হাসপাতাল এলাকার আশপাশে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। রাতে নয়াপল্টনের গাজী ভবনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করার কথা রয়েছে তার।

ডাক্তার, নার্স, রাজনীতিবিদ কিংবা কুলি-মজুর সব নাগরিকেরই ভোট দেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এই অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান মির্জা আব্বাস।

২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, এবারও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তার ভাষায়, আগে ভোট শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যার মধ্যেই পোলিং এজেন্টরা ফলাফল নিয়ে ফিরত। এখন বলা হচ্ছে, ফল পেতে দুই-তিন দিন লাগবে। এটিকে তিনি সম্ভাব্য কারচুপির লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমন কিছু হলে তা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না।

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে এমন কিছু লোক রয়েছেন, যারা এখনো আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন না হওয়া, আর নির্বাচন হলেও যেন বিএনপি জিততে না পারে।

বিদেশে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদল লোক দেশের বাইরে থেকে নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে। অথচ দেশে ও বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে কীভাবে ক্ষতি করা যায়, কীভাবে বদনাম ও অপবাদ দেওয়া যায়, সে চেষ্টাই তারা চালাচ্ছে। যদি দেশের প্রতি এতই ভালোবাসা থাকে, তবে দেশে এসে নির্বাচন করে জনগণের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের ধরন নিয়ে তিনি বলেন, ভোট চাইতে হলে প্রার্থীকে নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে হবে। অন্যের গীবত করে বা অপবাদ দিয়ে সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, তিনি অন্তত পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং কখনোই অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাননি, বরং নিজের কাজ ও পরিকল্পনার কথাই মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।

নিজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস জানান, তার উদ্যোগে ঢাকায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দুটি হাসপাতাল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় চাকরির ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। এসব তথ্য লিফলেটে তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভোটাধিকার আন্দোলনের প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ভোটাধিকার আদায়ের জন্য যে সংগ্রাম তিনি করেছেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। মানুষ তাকে ভোট দিক বা না দিক, ভোট দিতে পারাটাই তার কাছে শান্তির। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগও প্রমাণ করতে পারবে না।

/এসএ/