শিরোনাম

জামায়াত এমপির প্রকল্পে সভাপতি ভাগনে-ভগ্নিপতি

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
জামায়াত এমপির প্রকল্পে সভাপতি ভাগনে-ভগ্নিপতি
পীরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন

রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির একাধিক প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের নিকট আত্মীয়রা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভাগনে, ভগ্নিপতি এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। একই পরিবারের সদস্যদের একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ায় বরাদ্দ বণ্টনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের নির্বাচনী এলাকার জন্য টিআর কর্মসূচিতে ৩০ লাখ টাকা, কাবিটায় ২৫ লাখ টাকা এবং কাবিখায় ৪০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দের আওতায় টিআরের ১৪টি, কাবিটার ১১টি এবং কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজঘরের উন্নয়ন এবং মাঠে মাটি ভরাটের একটি কাবিখা প্রকল্পে ১০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুব আলীকে, যিনি সংসদ সদস্যের চাচাতো বোনের স্বামী।

একই গ্রামের আরেকটি প্রকল্পে ইয়াকুব আলীর বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিংকরণ, পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং মাটি ভরাটের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফকে। ফলে দুটি প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন পিতা ও পুত্র, যারা দুজনই সংসদ সদস্যের আত্মীয়।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গ্রামে একটি পুরোনো জামে মসজিদ রয়েছে যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদের উন্নয়নের জন্য আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বরং সংসদ সদস্য তাঁর আত্মীয়স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পীরগঞ্জ পৌর জামায়াতের এক নেতা বলেন, ভাগনে ও ভগ্নিপতির নামে প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি সত্য। এটি গোপন রাখার কিছু নেই; সময়ের সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসবেই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে প্রকল্প সভাপতি সালমান শরিফ বলেন, সংসদ সদস্য তাঁর মামা—এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করছেন না। তাঁর দাবি, প্রকল্পের কাজ শতভাগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা থাকায় তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হলে দলের পক্ষ থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি তখন সংসদে অবস্থান করছিলেন। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সংসদে আছি, এখানে কথা বলা কঠিন’, এরপর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, দুটি প্রকল্পের একটিতে ১০ টন এবং অন্যটিতে ৮ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বরাদ্দের অর্ধেক ছাড় করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের সভাপতি এমপির আত্মীয় কি না, সেটি বিবেচ্য নয়; কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাই করেই বাকি বরাদ্দ ছাড় করা হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, কাজ সম্পন্ন না করে খাদ্যশস্য আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী বরাদ্দ দেওয়া হবে।

/এমআর/