করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে সংশোধিত অর্থ বিল-২০২৬ পাস

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে সংশোধিত অর্থ বিল-২০২৬ পাস
সিজেডএন ডেস্ক

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করে অর্থ বিল-২০২৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।
সোমবার (২৯ জুন) সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
বাজেটের ওপর আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাবে পরিবর্তন আনেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্নির্ধারণ।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এ সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করা হবে।
এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে মৌজা মূল্য দেখিয়ে নিবন্ধন করার কারণে করদাতাদের সম্ভাব্য জটিলতা থেকে সুরক্ষা দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই কারণে আরও দুটি প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশন ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার বিধান।
উচ্চশিক্ষা খাতকে উৎসাহ দিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা এবং সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকবে।
রপ্তানিমুখী চিংড়ি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ উপাদান, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শিল্পে বহুল ব্যবহৃত পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল শিল্পে ব্যবহৃত কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আমদানি করা ফায়ার ব্রিকের ওপর আরোপের প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম করও বাতিল করা হয়েছে।
দেশীয় কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সহায়তা দিতে অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এলইডি বাতি এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবন তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থপ্রদানের সংস্কৃতি উৎসাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে বিদেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদানের প্রবণতা কমবে এবং কর পরিপালনের হার বৃদ্ধি পাবে।
সংশোধিত অর্থ বিলে সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছ সরবরাহে পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর পরিপালন সহজ করতে নির্বাচিত কয়েকটি খাতে ভ্যাট ব্যবস্থার কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের বাধ্যবাধকতাও শিথিল করা হয়েছে।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করে অর্থ বিল-২০২৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।
সোমবার (২৯ জুন) সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
বাজেটের ওপর আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাবে পরিবর্তন আনেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্নির্ধারণ।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এ সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করা হবে।
এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে মৌজা মূল্য দেখিয়ে নিবন্ধন করার কারণে করদাতাদের সম্ভাব্য জটিলতা থেকে সুরক্ষা দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই কারণে আরও দুটি প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশন ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার বিধান।
উচ্চশিক্ষা খাতকে উৎসাহ দিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা এবং সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকবে।
রপ্তানিমুখী চিংড়ি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ উপাদান, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শিল্পে বহুল ব্যবহৃত পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল শিল্পে ব্যবহৃত কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আমদানি করা ফায়ার ব্রিকের ওপর আরোপের প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম করও বাতিল করা হয়েছে।
দেশীয় কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সহায়তা দিতে অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এলইডি বাতি এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবন তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থপ্রদানের সংস্কৃতি উৎসাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে বিদেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদানের প্রবণতা কমবে এবং কর পরিপালনের হার বৃদ্ধি পাবে।
সংশোধিত অর্থ বিলে সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছ সরবরাহে পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর পরিপালন সহজ করতে নির্বাচিত কয়েকটি খাতে ভ্যাট ব্যবস্থার কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের বাধ্যবাধকতাও শিথিল করা হয়েছে।

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে সংশোধিত অর্থ বিল-২০২৬ পাস
সিজেডএন ডেস্ক

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করে অর্থ বিল-২০২৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।
সোমবার (২৯ জুন) সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
বাজেটের ওপর আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাবে পরিবর্তন আনেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্নির্ধারণ।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এ সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করা হবে।
এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে মৌজা মূল্য দেখিয়ে নিবন্ধন করার কারণে করদাতাদের সম্ভাব্য জটিলতা থেকে সুরক্ষা দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই কারণে আরও দুটি প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশন ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার বিধান।
উচ্চশিক্ষা খাতকে উৎসাহ দিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা এবং সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকবে।
রপ্তানিমুখী চিংড়ি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ উপাদান, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শিল্পে বহুল ব্যবহৃত পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল শিল্পে ব্যবহৃত কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আমদানি করা ফায়ার ব্রিকের ওপর আরোপের প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম করও বাতিল করা হয়েছে।
দেশীয় কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সহায়তা দিতে অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এলইডি বাতি এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবন তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থপ্রদানের সংস্কৃতি উৎসাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে বিদেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদানের প্রবণতা কমবে এবং কর পরিপালনের হার বৃদ্ধি পাবে।
সংশোধিত অর্থ বিলে সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছ সরবরাহে পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর পরিপালন সহজ করতে নির্বাচিত কয়েকটি খাতে ভ্যাট ব্যবস্থার কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের বাধ্যবাধকতাও শিথিল করা হয়েছে।




