আজ হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষা, মেঘ আর বৃষ্টির সঙ্গে যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ছিল কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের। তার সৃষ্টিকর্মের নামগুলোই সেই ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে- শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, আকাশজোড়া মেঘ, মেঘ বলেছে যাব যাব, এই মেঘ রৌদ্রছায়া, বৃষ্টিবিলাস, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, মেঘের ওপর বাড়ি কিংবা মেঘের ছায়া। প্রকৃতির এই বর্ষামুখর আবহই যেন তার সাহিত্যজগতের এক অনন্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছিল। আর সেই শ্রাবণ মাসেই, ১৯ জুলাই, তিনি পাড়ি জমান অনন্তের পথে। তবে মৃত্যু তাকে পাঠকের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি; তার গল্প-উপন্যাসের পাতায়, নাটক-চলচ্চিত্রে এবং সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি আজও সমানভাবে জীবন্ত।
আজ ১৯ জুলাই দেশের জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে তার সমাধিস্থল গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন।
লেখকের দীর্ঘদিনের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘অন্যপ্রকাশ’-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত এবং শিশুদের মাঝে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় খাবার বিতরণ। পাশাপাশি ‘অন্যপ্রকাশ’ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘অন্যপ্রকাশ’ ফেসবুক গ্রুপে আয়োজন করা হয়েছে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণোৎসব’, যেখানে কুইজ, শর্ট ভিডিও নির্মাণ ও শ্যাডো রাইটিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় অর্ধ লাখ টাকার বই পুরস্কার।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানেও স্মরণমূলক আয়োজন হয়েছে।
চট্টগ্রামের স্কেচ গ্যালারি নন্দনে আজ সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে তার উপন্যাস অবলম্বনে নাটক সাজঘর। অন্যদিকে, তার জন্মভূমি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে সকাল থেকেই শুরু হবে বিশেষ কর্মসূচি। বিদ্যালয়ের উদ্যোগে কোরআন খতম, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র্যালি, প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া, বৃক্ষরোপণ, কুইজ, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দেয়ালিকা প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রিয় লেখককে স্মরণ করবে।
এ ছাড়া বিকেলে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবে সাহিত্য সংগঠন ‘চর্চা সাহিত্য আড্ডা’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, দোয়া, হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে পাঠ এবং তার রচিত গানের পরিবেশনা। হিমু পরিবহনের একটি প্রতিনিধিদলও নুহাশ পল্লীতে গিয়ে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে।
কবি ও সংগঠক রইস মনরম জানিয়েছেন, লেখকের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত মামার বাড়িতে এবার বড় পরিসরের কোনো আয়োজন নেই, যদিও স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান এবং মা আয়েশা ফয়েজ। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত নন্দিত নরকে উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর শঙ্খনীল কারাগার তাকে একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তী চার দশকে তিনি সহজ-সরল ভাষা, জীবন্ত চরিত্র এবং রহস্যময় কাহিনির বুননে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন।
তার সৃষ্ট ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’ ও ‘রূপা’ চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে আজও পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক।
কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন হুমায়ূন আহমেদ। পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে শিক্ষকতার পেশা ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্যচর্চা এবং নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন।
সৃষ্টিশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি। তবে তার সৃষ্টি, চরিত্র এবং শব্দের জাদু আজও তাকে কোটি পাঠকের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।

বর্ষা, মেঘ আর বৃষ্টির সঙ্গে যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ছিল কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের। তার সৃষ্টিকর্মের নামগুলোই সেই ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে- শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, আকাশজোড়া মেঘ, মেঘ বলেছে যাব যাব, এই মেঘ রৌদ্রছায়া, বৃষ্টিবিলাস, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, মেঘের ওপর বাড়ি কিংবা মেঘের ছায়া। প্রকৃতির এই বর্ষামুখর আবহই যেন তার সাহিত্যজগতের এক অনন্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছিল। আর সেই শ্রাবণ মাসেই, ১৯ জুলাই, তিনি পাড়ি জমান অনন্তের পথে। তবে মৃত্যু তাকে পাঠকের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি; তার গল্প-উপন্যাসের পাতায়, নাটক-চলচ্চিত্রে এবং সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি আজও সমানভাবে জীবন্ত।
আজ ১৯ জুলাই দেশের জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে তার সমাধিস্থল গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন।
লেখকের দীর্ঘদিনের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘অন্যপ্রকাশ’-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত এবং শিশুদের মাঝে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় খাবার বিতরণ। পাশাপাশি ‘অন্যপ্রকাশ’ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘অন্যপ্রকাশ’ ফেসবুক গ্রুপে আয়োজন করা হয়েছে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণোৎসব’, যেখানে কুইজ, শর্ট ভিডিও নির্মাণ ও শ্যাডো রাইটিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় অর্ধ লাখ টাকার বই পুরস্কার।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানেও স্মরণমূলক আয়োজন হয়েছে।
চট্টগ্রামের স্কেচ গ্যালারি নন্দনে আজ সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে তার উপন্যাস অবলম্বনে নাটক সাজঘর। অন্যদিকে, তার জন্মভূমি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে সকাল থেকেই শুরু হবে বিশেষ কর্মসূচি। বিদ্যালয়ের উদ্যোগে কোরআন খতম, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র্যালি, প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া, বৃক্ষরোপণ, কুইজ, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দেয়ালিকা প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রিয় লেখককে স্মরণ করবে।
এ ছাড়া বিকেলে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবে সাহিত্য সংগঠন ‘চর্চা সাহিত্য আড্ডা’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, দোয়া, হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে পাঠ এবং তার রচিত গানের পরিবেশনা। হিমু পরিবহনের একটি প্রতিনিধিদলও নুহাশ পল্লীতে গিয়ে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে।
কবি ও সংগঠক রইস মনরম জানিয়েছেন, লেখকের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত মামার বাড়িতে এবার বড় পরিসরের কোনো আয়োজন নেই, যদিও স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান এবং মা আয়েশা ফয়েজ। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত নন্দিত নরকে উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর শঙ্খনীল কারাগার তাকে একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তী চার দশকে তিনি সহজ-সরল ভাষা, জীবন্ত চরিত্র এবং রহস্যময় কাহিনির বুননে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন।
তার সৃষ্ট ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’ ও ‘রূপা’ চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে আজও পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক।
কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন হুমায়ূন আহমেদ। পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে শিক্ষকতার পেশা ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্যচর্চা এবং নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন।
সৃষ্টিশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি। তবে তার সৃষ্টি, চরিত্র এবং শব্দের জাদু আজও তাকে কোটি পাঠকের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।

আজ হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষা, মেঘ আর বৃষ্টির সঙ্গে যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ছিল কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের। তার সৃষ্টিকর্মের নামগুলোই সেই ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে- শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, আকাশজোড়া মেঘ, মেঘ বলেছে যাব যাব, এই মেঘ রৌদ্রছায়া, বৃষ্টিবিলাস, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, মেঘের ওপর বাড়ি কিংবা মেঘের ছায়া। প্রকৃতির এই বর্ষামুখর আবহই যেন তার সাহিত্যজগতের এক অনন্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছিল। আর সেই শ্রাবণ মাসেই, ১৯ জুলাই, তিনি পাড়ি জমান অনন্তের পথে। তবে মৃত্যু তাকে পাঠকের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি; তার গল্প-উপন্যাসের পাতায়, নাটক-চলচ্চিত্রে এবং সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি আজও সমানভাবে জীবন্ত।
আজ ১৯ জুলাই দেশের জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে তার সমাধিস্থল গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন।
লেখকের দীর্ঘদিনের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘অন্যপ্রকাশ’-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত এবং শিশুদের মাঝে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় খাবার বিতরণ। পাশাপাশি ‘অন্যপ্রকাশ’ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘অন্যপ্রকাশ’ ফেসবুক গ্রুপে আয়োজন করা হয়েছে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণোৎসব’, যেখানে কুইজ, শর্ট ভিডিও নির্মাণ ও শ্যাডো রাইটিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় অর্ধ লাখ টাকার বই পুরস্কার।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানেও স্মরণমূলক আয়োজন হয়েছে।
চট্টগ্রামের স্কেচ গ্যালারি নন্দনে আজ সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে তার উপন্যাস অবলম্বনে নাটক সাজঘর। অন্যদিকে, তার জন্মভূমি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে সকাল থেকেই শুরু হবে বিশেষ কর্মসূচি। বিদ্যালয়ের উদ্যোগে কোরআন খতম, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র্যালি, প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া, বৃক্ষরোপণ, কুইজ, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দেয়ালিকা প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রিয় লেখককে স্মরণ করবে।
এ ছাড়া বিকেলে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবে সাহিত্য সংগঠন ‘চর্চা সাহিত্য আড্ডা’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, দোয়া, হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে পাঠ এবং তার রচিত গানের পরিবেশনা। হিমু পরিবহনের একটি প্রতিনিধিদলও নুহাশ পল্লীতে গিয়ে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে।
কবি ও সংগঠক রইস মনরম জানিয়েছেন, লেখকের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত মামার বাড়িতে এবার বড় পরিসরের কোনো আয়োজন নেই, যদিও স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান এবং মা আয়েশা ফয়েজ। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত নন্দিত নরকে উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর শঙ্খনীল কারাগার তাকে একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তী চার দশকে তিনি সহজ-সরল ভাষা, জীবন্ত চরিত্র এবং রহস্যময় কাহিনির বুননে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন।
তার সৃষ্ট ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’ ও ‘রূপা’ চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে আজও পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক।
কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন হুমায়ূন আহমেদ। পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে শিক্ষকতার পেশা ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্যচর্চা এবং নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন।
সৃষ্টিশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি। তবে তার সৃষ্টি, চরিত্র এবং শব্দের জাদু আজও তাকে কোটি পাঠকের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।

সাংবাদিক শাহেদ কামাল মারা গেছেন







