শিরোনাম

খাল খননে বাড়বে কর্মসংস্থান: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
খাল খননে বাড়বে কর্মসংস্থান: পানিসম্পদমন্ত্রী
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এ সেমিনারের আয়োজন করেছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। আজ জনগণের সরকার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তারপরও প্রথমদিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য তিনি নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে যাবেন বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর এদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এই নির্বাচনের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি, গুম-খুনের শিকার হয়েছি, কারাভোগও করেছি। এতো অত্যাচারিত হয়েও আমাদের কেউ থামিয়ে রাখতে পারেনি। আজ সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংসদের বিরোধী দলের উদ্দেশে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার যে আচরণ এদেশের মানুষের সঙ্গে করেছিল, বিরোধী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে করেছিল, সেই আচরণ করার আর কোনো সুযোগ নেই। কারণ একটা গণতান্ত্রিক দেশে যদি কোনো সমাধানের দিকে যেতে হয় তাহলে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করেই যেতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর উল্লেখযোগ্য গণমানুষের সরকার ছিল ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার। তিনি সেই সময় কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিলেন। আজ তারই সন্তান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করছেন তিনি। আমরা জানি না এই যুদ্ধ কবে নাগাদ থামবে।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই টিকে আছে। মেঘনা নদী থেকে ৮-৯ কিলোমিটার দূরে আমার জেলা লক্ষ্মীপুর। মেঘনা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায় বসবাস করি। ঝড়-তুফান, বন্যা-বর্ষা-প্লাবন সব দেখে অভ্যস্ত। এর জন্য আমাদের কোনো পুঁথিগত বিদ্যার প্রয়োজন হয়নি। আজকে আল্লাহর হুকুমে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার দায়িত্ব আমাদের ওপর এসে পড়েছে। এটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, আমরা খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারব না। এটা একটা অংশ। কিন্তু পুরোপুরিভাবে এই পরিস্থিতিতে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হলে সারফেস ওয়াটারের দিকে নজর দিতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, আমরা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেদিকে জোর দিয়েছি। এটাকে বিপ্লব আকারে নিয়ে যেতে হবে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সেচকাজে ব্যবহার হবে। তাতে ফসল উৎপাদন বাড়বে, মাছ চাষ হবে। খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করে আমরা আরেকটা বিপ্লবে রূপান্তর করতে পারব। এর ফলে প্রকৃতিকে দিয়েই প্রকৃতিকে মোকাবিলা করা যাবে। খাল খনন কর্মসূচির ফলে কর্মসংস্থান হবে, পরিবেশের ভারসাম্য আসবে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। এর জন্য সবচেয়ে কঠিন বিপদে পড়বে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা। বর্তমানে যে পরিস্থিতি আছে তা চলতে থাকলে ৫০ বছর পরে উপকূলের অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাবে। আমরা যদি খাল খনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃতিকে মোকাবিলা না করি, তাহলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বসবাস করার মতো কোনো জায়গা খুঁজে পাবে না।

/এসবি/