ভালো রড চিনবেন কীভাবে, কোন ভবনে কোনটি ব্যবহার করবেন?

ভালো রড চিনবেন কীভাবে, কোন ভবনে কোনটি ব্যবহার করবেন?
সিজেডএন ডেস্ক

একটি ভবনের মূল ভার বহন করে এর রডের কাঠামো। এজন্য রডকে ভবনের ‘মেরুদণ্ড’ বলা হয়ে থাকে। নিম্নমানের রড ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্পে ভবনের ঝুঁকির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। পক্ষান্তরে, সঠিক মানের রডের সঙ্গে কংক্রিটের মজবুত বন্ধনই একটি স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ রাখে। তাই বাড়ি নির্মাণের আগে সঠিক রড নির্বাচন ও এর মান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
কোন ভবনে কোন সাইজের ও গ্রেডের রড ব্যবহার করবেন?
স্থাপনার স্ট্রাকচারাল ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী রডের আকার ও গ্রেড নির্ধারিত হয়।
সাইজ বা ব্যাস: সাধারণ বাসা-বাড়ি ও আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ৮, ১০, ১২, ১৬ এবং ২০ মিলিমিটার ব্যাসের রড ব্যবহার করা হয়। তবে বহুতল ভবন, ফ্লাইওভার কিংবা সেতুর মতো বড় প্রকল্পে ২৫, ৩২ ও ৪০ মিলিমিটারের ভারী রড ব্যবহৃত হয়।
গ্রেড নির্বাচন: বাজারে সাধারণত ৪০, ৬০ এবং ৭২.৫ (500W TMT Bar) গ্রেডের রড পাওয়া যায়।
৪০ গ্রেড: এটি এখন আর নির্মাণকাজে তেমন ব্যবহৃত হয় না।
৬০ গ্রেড: সাধারণ বাসা-বাড়ি ও মাঝারি ভবনের পাইলিং, স্ল্যাব, বিম বা কলাম তৈরিতে এটি বহুল ব্যবহৃত।
৭২.৫ (500W) গ্রেড: বহুতল ভবন ও বড় কাঠামোর জন্য এটি এক্সট্রিম বা উচ্চ মানসম্পন্ন রড। ভূমিকম্প প্রতিরোধে এই গ্রেডের টিএমটি ( থার্মো মেকানিক্যাল ট্রিয়েটেড) রড এখন প্রকৌশলীদের প্রথম পছন্দ।
ভালো রড চেনার ও যাচাইয়ের সহজ উপায়
১. ডিফর্মড বা খাঁজকাটা রড: মসৃণ বা প্লেইন রডের চেয়ে খাঁজকাটা রড কংক্রিটের সঙ্গে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মজবুত বন্ধন তৈরি করে।
২. ব্র্যান্ড ও টেক্সট মার্ক: মানসম্মত রডের গায়ে ব্র্যান্ডের নাম, সাইজ (যেমন: 16mm) এবং গ্রেড বা মেগাপ্যাসকেল স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, 500W লেখা থাকলে বুঝতে হবে এর শক্তি ৫০০ মেগাপ্যাসকেল বা প্রায় ৭২.৫ কেএসআই (গ্রেড)। এখানে ‘W’ অর্থ এটি সহজেই ঝালাই বা ওয়েল্ডিংযোগ্য।
৩. নমনীয়তা ও বেন্ড টেস্ট: ভালো মানের রডকে ৯০ থেকে ১৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো এবং পুনরায় সোজা করা যায়। সোজা করার পর রডের গায়ে কোনো ফাটল বা ক্র্যাক দেখা দেবে না।
৪. অনুমোদন ও সার্টিফিকেট: রড কেনার আগে বিএসটিআই অনুমোদিত সিল এবং বুয়েট বা কোনো স্বীকৃত পরীক্ষাগারের টেস্ট সার্টিফিকেট আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।
৫. জং ও মরিচামুক্ত: ভালো রডের গায়ে কোনো ফাটল থাকবে না এবং এটি মরিচামুক্ত থাকবে।
ভালো রডের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী
উচ্চ নমনীয়তা: আধুনিক কোয়েঞ্চিং অ্যান্ড টেম্পারিং প্রক্রিয়ায় তৈরি কম কার্বনযুক্ত রডে ডাক্টিলিটি বেশি থাকে। এটি সহজে ভেঙে না গিয়ে কংক্রিটে ফাটল ধরা থেকে রক্ষা করে।
ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা: সঠিক তাপ-যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত রডে ক্ষতিকারক স্ট্রেস থাকে না, ফলে এতে সহজে জং ধরে না বা ক্ষয় হয় না।
সহজ ঝালাইযোগ্যতা: কম কার্বনযুক্ত রড সহজে বাট বা ল্যাপ ওয়েল্ডিং করা যায় এবং ঝালাইয়ের পর ঠান্ডা হলে এটি বেঁকে বা ভঙ্গুর হয়ে যায় না।
নির্মাণসাইটে রড সংরক্ষণের নিয়মাবলী
* রড সবসময় শুকনা ও উঁচু স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে মাটির আর্দ্রতা না লাগে।
* খোলা স্থানে এক মাসের বেশি রড রাখা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন রাখতে হলে সিমেন্টের পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা যেতে পারে।
* সামান্য মরিচা পড়লে ব্যবহারের আগে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
কয়েকটি প্রশ্নোত্তর
রড বা লোহা কি?
উওর: Cast iron এবং Wrought iron এর মধ্যবর্তী অবস্হাকে রড বা লোহা বলে।
রিইনফোর্সমেন্ট শব্দের অর্থ কি?
উওর: শক্তিশালী বা জোরদার
কংক্রিট স্টিল কতভাবে ব্যবহার করা হয়?
উওর: ২ ভাগে (রিইনফোর্সিং,প্রি-স্ট্রেসিং স্টিল)
মসৃণতার উপর ভিওি করে রডকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
উওর: ২ ভাগে(মসৃণ ও অমসৃণ)
R.c.c কাজে রিইনফোর্সমেন্ট হিসাবে কি কি স্টিল ব্যবহার করা হয়?
উওর: প্লেইন,ডিফর্মড,টুইস্টেড,স্কোয়ার বার
বিল্ডিং এর হাড় বা বোন কাকে বলে?
উওর: রডকে
কার্বনের উপর ভিওি করে স্টিল কত প্রকার?
উওর: ২ ভাগে( মাইল্ড, স্টেইনলেস স্টিল)
নিমার্ণ কাজে রড ব্যবহার করা হয় কেন?
উওর: টেনসাইল স্ট্রেস সুরক্ষা করার জন্য
ভবন তৈরীতে ও বহুতল ভবন তৈরীতে কোন গ্রেডের রড ব্যবহার করা হয়?
উওর: ৬০ ও ৭২.৫ গ্রেড
16 mm ব্যাসের 50 m রডের ওজন কত?
উওর:
w=d^2/162.2*L
16*16/162.2*50
=78.91 kg
ডির্ফম বা টুইস্টেড বার কাকে বলা হয়?
উওর: অমসৃণ পৃষ্ঠদেশ বিশিষ্ট বার সমূহকে ডিফর্মড বা টুইস্টেড বার বলা হয়
এক সুতা সমান কত মিলিমিটার?
উওর: ২৫.৪/৮=৩.১৭৫~৩.২ মি.মি
১৪. বিলেট ও স্ক্যাপ স্টিল বলতে কি বুঝায়?
উওর: যে স্টীল আকরিকের লোহা হতে তৈরী করা হয় তাকে বিলেট স্টিল বলে।
যে স্টীল অবাঞ্চিত লোহা টুকরা গালিয়ে তৈরী করা হয়,তাকে স্ক্যাপ স্টীল বলে।
M.s বার চেয়ে ডিফর্ম বারে বন্ধন শক্তি কত % বেশি?
উওর: ৪০-৮০%

একটি ভবনের মূল ভার বহন করে এর রডের কাঠামো। এজন্য রডকে ভবনের ‘মেরুদণ্ড’ বলা হয়ে থাকে। নিম্নমানের রড ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্পে ভবনের ঝুঁকির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। পক্ষান্তরে, সঠিক মানের রডের সঙ্গে কংক্রিটের মজবুত বন্ধনই একটি স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ রাখে। তাই বাড়ি নির্মাণের আগে সঠিক রড নির্বাচন ও এর মান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
কোন ভবনে কোন সাইজের ও গ্রেডের রড ব্যবহার করবেন?
স্থাপনার স্ট্রাকচারাল ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী রডের আকার ও গ্রেড নির্ধারিত হয়।
সাইজ বা ব্যাস: সাধারণ বাসা-বাড়ি ও আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ৮, ১০, ১২, ১৬ এবং ২০ মিলিমিটার ব্যাসের রড ব্যবহার করা হয়। তবে বহুতল ভবন, ফ্লাইওভার কিংবা সেতুর মতো বড় প্রকল্পে ২৫, ৩২ ও ৪০ মিলিমিটারের ভারী রড ব্যবহৃত হয়।
গ্রেড নির্বাচন: বাজারে সাধারণত ৪০, ৬০ এবং ৭২.৫ (500W TMT Bar) গ্রেডের রড পাওয়া যায়।
৪০ গ্রেড: এটি এখন আর নির্মাণকাজে তেমন ব্যবহৃত হয় না।
৬০ গ্রেড: সাধারণ বাসা-বাড়ি ও মাঝারি ভবনের পাইলিং, স্ল্যাব, বিম বা কলাম তৈরিতে এটি বহুল ব্যবহৃত।
৭২.৫ (500W) গ্রেড: বহুতল ভবন ও বড় কাঠামোর জন্য এটি এক্সট্রিম বা উচ্চ মানসম্পন্ন রড। ভূমিকম্প প্রতিরোধে এই গ্রেডের টিএমটি ( থার্মো মেকানিক্যাল ট্রিয়েটেড) রড এখন প্রকৌশলীদের প্রথম পছন্দ।
ভালো রড চেনার ও যাচাইয়ের সহজ উপায়
১. ডিফর্মড বা খাঁজকাটা রড: মসৃণ বা প্লেইন রডের চেয়ে খাঁজকাটা রড কংক্রিটের সঙ্গে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মজবুত বন্ধন তৈরি করে।
২. ব্র্যান্ড ও টেক্সট মার্ক: মানসম্মত রডের গায়ে ব্র্যান্ডের নাম, সাইজ (যেমন: 16mm) এবং গ্রেড বা মেগাপ্যাসকেল স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, 500W লেখা থাকলে বুঝতে হবে এর শক্তি ৫০০ মেগাপ্যাসকেল বা প্রায় ৭২.৫ কেএসআই (গ্রেড)। এখানে ‘W’ অর্থ এটি সহজেই ঝালাই বা ওয়েল্ডিংযোগ্য।
৩. নমনীয়তা ও বেন্ড টেস্ট: ভালো মানের রডকে ৯০ থেকে ১৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো এবং পুনরায় সোজা করা যায়। সোজা করার পর রডের গায়ে কোনো ফাটল বা ক্র্যাক দেখা দেবে না।
৪. অনুমোদন ও সার্টিফিকেট: রড কেনার আগে বিএসটিআই অনুমোদিত সিল এবং বুয়েট বা কোনো স্বীকৃত পরীক্ষাগারের টেস্ট সার্টিফিকেট আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।
৫. জং ও মরিচামুক্ত: ভালো রডের গায়ে কোনো ফাটল থাকবে না এবং এটি মরিচামুক্ত থাকবে।
ভালো রডের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী
উচ্চ নমনীয়তা: আধুনিক কোয়েঞ্চিং অ্যান্ড টেম্পারিং প্রক্রিয়ায় তৈরি কম কার্বনযুক্ত রডে ডাক্টিলিটি বেশি থাকে। এটি সহজে ভেঙে না গিয়ে কংক্রিটে ফাটল ধরা থেকে রক্ষা করে।
ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা: সঠিক তাপ-যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত রডে ক্ষতিকারক স্ট্রেস থাকে না, ফলে এতে সহজে জং ধরে না বা ক্ষয় হয় না।
সহজ ঝালাইযোগ্যতা: কম কার্বনযুক্ত রড সহজে বাট বা ল্যাপ ওয়েল্ডিং করা যায় এবং ঝালাইয়ের পর ঠান্ডা হলে এটি বেঁকে বা ভঙ্গুর হয়ে যায় না।
নির্মাণসাইটে রড সংরক্ষণের নিয়মাবলী
* রড সবসময় শুকনা ও উঁচু স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে মাটির আর্দ্রতা না লাগে।
* খোলা স্থানে এক মাসের বেশি রড রাখা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন রাখতে হলে সিমেন্টের পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা যেতে পারে।
* সামান্য মরিচা পড়লে ব্যবহারের আগে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
কয়েকটি প্রশ্নোত্তর
রড বা লোহা কি?
উওর: Cast iron এবং Wrought iron এর মধ্যবর্তী অবস্হাকে রড বা লোহা বলে।
রিইনফোর্সমেন্ট শব্দের অর্থ কি?
উওর: শক্তিশালী বা জোরদার
কংক্রিট স্টিল কতভাবে ব্যবহার করা হয়?
উওর: ২ ভাগে (রিইনফোর্সিং,প্রি-স্ট্রেসিং স্টিল)
মসৃণতার উপর ভিওি করে রডকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
উওর: ২ ভাগে(মসৃণ ও অমসৃণ)
R.c.c কাজে রিইনফোর্সমেন্ট হিসাবে কি কি স্টিল ব্যবহার করা হয়?
উওর: প্লেইন,ডিফর্মড,টুইস্টেড,স্কোয়ার বার
বিল্ডিং এর হাড় বা বোন কাকে বলে?
উওর: রডকে
কার্বনের উপর ভিওি করে স্টিল কত প্রকার?
উওর: ২ ভাগে( মাইল্ড, স্টেইনলেস স্টিল)
নিমার্ণ কাজে রড ব্যবহার করা হয় কেন?
উওর: টেনসাইল স্ট্রেস সুরক্ষা করার জন্য
ভবন তৈরীতে ও বহুতল ভবন তৈরীতে কোন গ্রেডের রড ব্যবহার করা হয়?
উওর: ৬০ ও ৭২.৫ গ্রেড
16 mm ব্যাসের 50 m রডের ওজন কত?
উওর:
w=d^2/162.2*L
16*16/162.2*50
=78.91 kg
ডির্ফম বা টুইস্টেড বার কাকে বলা হয়?
উওর: অমসৃণ পৃষ্ঠদেশ বিশিষ্ট বার সমূহকে ডিফর্মড বা টুইস্টেড বার বলা হয়
এক সুতা সমান কত মিলিমিটার?
উওর: ২৫.৪/৮=৩.১৭৫~৩.২ মি.মি
১৪. বিলেট ও স্ক্যাপ স্টিল বলতে কি বুঝায়?
উওর: যে স্টীল আকরিকের লোহা হতে তৈরী করা হয় তাকে বিলেট স্টিল বলে।
যে স্টীল অবাঞ্চিত লোহা টুকরা গালিয়ে তৈরী করা হয়,তাকে স্ক্যাপ স্টীল বলে।
M.s বার চেয়ে ডিফর্ম বারে বন্ধন শক্তি কত % বেশি?
উওর: ৪০-৮০%

ভালো রড চিনবেন কীভাবে, কোন ভবনে কোনটি ব্যবহার করবেন?
সিজেডএন ডেস্ক

একটি ভবনের মূল ভার বহন করে এর রডের কাঠামো। এজন্য রডকে ভবনের ‘মেরুদণ্ড’ বলা হয়ে থাকে। নিম্নমানের রড ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্পে ভবনের ঝুঁকির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। পক্ষান্তরে, সঠিক মানের রডের সঙ্গে কংক্রিটের মজবুত বন্ধনই একটি স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ রাখে। তাই বাড়ি নির্মাণের আগে সঠিক রড নির্বাচন ও এর মান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
কোন ভবনে কোন সাইজের ও গ্রেডের রড ব্যবহার করবেন?
স্থাপনার স্ট্রাকচারাল ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী রডের আকার ও গ্রেড নির্ধারিত হয়।
সাইজ বা ব্যাস: সাধারণ বাসা-বাড়ি ও আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ৮, ১০, ১২, ১৬ এবং ২০ মিলিমিটার ব্যাসের রড ব্যবহার করা হয়। তবে বহুতল ভবন, ফ্লাইওভার কিংবা সেতুর মতো বড় প্রকল্পে ২৫, ৩২ ও ৪০ মিলিমিটারের ভারী রড ব্যবহৃত হয়।
গ্রেড নির্বাচন: বাজারে সাধারণত ৪০, ৬০ এবং ৭২.৫ (500W TMT Bar) গ্রেডের রড পাওয়া যায়।
৪০ গ্রেড: এটি এখন আর নির্মাণকাজে তেমন ব্যবহৃত হয় না।
৬০ গ্রেড: সাধারণ বাসা-বাড়ি ও মাঝারি ভবনের পাইলিং, স্ল্যাব, বিম বা কলাম তৈরিতে এটি বহুল ব্যবহৃত।
৭২.৫ (500W) গ্রেড: বহুতল ভবন ও বড় কাঠামোর জন্য এটি এক্সট্রিম বা উচ্চ মানসম্পন্ন রড। ভূমিকম্প প্রতিরোধে এই গ্রেডের টিএমটি ( থার্মো মেকানিক্যাল ট্রিয়েটেড) রড এখন প্রকৌশলীদের প্রথম পছন্দ।
ভালো রড চেনার ও যাচাইয়ের সহজ উপায়
১. ডিফর্মড বা খাঁজকাটা রড: মসৃণ বা প্লেইন রডের চেয়ে খাঁজকাটা রড কংক্রিটের সঙ্গে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মজবুত বন্ধন তৈরি করে।
২. ব্র্যান্ড ও টেক্সট মার্ক: মানসম্মত রডের গায়ে ব্র্যান্ডের নাম, সাইজ (যেমন: 16mm) এবং গ্রেড বা মেগাপ্যাসকেল স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, 500W লেখা থাকলে বুঝতে হবে এর শক্তি ৫০০ মেগাপ্যাসকেল বা প্রায় ৭২.৫ কেএসআই (গ্রেড)। এখানে ‘W’ অর্থ এটি সহজেই ঝালাই বা ওয়েল্ডিংযোগ্য।
৩. নমনীয়তা ও বেন্ড টেস্ট: ভালো মানের রডকে ৯০ থেকে ১৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো এবং পুনরায় সোজা করা যায়। সোজা করার পর রডের গায়ে কোনো ফাটল বা ক্র্যাক দেখা দেবে না।
৪. অনুমোদন ও সার্টিফিকেট: রড কেনার আগে বিএসটিআই অনুমোদিত সিল এবং বুয়েট বা কোনো স্বীকৃত পরীক্ষাগারের টেস্ট সার্টিফিকেট আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।
৫. জং ও মরিচামুক্ত: ভালো রডের গায়ে কোনো ফাটল থাকবে না এবং এটি মরিচামুক্ত থাকবে।
ভালো রডের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী
উচ্চ নমনীয়তা: আধুনিক কোয়েঞ্চিং অ্যান্ড টেম্পারিং প্রক্রিয়ায় তৈরি কম কার্বনযুক্ত রডে ডাক্টিলিটি বেশি থাকে। এটি সহজে ভেঙে না গিয়ে কংক্রিটে ফাটল ধরা থেকে রক্ষা করে।
ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা: সঠিক তাপ-যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত রডে ক্ষতিকারক স্ট্রেস থাকে না, ফলে এতে সহজে জং ধরে না বা ক্ষয় হয় না।
সহজ ঝালাইযোগ্যতা: কম কার্বনযুক্ত রড সহজে বাট বা ল্যাপ ওয়েল্ডিং করা যায় এবং ঝালাইয়ের পর ঠান্ডা হলে এটি বেঁকে বা ভঙ্গুর হয়ে যায় না।
নির্মাণসাইটে রড সংরক্ষণের নিয়মাবলী
* রড সবসময় শুকনা ও উঁচু স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে মাটির আর্দ্রতা না লাগে।
* খোলা স্থানে এক মাসের বেশি রড রাখা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন রাখতে হলে সিমেন্টের পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা যেতে পারে।
* সামান্য মরিচা পড়লে ব্যবহারের আগে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
কয়েকটি প্রশ্নোত্তর
রড বা লোহা কি?
উওর: Cast iron এবং Wrought iron এর মধ্যবর্তী অবস্হাকে রড বা লোহা বলে।
রিইনফোর্সমেন্ট শব্দের অর্থ কি?
উওর: শক্তিশালী বা জোরদার
কংক্রিট স্টিল কতভাবে ব্যবহার করা হয়?
উওর: ২ ভাগে (রিইনফোর্সিং,প্রি-স্ট্রেসিং স্টিল)
মসৃণতার উপর ভিওি করে রডকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
উওর: ২ ভাগে(মসৃণ ও অমসৃণ)
R.c.c কাজে রিইনফোর্সমেন্ট হিসাবে কি কি স্টিল ব্যবহার করা হয়?
উওর: প্লেইন,ডিফর্মড,টুইস্টেড,স্কোয়ার বার
বিল্ডিং এর হাড় বা বোন কাকে বলে?
উওর: রডকে
কার্বনের উপর ভিওি করে স্টিল কত প্রকার?
উওর: ২ ভাগে( মাইল্ড, স্টেইনলেস স্টিল)
নিমার্ণ কাজে রড ব্যবহার করা হয় কেন?
উওর: টেনসাইল স্ট্রেস সুরক্ষা করার জন্য
ভবন তৈরীতে ও বহুতল ভবন তৈরীতে কোন গ্রেডের রড ব্যবহার করা হয়?
উওর: ৬০ ও ৭২.৫ গ্রেড
16 mm ব্যাসের 50 m রডের ওজন কত?
উওর:
w=d^2/162.2*L
16*16/162.2*50
=78.91 kg
ডির্ফম বা টুইস্টেড বার কাকে বলা হয়?
উওর: অমসৃণ পৃষ্ঠদেশ বিশিষ্ট বার সমূহকে ডিফর্মড বা টুইস্টেড বার বলা হয়
এক সুতা সমান কত মিলিমিটার?
উওর: ২৫.৪/৮=৩.১৭৫~৩.২ মি.মি
১৪. বিলেট ও স্ক্যাপ স্টিল বলতে কি বুঝায়?
উওর: যে স্টীল আকরিকের লোহা হতে তৈরী করা হয় তাকে বিলেট স্টিল বলে।
যে স্টীল অবাঞ্চিত লোহা টুকরা গালিয়ে তৈরী করা হয়,তাকে স্ক্যাপ স্টীল বলে।
M.s বার চেয়ে ডিফর্ম বারে বন্ধন শক্তি কত % বেশি?
উওর: ৪০-৮০%









