শিরোনাম

ইসলামি আইনে বিক্ষোভের কোনো স্থান নেই, দাবি তালেবান সরকারের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইসলামি আইনে বিক্ষোভের কোনো স্থান নেই, দাবি তালেবান সরকারের
নারী অধিকারের দাবিতে এক বিক্ষোভে আফগান নারীরা ওতালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ (ইনসেটে)

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তুমুল সমালোচনার মুখেও আফগানিস্তানে সব ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন জানিয়েছে তালেবান সরকার। আফগান প্রশাসনের দাবি, এ নির্দেশ স্বাভাবিক শাসনব্যবস্থার অংশ এবং তা সম্পূর্ণভাবে ইসলামি শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই আইনটি পুরোপুরি ইসলামি শরিয়াহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ধারণাকে গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্রের মতো ভিন্ন ধারার শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ মুখপাত্র বলেন, ইসলামি আইনে বিক্ষোভের কোনো স্থান নেই। পাশাপাশি রাস্তায় নেমে এ ধরনের কর্মসূচি পালন মানুষের সময়ের অপচয় ঘটায় এবং ব্যক্তিগত ধন-সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ায় বলেও জানান তিনি।

তালেবান দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আফগানিস্তানে যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে আসে। এর ওপর গত মাসে নতুন নিয়ম জারি করে প্রশাসন, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দার ঝড় ওঠে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ সিদ্ধান্তটির কড়া সমালোচনা করে একে ‘ভিন্নমত দমনে তালেবানের নিষ্ঠুর প্রচেষ্টার আরেকটি পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, তালেবান সরকারের নেওয়া এসব আইনি পরিবর্তনকে ‘আফগানিস্তানে মানবাধিকারের ওপর আরেকটি বড় ধরনের আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে নতুন বিধিমালার ‘অন্যতম জঘন্য বিধান’ বলেও চিহ্নিত করেছে।

বর্তমানে আফগানিস্তানের রাজপথে প্রতিবাদ সচরাচর দেখা না গেলেও ভিন্নমতের ওপর দমনপীড়নের রেষ রয়ে গেছে। জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারী অধিকারের দাবিতে আয়োজিত একটি রাজপথের সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত দুজন প্রাণ হারান।

সূত্র: ডন

/এমএকে/