শিরোনাম

কখন রাতের খাবার খাবেন

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
কখন রাতের খাবার খাবেন

সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো রাতের খাবার সময়মতো খাওয়া। অনেকেই ব্যস্ততার কারণে গভীর রাতে খাবার খান বা খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু এই অভ্যাস ধীরে ধীরে হজমের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দেন।

সময়ের আগেই রাতের খাবার খেলে অ্যাসিডিটি, বদহজম, বুকজ্বালা ও অস্বস্তির মতো সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস। অন্যদিকে, দেরি করে বা ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে খাবার পাকস্থলীতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, ফলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর এবং অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

চলুন জেনে নি, তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খাওয়ার কিছু উপকারিতা-

১. আগেভাগে রাতের খাবার খাওয়ার আরেকটি বড় সুবিধা হলো ঘুমানোর আগে কিছুটা সময় হাঁটা বা হালকা শারীরিক নড়াচড়া করার সুযোগ পাওয়া যায়। এতে খাবার সহজে হজম হয় এবং রাতে আরামদায়ক ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

২. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জৈবিক ঘড়িকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত একই সময়ে খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং গভীর রাতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়।

৩. খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিছানায় চলে গেলে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এতে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না। তাই রাতের খাবারের পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিরতি রেখে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে অনেক দেরিতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস ঘুমের গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে। কারণ তখন শরীর একই সঙ্গে খাবার হজম ও বিশ্রামের কাজ সামলাতে বাধ্য হয়। ফলে ঘুম ভেঙে যাওয়া, অস্বস্তি বা পরদিন ক্লান্তি অনুভব করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অভ্যাস বজায় থাকলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া গভীর রাতে খাবার গ্রহণ রক্তে শর্করার মাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেরিতে খাওয়ার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যা করবেন

১. নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন: রাতের খাবার কখন শেষ করবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করুন। আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপন, কাজের সময় এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিল রেখে এমন একটি সময় বেছে নিন, যা নিয়মিত অনুসরণ করা সম্ভব।

২. আগেভাগে পরিকল্পনা করুন: সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাবারের সময়সূচি আগে থেকেই ঠিক করুন এবং দিনের শেষ খাবারটি যেন পুষ্টিকর, পরিমিত ও তৃপ্তিদায়ক হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। এতে রাত জেগে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যাবে।

/এসবি/