শিরোনাম

‘দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড’ খ্যাত কাফ মাসল সুস্থ রাখার ৫ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক
‘দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড’ খ্যাত কাফ মাসল সুস্থ রাখার ৫ উপায়
কাফ মাসল। ছবি: সংগৃহীত

মানবদেহে হৃদপিণ্ডের গুরুত্ব আমরা সবাই জানি, কিন্তু শরীরে যে আরও একটি ‘দ্বিতীয় হার্ট’ রয়েছে—তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আমাদের পায়ের পেছনের পেশি বা ‘কাফ মাসল’কে শরীরের দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড বলা হয়।

মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে পায়ের নিচ থেকে রক্তকে পুনরায় ওপরে হৃদপিণ্ডে পাম্প করে পাঠাতে এই পেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাফ মাসল দুর্বল হয়ে পড়লে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, ফলে পায় ফোলা ভাব, শিরায় টান ধরা কিংবা সহজেই ক্লান্তি আসার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই সামগ্রিক সুস্থতায় এই ‘দ্বিতীয় হার্ট’-এর যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পায়ের কাফ মাসল সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার ৫টি কার্যকর উপায়-

১. নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম

পায়ের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে কাফ মাসলের সক্রিয়তা বাড়ে। এছাড়া পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো, স্কোয়াট ও নিয়মিত স্ট্রেচিং করলে এই পেশি মজবুত হয়।

২. পর্যাপ্ত পানি পান

পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে পানি অপরিহার্য। শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হলে কাফ মাসলে টান ধরা বা তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইটযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত।

৩. দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে না থাকা

টানা অনেকক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ে রক্ত জমে কাফ মাসলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অফিসে বা কাজের মাঝে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর অন্তত ২-৩ মিনিটের জন্য হেঁটে আসুন বা পায়ের পাতা নাড়াচাড়া করুন।

৪. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ

পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। কলা, শাকসবজি, বাদাম, দুধ ও ডিম কাফ মাসলের ক্র্যাম্প বা টান ধরা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

৫. পা উঁচুতে রাখা ও মেসেজ করা

সারাদিনের পরিশ্রমের পর রাতে ঘুমানোর সময় পায়ের নিচে একটি পাতলা বালিশ দিয়ে পা কিছুটা উঁচুতে রাখতে পারেন। এতে পায়ে জমে থাকা রক্ত সহজে হৃদপিণ্ডে ফিরে যেতে পারে। এছাড়া হালকা গরম তেল দিয়ে কাফ মাসলে মালিশ করলে পেশির ক্লান্তি দূর হয় ও রক্ত চলাচল বাড়ে।

/এবি/