
একান্ত সাক্ষাৎকার: ফরিদা খানম
ভূমি অফিসে আমরা নিজেরাই হয়রানির শিকার হই, অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা
ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফরিদা খানম। ঢাকা জেলার ২৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ডিসি তিনি। ঢাকাকে সুন্দর জেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে কথা বলেছেন ফরিদা খানম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি আয়নাল হোসেন।

ভূমি অফিসে আমরা নিজেরাই হয়রানির শিকার হই, অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা
আয়নাল হোসেন

সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় আপনার অনুভূতি কি?
ফরিদা খানম: আপনারা জানেন যে, আমি ২৫৪ বছরের ইতিহাসে ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক। তো সংগত কারণেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা আমার জন্য একদিকে যেমন সম্মানের, অন্য দিকে অনেক বেশি দায়িত্বের। আমার কিছু দায়বদ্ধতাও রয়েছে। ঢাকা একটি বহুমাত্রিক সমস্যার জেলা। আবার সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ঢাকা। এই জেলায় নানা ধরনের সম্ভাবনার সঙ্গে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এরকম একটা প্রশাসনিক জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় ভালোই লাগছে।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আগামী এক বছরে এই জেলাকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান?
ফরিদা খানম: আমাদের তো আসলে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করতে হয়। আমার লক্ষ্য একটি জনবান্ধব, হয়রানিমুক্ত এবং স্বচ্ছ জেলা প্রশাসন গড়ে তোলা ।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছেন কী?
ফরিদা খানম: না, স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জকে চাপ হিসেবে দেখছি না, চ্যালেঞ্জটকে একটা কাজ করার সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে জেলা প্রশাসনে কাজ করি। প্রতিটি জেলাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশটা চালাতে চান বা আগামী দিনগুলোতে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাই কিন্তু আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী একটি মেধাভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চান। তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’। এই প্ল্যানটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজের প্ল্যান হিসেবে শেয়ার করেননি, আমাদের নিয়েই তিনি একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চান। এই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সারথি হতে চাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রায় অর্ধশতাধিক কমিটির সভাপতি আপনি। এটা নিয়ে অনেক সময় সচেতন মহলে এক ধরনের সমালোচনা রয়েছে। এই বিষয়টি আসলে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। আমি বলেছি, জেলা প্রশাসক কিন্তু ব্যক্তি না। তিনি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তো এটা রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী কমিটিগুলো করা হয়েছে, এখানে কোনো ব্যক্তিগত ইস্যু নেই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা কালেক্টর—এই তিনটি দায়িত্ব পালনে সুনির্দিষ্টভাবে আপনার কর্মপদ্ধতি কী?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসক যখন এক্সিকিউটিভ দায়িত্বগুলো পালন করেন, তখন তারা জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যখন জেলার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখেন, তখন তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আর আমরা যখন ট্যাক্স কালেকশন করি, রেভিনিউ সাইডটা দেখি তখন জেলা কালেক্টরের দায়িত্ব পালন করি। এগুলোর সমন্বয়েই কিন্তু আমাদের দায়িত্ব। ঢাকা জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা খুব জটিল। এখানে নিয়মিত খাল দখল হচ্ছে, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা আছে। যদিও বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা দেখার জন্য আমাদের সিটি করপোরেশন রয়েছে। তারপরও জেলা প্রশাসক হিসেবে মূলত কোনো দায়িত্বই কিন্তু এড়ানো যাবে না।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ভূমি অফিসগুলোতে এখনো নামজারি কিংবা সেবার ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন হয়, এই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: নামজারিতে হয়রানি বা দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, দুর্ব্যবহার করা, তারপরে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া-এই বিষয়গুলো আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। কখনো কখনো আমরা নিজেরাই এই হয়রানির শিকার হয়েছি। তবে এই বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি । এসব নির্মূ করতে সময় লাগবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। একমাত্র রাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করবে তা না, এটা একটা সমন্বিত উদ্যোগ। আমরা যদি সবাই সচেতন হই, তাহলে এক সময় এই হয়রানি কমে আসবে। জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার টিমে যারা আছে, যারা কাজ করছে, তাদের প্রত্যেককেই বলে দিয়েছি, সংবিধান আমাকে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আর আমরা যারা রাষ্ট্রের কর্মচারী আছি, তারা রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে কাজ করব, শোষক না। যদি এই ধরনের হয়রানি বা এই ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো ইস্যু আপনাদের কাছে আসে বা কোনো অভিযোগ যদি আপনাদের কাছে কখনো পৌঁছায়, ডাইরেক্ট আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসন পরিচালনায় আপনার বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?
ফরিদা খানম: এখানে চ্যালেঞ্জের অভাব নেই। এখানে ভূমি ব্যবস্থাপনা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এরপর রাজস্ব আদায়ও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ ছিল, সেই পরিবেশকে গুছিয়ে আনতেও সময় লাগছে। এখানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, সমস্যা বেশি এবং মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। সবকিছু মানে অনেক জটিল একটা সমীকরণ এই ঢাকা জেলার। তো সবকিছু মিলিয়ে আমরা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং এখানে কী ধরনের অভিযোগ আসছে?
ফরিদা খানম: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের ভেতরে দূরত্ব কমিয়ে আনার চমৎকার একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আগে স্টার্ট করেছি। ইতোমধ্যে ২০৯১ জনকে আমরা সেবা দিয়েছি। ৭৭৮ জনকে আমরা ওভার ফোনে সেবা দিয়েছি। আমরা ধামরাইতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে ২৫ জনকে সেলাই মেশিন দেব আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। আর দুস্থ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ দিচ্ছি এবং প্রত্যেকেই কিন্তু ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে আসছে। এই অ্যাপ আসলে যে এত চমৎকারভাবে সাড়া ফেলবে তা আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের মধ্যে প্রায়ই কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, এর মূল কারণ কি?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসন এবং আমাদের যে জেলা পুলিশ, এরা কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। একজন আরেকজনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। আমি অন্যান্য জেলার কথায় যেতে চাই না। আমি ঢাকা জেলার প্রশাসক হিসেবেই বলছি, আমাদের যিনি পুলিশ সুপার মহোদয়, আপনারা জানেন তিনিও একজন নারী পুলিশ সুপার। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা করছি যাতে রাষ্ট্রের কল্যাণে, রাষ্ট্র বিনির্মাণে মিলেমিশে কাজ করা যায়। তিনি অত্যন্ত হেল্পফুল একজন অফিসার এবং আমরা বিভিন্ন সময় যে অপ্রীতিকর কথাগুলো শুনে থাকি, এই ইস্যুটা আমাদের ঢাকা জেলায় একেবারেই নেই। আমরা রাষ্ট্র বিনির্মাণে বা প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক রাখার জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে আমরা একজন আরেকজনের পরিপূরক হয়ে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আপনি অবসর সময় কীভাবে কাটান?
ফরিদা খানম: অবসর সময়ে আমি ফ্যামিলিকে সময় দিই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার ডিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার। দিন শেষে এসব সামাল দিয়ে আপনি কীভাবে সংসার জীবন এনজয় করছেন?
ফরিদা খানম: আসলে চাকরির বাইরে কিন্তু আমরা একজন নারী। সংগত কারণেই সংসার থাকে, ছেলেমেয়ে থাকে, আত্মীয় থাকে, সমাজ থাকে। তাদেরকে সময় দিতে হয়। ব্যস্ততার কারণে কাউকেই কিন্তু ফেলে দেওয়া যাবে না। আমি যখন অফিসে থাকি তখন কিন্তু আমি একজন প্রশাসক। আবার আমি যখন ঘরে থাকি তখন আমি কখনো মা, কখনো স্ত্রী, কখনো কন্যা। তো যে যে টায়ারে যখন যেটা প্রয়োজন হয়, তখন সেভাবেই সামলাতে হয়।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ফরিদা খানম: আপনাকেও ধন্যবাদ।
একান্ত সাক্ষাৎকার: ফরিদা খানম
ভূমি অফিসে আমরা নিজেরাই হয়রানির শিকার হই, অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা

ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফরিদা খানম। ঢাকা জেলার ২৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ডিসি তিনি। ঢাকাকে সুন্দর জেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে কথা বলেছেন ফরিদা খানম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি আয়নাল হোসেন।

ভূমি অফিসে আমরা নিজেরাই হয়রানির শিকার হই, অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা
আয়নাল হোসেন

সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় আপনার অনুভূতি কি?
ফরিদা খানম: আপনারা জানেন যে, আমি ২৫৪ বছরের ইতিহাসে ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক। তো সংগত কারণেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা আমার জন্য একদিকে যেমন সম্মানের, অন্য দিকে অনেক বেশি দায়িত্বের। আমার কিছু দায়বদ্ধতাও রয়েছে। ঢাকা একটি বহুমাত্রিক সমস্যার জেলা। আবার সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ঢাকা। এই জেলায় নানা ধরনের সম্ভাবনার সঙ্গে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এরকম একটা প্রশাসনিক জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় ভালোই লাগছে।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আগামী এক বছরে এই জেলাকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান?
ফরিদা খানম: আমাদের তো আসলে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করতে হয়। আমার লক্ষ্য একটি জনবান্ধব, হয়রানিমুক্ত এবং স্বচ্ছ জেলা প্রশাসন গড়ে তোলা ।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছেন কী?
ফরিদা খানম: না, স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জকে চাপ হিসেবে দেখছি না, চ্যালেঞ্জটকে একটা কাজ করার সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে জেলা প্রশাসনে কাজ করি। প্রতিটি জেলাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশটা চালাতে চান বা আগামী দিনগুলোতে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাই কিন্তু আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী একটি মেধাভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চান। তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’। এই প্ল্যানটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজের প্ল্যান হিসেবে শেয়ার করেননি, আমাদের নিয়েই তিনি একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চান। এই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সারথি হতে চাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রায় অর্ধশতাধিক কমিটির সভাপতি আপনি। এটা নিয়ে অনেক সময় সচেতন মহলে এক ধরনের সমালোচনা রয়েছে। এই বিষয়টি আসলে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। আমি বলেছি, জেলা প্রশাসক কিন্তু ব্যক্তি না। তিনি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তো এটা রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী কমিটিগুলো করা হয়েছে, এখানে কোনো ব্যক্তিগত ইস্যু নেই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা কালেক্টর—এই তিনটি দায়িত্ব পালনে সুনির্দিষ্টভাবে আপনার কর্মপদ্ধতি কী?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসক যখন এক্সিকিউটিভ দায়িত্বগুলো পালন করেন, তখন তারা জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যখন জেলার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখেন, তখন তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আর আমরা যখন ট্যাক্স কালেকশন করি, রেভিনিউ সাইডটা দেখি তখন জেলা কালেক্টরের দায়িত্ব পালন করি। এগুলোর সমন্বয়েই কিন্তু আমাদের দায়িত্ব। ঢাকা জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা খুব জটিল। এখানে নিয়মিত খাল দখল হচ্ছে, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা আছে। যদিও বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা দেখার জন্য আমাদের সিটি করপোরেশন রয়েছে। তারপরও জেলা প্রশাসক হিসেবে মূলত কোনো দায়িত্বই কিন্তু এড়ানো যাবে না।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ভূমি অফিসগুলোতে এখনো নামজারি কিংবা সেবার ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন হয়, এই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: নামজারিতে হয়রানি বা দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, দুর্ব্যবহার করা, তারপরে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া-এই বিষয়গুলো আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। কখনো কখনো আমরা নিজেরাই এই হয়রানির শিকার হয়েছি। তবে এই বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি । এসব নির্মূ করতে সময় লাগবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। একমাত্র রাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করবে তা না, এটা একটা সমন্বিত উদ্যোগ। আমরা যদি সবাই সচেতন হই, তাহলে এক সময় এই হয়রানি কমে আসবে। জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার টিমে যারা আছে, যারা কাজ করছে, তাদের প্রত্যেককেই বলে দিয়েছি, সংবিধান আমাকে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আর আমরা যারা রাষ্ট্রের কর্মচারী আছি, তারা রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে কাজ করব, শোষক না। যদি এই ধরনের হয়রানি বা এই ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো ইস্যু আপনাদের কাছে আসে বা কোনো অভিযোগ যদি আপনাদের কাছে কখনো পৌঁছায়, ডাইরেক্ট আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসন পরিচালনায় আপনার বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?
ফরিদা খানম: এখানে চ্যালেঞ্জের অভাব নেই। এখানে ভূমি ব্যবস্থাপনা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এরপর রাজস্ব আদায়ও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ ছিল, সেই পরিবেশকে গুছিয়ে আনতেও সময় লাগছে। এখানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, সমস্যা বেশি এবং মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। সবকিছু মানে অনেক জটিল একটা সমীকরণ এই ঢাকা জেলার। তো সবকিছু মিলিয়ে আমরা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং এখানে কী ধরনের অভিযোগ আসছে?
ফরিদা খানম: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের ভেতরে দূরত্ব কমিয়ে আনার চমৎকার একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আগে স্টার্ট করেছি। ইতোমধ্যে ২০৯১ জনকে আমরা সেবা দিয়েছি। ৭৭৮ জনকে আমরা ওভার ফোনে সেবা দিয়েছি। আমরা ধামরাইতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে ২৫ জনকে সেলাই মেশিন দেব আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। আর দুস্থ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ দিচ্ছি এবং প্রত্যেকেই কিন্তু ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে আসছে। এই অ্যাপ আসলে যে এত চমৎকারভাবে সাড়া ফেলবে তা আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের মধ্যে প্রায়ই কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, এর মূল কারণ কি?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসন এবং আমাদের যে জেলা পুলিশ, এরা কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। একজন আরেকজনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। আমি অন্যান্য জেলার কথায় যেতে চাই না। আমি ঢাকা জেলার প্রশাসক হিসেবেই বলছি, আমাদের যিনি পুলিশ সুপার মহোদয়, আপনারা জানেন তিনিও একজন নারী পুলিশ সুপার। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা করছি যাতে রাষ্ট্রের কল্যাণে, রাষ্ট্র বিনির্মাণে মিলেমিশে কাজ করা যায়। তিনি অত্যন্ত হেল্পফুল একজন অফিসার এবং আমরা বিভিন্ন সময় যে অপ্রীতিকর কথাগুলো শুনে থাকি, এই ইস্যুটা আমাদের ঢাকা জেলায় একেবারেই নেই। আমরা রাষ্ট্র বিনির্মাণে বা প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক রাখার জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে আমরা একজন আরেকজনের পরিপূরক হয়ে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আপনি অবসর সময় কীভাবে কাটান?
ফরিদা খানম: অবসর সময়ে আমি ফ্যামিলিকে সময় দিই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার ডিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার। দিন শেষে এসব সামাল দিয়ে আপনি কীভাবে সংসার জীবন এনজয় করছেন?
ফরিদা খানম: আসলে চাকরির বাইরে কিন্তু আমরা একজন নারী। সংগত কারণেই সংসার থাকে, ছেলেমেয়ে থাকে, আত্মীয় থাকে, সমাজ থাকে। তাদেরকে সময় দিতে হয়। ব্যস্ততার কারণে কাউকেই কিন্তু ফেলে দেওয়া যাবে না। আমি যখন অফিসে থাকি তখন কিন্তু আমি একজন প্রশাসক। আবার আমি যখন ঘরে থাকি তখন আমি কখনো মা, কখনো স্ত্রী, কখনো কন্যা। তো যে যে টায়ারে যখন যেটা প্রয়োজন হয়, তখন সেভাবেই সামলাতে হয়।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ফরিদা খানম: আপনাকেও ধন্যবাদ।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় আপনার অনুভূতি কি?
ফরিদা খানম: আপনারা জানেন যে, আমি ২৫৪ বছরের ইতিহাসে ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক। তো সংগত কারণেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা আমার জন্য একদিকে যেমন সম্মানের, অন্য দিকে অনেক বেশি দায়িত্বের। আমার কিছু দায়বদ্ধতাও রয়েছে। ঢাকা একটি বহুমাত্রিক সমস্যার জেলা। আবার সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ঢাকা। এই জেলায় নানা ধরনের সম্ভাবনার সঙ্গে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এরকম একটা প্রশাসনিক জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় ভালোই লাগছে।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আগামী এক বছরে এই জেলাকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান?
ফরিদা খানম: আমাদের তো আসলে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করতে হয়। আমার লক্ষ্য একটি জনবান্ধব, হয়রানিমুক্ত এবং স্বচ্ছ জেলা প্রশাসন গড়ে তোলা ।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছেন কী?
ফরিদা খানম: না, স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জকে চাপ হিসেবে দেখছি না, চ্যালেঞ্জটকে একটা কাজ করার সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে জেলা প্রশাসনে কাজ করি। প্রতিটি জেলাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশটা চালাতে চান বা আগামী দিনগুলোতে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাই কিন্তু আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী একটি মেধাভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চান। তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’। এই প্ল্যানটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজের প্ল্যান হিসেবে শেয়ার করেননি, আমাদের নিয়েই তিনি একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চান। এই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সারথি হতে চাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রায় অর্ধশতাধিক কমিটির সভাপতি আপনি। এটা নিয়ে অনেক সময় সচেতন মহলে এক ধরনের সমালোচনা রয়েছে। এই বিষয়টি আসলে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। আমি বলেছি, জেলা প্রশাসক কিন্তু ব্যক্তি না। তিনি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তো এটা রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী কমিটিগুলো করা হয়েছে, এখানে কোনো ব্যক্তিগত ইস্যু নেই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা কালেক্টর—এই তিনটি দায়িত্ব পালনে সুনির্দিষ্টভাবে আপনার কর্মপদ্ধতি কী?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসক যখন এক্সিকিউটিভ দায়িত্বগুলো পালন করেন, তখন তারা জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যখন জেলার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখেন, তখন তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আর আমরা যখন ট্যাক্স কালেকশন করি, রেভিনিউ সাইডটা দেখি তখন জেলা কালেক্টরের দায়িত্ব পালন করি। এগুলোর সমন্বয়েই কিন্তু আমাদের দায়িত্ব। ঢাকা জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা খুব জটিল। এখানে নিয়মিত খাল দখল হচ্ছে, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা আছে। যদিও বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা দেখার জন্য আমাদের সিটি করপোরেশন রয়েছে। তারপরও জেলা প্রশাসক হিসেবে মূলত কোনো দায়িত্বই কিন্তু এড়ানো যাবে না।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ভূমি অফিসগুলোতে এখনো নামজারি কিংবা সেবার ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন হয়, এই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: নামজারিতে হয়রানি বা দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, দুর্ব্যবহার করা, তারপরে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া-এই বিষয়গুলো আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। কখনো কখনো আমরা নিজেরাই এই হয়রানির শিকার হয়েছি। তবে এই বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি । এসব নির্মূ করতে সময় লাগবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। একমাত্র রাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করবে তা না, এটা একটা সমন্বিত উদ্যোগ। আমরা যদি সবাই সচেতন হই, তাহলে এক সময় এই হয়রানি কমে আসবে। জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার টিমে যারা আছে, যারা কাজ করছে, তাদের প্রত্যেককেই বলে দিয়েছি, সংবিধান আমাকে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আর আমরা যারা রাষ্ট্রের কর্মচারী আছি, তারা রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে কাজ করব, শোষক না। যদি এই ধরনের হয়রানি বা এই ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো ইস্যু আপনাদের কাছে আসে বা কোনো অভিযোগ যদি আপনাদের কাছে কখনো পৌঁছায়, ডাইরেক্ট আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসন পরিচালনায় আপনার বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?
ফরিদা খানম: এখানে চ্যালেঞ্জের অভাব নেই। এখানে ভূমি ব্যবস্থাপনা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এরপর রাজস্ব আদায়ও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ ছিল, সেই পরিবেশকে গুছিয়ে আনতেও সময় লাগছে। এখানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, সমস্যা বেশি এবং মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। সবকিছু মানে অনেক জটিল একটা সমীকরণ এই ঢাকা জেলার। তো সবকিছু মিলিয়ে আমরা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং এখানে কী ধরনের অভিযোগ আসছে?
ফরিদা খানম: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের ভেতরে দূরত্ব কমিয়ে আনার চমৎকার একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আগে স্টার্ট করেছি। ইতোমধ্যে ২০৯১ জনকে আমরা সেবা দিয়েছি। ৭৭৮ জনকে আমরা ওভার ফোনে সেবা দিয়েছি। আমরা ধামরাইতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে ২৫ জনকে সেলাই মেশিন দেব আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। আর দুস্থ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ দিচ্ছি এবং প্রত্যেকেই কিন্তু ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে আসছে। এই অ্যাপ আসলে যে এত চমৎকারভাবে সাড়া ফেলবে তা আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের মধ্যে প্রায়ই কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, এর মূল কারণ কি?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসন এবং আমাদের যে জেলা পুলিশ, এরা কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। একজন আরেকজনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। আমি অন্যান্য জেলার কথায় যেতে চাই না। আমি ঢাকা জেলার প্রশাসক হিসেবেই বলছি, আমাদের যিনি পুলিশ সুপার মহোদয়, আপনারা জানেন তিনিও একজন নারী পুলিশ সুপার। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা করছি যাতে রাষ্ট্রের কল্যাণে, রাষ্ট্র বিনির্মাণে মিলেমিশে কাজ করা যায়। তিনি অত্যন্ত হেল্পফুল একজন অফিসার এবং আমরা বিভিন্ন সময় যে অপ্রীতিকর কথাগুলো শুনে থাকি, এই ইস্যুটা আমাদের ঢাকা জেলায় একেবারেই নেই। আমরা রাষ্ট্র বিনির্মাণে বা প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক রাখার জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে আমরা একজন আরেকজনের পরিপূরক হয়ে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আপনি অবসর সময় কীভাবে কাটান?
ফরিদা খানম: অবসর সময়ে আমি ফ্যামিলিকে সময় দিই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার ডিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার। দিন শেষে এসব সামাল দিয়ে আপনি কীভাবে সংসার জীবন এনজয় করছেন?
ফরিদা খানম: আসলে চাকরির বাইরে কিন্তু আমরা একজন নারী। সংগত কারণেই সংসার থাকে, ছেলেমেয়ে থাকে, আত্মীয় থাকে, সমাজ থাকে। তাদেরকে সময় দিতে হয়। ব্যস্ততার কারণে কাউকেই কিন্তু ফেলে দেওয়া যাবে না। আমি যখন অফিসে থাকি তখন কিন্তু আমি একজন প্রশাসক। আবার আমি যখন ঘরে থাকি তখন আমি কখনো মা, কখনো স্ত্রী, কখনো কন্যা। তো যে যে টায়ারে যখন যেটা প্রয়োজন হয়, তখন সেভাবেই সামলাতে হয়।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ফরিদা খানম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ভূমি অফিসে আমরা নিজেরাই হয়রানির শিকার হই, অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা
আয়নাল হোসেন

সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় আপনার অনুভূতি কি?
ফরিদা খানম: আপনারা জানেন যে, আমি ২৫৪ বছরের ইতিহাসে ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক। তো সংগত কারণেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা আমার জন্য একদিকে যেমন সম্মানের, অন্য দিকে অনেক বেশি দায়িত্বের। আমার কিছু দায়বদ্ধতাও রয়েছে। ঢাকা একটি বহুমাত্রিক সমস্যার জেলা। আবার সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ঢাকা। এই জেলায় নানা ধরনের সম্ভাবনার সঙ্গে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এরকম একটা প্রশাসনিক জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় ভালোই লাগছে।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আগামী এক বছরে এই জেলাকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান?
ফরিদা খানম: আমাদের তো আসলে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করতে হয়। আমার লক্ষ্য একটি জনবান্ধব, হয়রানিমুক্ত এবং স্বচ্ছ জেলা প্রশাসন গড়ে তোলা ।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছেন কী?
ফরিদা খানম: না, স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জকে চাপ হিসেবে দেখছি না, চ্যালেঞ্জটকে একটা কাজ করার সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে জেলা প্রশাসনে কাজ করি। প্রতিটি জেলাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশটা চালাতে চান বা আগামী দিনগুলোতে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাই কিন্তু আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী একটি মেধাভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চান। তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’। এই প্ল্যানটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজের প্ল্যান হিসেবে শেয়ার করেননি, আমাদের নিয়েই তিনি একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চান। এই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সারথি হতে চাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রায় অর্ধশতাধিক কমিটির সভাপতি আপনি। এটা নিয়ে অনেক সময় সচেতন মহলে এক ধরনের সমালোচনা রয়েছে। এই বিষয়টি আসলে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। আমি বলেছি, জেলা প্রশাসক কিন্তু ব্যক্তি না। তিনি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তো এটা রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী কমিটিগুলো করা হয়েছে, এখানে কোনো ব্যক্তিগত ইস্যু নেই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা কালেক্টর—এই তিনটি দায়িত্ব পালনে সুনির্দিষ্টভাবে আপনার কর্মপদ্ধতি কী?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসক যখন এক্সিকিউটিভ দায়িত্বগুলো পালন করেন, তখন তারা জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যখন জেলার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখেন, তখন তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আর আমরা যখন ট্যাক্স কালেকশন করি, রেভিনিউ সাইডটা দেখি তখন জেলা কালেক্টরের দায়িত্ব পালন করি। এগুলোর সমন্বয়েই কিন্তু আমাদের দায়িত্ব। ঢাকা জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা খুব জটিল। এখানে নিয়মিত খাল দখল হচ্ছে, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা আছে। যদিও বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা দেখার জন্য আমাদের সিটি করপোরেশন রয়েছে। তারপরও জেলা প্রশাসক হিসেবে মূলত কোনো দায়িত্বই কিন্তু এড়ানো যাবে না।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ভূমি অফিসগুলোতে এখনো নামজারি কিংবা সেবার ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন হয়, এই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা খানম: নামজারিতে হয়রানি বা দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা, দুর্ব্যবহার করা, তারপরে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া-এই বিষয়গুলো আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। কখনো কখনো আমরা নিজেরাই এই হয়রানির শিকার হয়েছি। তবে এই বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি । এসব নির্মূ করতে সময় লাগবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। একমাত্র রাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করবে তা না, এটা একটা সমন্বিত উদ্যোগ। আমরা যদি সবাই সচেতন হই, তাহলে এক সময় এই হয়রানি কমে আসবে। জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার টিমে যারা আছে, যারা কাজ করছে, তাদের প্রত্যেককেই বলে দিয়েছি, সংবিধান আমাকে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আর আমরা যারা রাষ্ট্রের কর্মচারী আছি, তারা রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে কাজ করব, শোষক না। যদি এই ধরনের হয়রানি বা এই ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো ইস্যু আপনাদের কাছে আসে বা কোনো অভিযোগ যদি আপনাদের কাছে কখনো পৌঁছায়, ডাইরেক্ট আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসন পরিচালনায় আপনার বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?
ফরিদা খানম: এখানে চ্যালেঞ্জের অভাব নেই। এখানে ভূমি ব্যবস্থাপনা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এরপর রাজস্ব আদায়ও একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ ছিল, সেই পরিবেশকে গুছিয়ে আনতেও সময় লাগছে। এখানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, সমস্যা বেশি এবং মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। সবকিছু মানে অনেক জটিল একটা সমীকরণ এই ঢাকা জেলার। তো সবকিছু মিলিয়ে আমরা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এবং এখানে কী ধরনের অভিযোগ আসছে?
ফরিদা খানম: ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের ভেতরে দূরত্ব কমিয়ে আনার চমৎকার একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আগে স্টার্ট করেছি। ইতোমধ্যে ২০৯১ জনকে আমরা সেবা দিয়েছি। ৭৭৮ জনকে আমরা ওভার ফোনে সেবা দিয়েছি। আমরা ধামরাইতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে ২৫ জনকে সেলাই মেশিন দেব আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। আর দুস্থ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ দিচ্ছি এবং প্রত্যেকেই কিন্তু ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে আসছে। এই অ্যাপ আসলে যে এত চমৎকারভাবে সাড়া ফেলবে তা আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের মধ্যে প্রায়ই কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, এর মূল কারণ কি?
ফরিদা খানম: জেলা প্রশাসন এবং আমাদের যে জেলা পুলিশ, এরা কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। একজন আরেকজনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। আমি অন্যান্য জেলার কথায় যেতে চাই না। আমি ঢাকা জেলার প্রশাসক হিসেবেই বলছি, আমাদের যিনি পুলিশ সুপার মহোদয়, আপনারা জানেন তিনিও একজন নারী পুলিশ সুপার। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা করছি যাতে রাষ্ট্রের কল্যাণে, রাষ্ট্র বিনির্মাণে মিলেমিশে কাজ করা যায়। তিনি অত্যন্ত হেল্পফুল একজন অফিসার এবং আমরা বিভিন্ন সময় যে অপ্রীতিকর কথাগুলো শুনে থাকি, এই ইস্যুটা আমাদের ঢাকা জেলায় একেবারেই নেই। আমরা রাষ্ট্র বিনির্মাণে বা প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক রাখার জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে আমরা একজন আরেকজনের পরিপূরক হয়ে কাজ করছি।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আপনি অবসর সময় কীভাবে কাটান?
ফরিদা খানম: অবসর সময়ে আমি ফ্যামিলিকে সময় দিই।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: ঢাকার ডিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার। দিন শেষে এসব সামাল দিয়ে আপনি কীভাবে সংসার জীবন এনজয় করছেন?
ফরিদা খানম: আসলে চাকরির বাইরে কিন্তু আমরা একজন নারী। সংগত কারণেই সংসার থাকে, ছেলেমেয়ে থাকে, আত্মীয় থাকে, সমাজ থাকে। তাদেরকে সময় দিতে হয়। ব্যস্ততার কারণে কাউকেই কিন্তু ফেলে দেওয়া যাবে না। আমি যখন অফিসে থাকি তখন কিন্তু আমি একজন প্রশাসক। আবার আমি যখন ঘরে থাকি তখন আমি কখনো মা, কখনো স্ত্রী, কখনো কন্যা। তো যে যে টায়ারে যখন যেটা প্রয়োজন হয়, তখন সেভাবেই সামলাতে হয়।
সিজেডএন টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ফরিদা খানম: আপনাকেও ধন্যবাদ।








