শিরোনাম

এসিল্যান্ডকে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের বাড়িতে ‘মাদক উদ্ধারের’ অভিযান

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
এসিল্যান্ডকে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের বাড়িতে  ‘মাদক উদ্ধারের’ অভিযান

ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের অভিযান চালিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সবুজপাড়ায় সাংবাদিক সাজুর বাড়িতে দুজন পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন আনসার সদস্য নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ঘুষ না পেয়ে ভুল রায় প্রদান, অফিসের চেইনম্যানকে কানুনগো বানিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। শুধু সাংবাদিক নয়, স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপরও তার স্বেচ্ছাচারিতার ছাপ রয়েছে। সম্প্রতি সেচ মৌসুমের তেল সরবরাহ নিয়ে অযৌক্তিক শর্ত দেওয়ায় কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া অবৈধ ড্রেজার বন্ধের নামে মাসোহারা দাবি এবং দুপুরের পর অফিসে অনুপস্থিত থেকে সময় কাটানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান বলেন, আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, সাংবাদিক সাজু মাদকাসক্ত এবং তার বাড়িতে মাদক রয়েছে। এজন্য রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবগত করে অভিযান চালিয়েছি। তবে সাংবাদিকের বাড়িতে কোনও মাদক পাওয়া যায়নি।

এসিল্যান্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করে রৌমারী ইউএনও মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি ছুটিতে আছি। এসিল্যান্ডকে সার বিতরণের স্থলে পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু তিনি সাংবাদিক সাজুর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানের আগে তিনি আমাকে কিছু জানাননি। অভিযান শেষে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৭ আগস্ট এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের একটি জমির নামজারি করেন। ৩০ আগস্ট সেই নামজারি কোনও প্রকার নোটিশ এবং শুনানি ছাড়াই বাতিল করেন। সেটি তিনি করতে পারেন কিনা গতকাল সন্ধ্যায় তা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করি। এতে তিনি ক্ষেপে যান। আমাকে উল্টো প্রশ্ন করেন, আমি কী করতে পারি আর না পারি সে জবাব আপনাকে কেব দেবো? এর জেরেই আজ আমার বাড়িতে মাদক মজুতের অভিযোগ তুলে তল্লাশি চালিয়েছেন। কিন্তু তিনি মাদকের কোনও অস্তিত্ব পাননি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানের বদলির আদেশ হয়েছে। তাকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। এসিল্যান্ড পুলিশ চেয়েছিল আমি দিয়েছি।

/এসবি/