শিরোনাম

পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও কেপি ভেঙে নতুন প্রদেশ গঠনের ভাবনায় পাকিস্তান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও কেপি ভেঙে নতুন প্রদেশ গঠনের ভাবনায় পাকিস্তান
পাকিস্তানের পতাকা

পাকিস্তানে প্রশাসনিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থায় গতি আনতে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয় নিয়ে জোর আলোচনা করছে সরকার। দেশটির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর তথ্যমতে, সম্ভাব্য ২৮তম সংবিধান সংশোধনীর অংশ হিসেবেই এ চিন্তা শুরু হয়েছে। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করাটাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সম্প্রতি ‘পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট ২০২৬’-এ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ভেঙে পড়া শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠনে নতুন প্রদেশ গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। এরপরই বিষয়টি নতুন করে গতি পায়। সরকারের নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, ১৮তম সংশোধনীর পর কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে, নতুন প্রদেশ তৈরি করলে কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতার সুষম বণ্টন সহজ হবে।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে পাকিস্তানের বর্তমান মানচিত্রে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আলোচিত খসড়া অনুযায়ী, করাচি ও গোয়াদর শহরকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সিন্ধুর বাকি অংশ একটি প্রদেশ হিসেবে রাখা হতে পারে। পাশাপাশি বেলুচিস্তানকে দুটি এবং পাঞ্জাবকে তিনটি আলাদা প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সাবেক উপজাতীয় এলাকাগুলোর একীভূতকরণের কারণে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সমীকরণ কিছুটা জটিল। তবে সেটিকে পশতুন ও হাজারা- এই দুই অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রদেশ বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প পথ হিসেবে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রদেশকে এড়িয়ে সরাসরি কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সরকারকে আর্থিক তহবিল দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হতে পারে।

তবে সরকারের এ পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির আইনজীবীরা ভিন্নমত দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এ ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান বার কাউন্সিল জানিয়েছে, যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এবং সর্বসম্মত আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত।

সূত্র: ডন

/এমএকে/