ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে অবৈধ স্থাপনার হিড়িক

ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে অবৈধ স্থাপনার হিড়িক
মো. ইমরান হোসেন

বড় ছাতা টানিয়ে বসানো হয়েছে নানা পরিবহনের বাস কাউন্টার। সঙ্গে রয়েছে আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, ছোলা, শরবতসহ চায়ের বেশ কয়েকটি দোকান। প্রথম দেখায় মনে হবে এটি রাজধানীর গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ি, সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলীর মতো কোনো বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্য। কিন্তু আসলে তা বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্য নয়, এটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশের চিত্র। যেখানে গতানুগতিক গতির বাহিরে গিয়ে এ সড়কে যানবাহন চলাচল করে। এতে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি– দুটোই বাড়ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ওপরে ভাসমান দোকানপাট খোলার নিয়ম না থাকলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চলছে রমরমা ব্যবসা। এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশে প্রায় ২০-৩০টি অবৈধ বাস কাউন্টার ও ভাসমান দোকান বসানো হলেও পুলিশকে সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব ভাসমান দোকান ও বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। ফলে এক্সপ্রেসওয়ে যেন দোকান ও কাউন্টারের হাটে পরিণত হয়েছে। এতে সেখানে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দিনদিন অবৈধ দোকানের সঙ্গে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আবদুল্লাহপুর অংশে বড় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স। সেখানে লেখা রয়েছে আবদুল্লাহপুর পুলিশ বক্স, উত্তরা পশ্চিম থানা, উত্তরা বিভাগ ডিএমপি ঢাকা। তবে ওই সময়ে বক্সে কোনো পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

পুলিশ বক্সের আশেপাশেই মা-বাবা দোয়া, পিপিএল সুপার, মাইদা পরিবহন, এফ কে সুপার ডিলাক্স, হানিফ এক্সপ্রেস, আর্কিড এলিগ্যান্স, আর পি এলিগ্যান্স, সম্রাট পরিবহন, আল বাকারা পরিবহন, মা বাবার দোয়া কাউন্টার, সোনালী পরিবহনসহ প্রায় ২০-২৫টি রুটে চলাচলকারী বাস কাউন্টার বসানো হয়েছে। এসব কাউন্টারের পাশাপাশি ভাসমান দোকানিরা বসেছেন চা, শরবত, বিড়ি-সিগারেট, আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, ছোলাসহ হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে।
মো. শাহিন নামের এক শরবতের দোকানি বলেন, ‘এখানে সরকারি ভাবে বড়ধরনের কোনো অভিযান হয়নি। আমি এখানে এক বছর ধরে দোকান করছি। পুলিশ মাঝে মধ্যে এসে উঠিয়ে দেয়। পরে আবার আমরা বসি। এক্সপ্রেসওয়েতে বসা অবৈধ তবুও পেটের দায়ে বসি।’
কালাম নামের এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা বলেন, ‘আমি এখানে ছয় মাস ধরে দোকান করি। হকার বেশি হলে পুলিশ ৮-১০ দিন পরে একবার অভিযান করে উঠিয়ে দেয়। পরে আবার আগের মতোই হয়ে যায়। আমাদের দোকানদের উচ্ছেদ করলেও বাস কাউন্টার ঠিকই বসা থাকে। এগুলো দেখার কেউ নেই।’
এদিকে, ভাসমান দোকান ও কাউন্টারের জন্য দূরপাল্লার অনেক বাসকে ১০-১৫ মিনিট পর্যন্তও এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রী উঠা-নামা ও বাসগুলো দীর্ঘ অবস্থানের কারণে ওই জায়গায় অনেক সময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
বাবুল নামে বাস কাউন্টারের এক লাইনম্যান বলেন, এই কাউন্টারগুলো আগে এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছিল। নিচের রাস্তা বন্ধ হওয়ার পরে বছর খানেক ধরে এখানে বসছে। আগে আমাদের দৈনিক ৭০০-৮০০ টাকা ইনকাম হতো। এখন দৈনিক ৩০০ টাকা ইনকাম করতে কষ্ট হয়। গত ছয় মাস ধরে এখানে কোনো অভিযান হয় না।

তিনি আরও বলেন, বছর খানেক আগে এসব কাউন্টার স্থাপন নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। একে অপরের আধিপত্য বিস্তারে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এসব অবৈধ স্থাপনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রশাসনের নীরবতায় সেখানে অবৈধ দোকান ও কাউন্টারের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
সোহাগ নামের এক বাসযাত্রী বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে সিরাজগঞ্জ যেতে নিচের কাউন্টার থেকে ভাড়া হলো ৪০০ টাকা। আর এক্সপ্রেসওয়ের এই কাউন্টার থেকে ভাড়া নিলো ৩৫০ টাকা। কারণ এই কাউন্টারটি অবৈধভাবে বসানো। এগুলোর কারণে অনেক বাস এখানে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে অনেক সময় জ্যাম লেগে যায়। আবার অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করেন। ফলে যেকোন সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
বেশ কিছু সময় পর এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে থাকা ওই পুলিশ বক্সে উপপরিদর্শক (এসআই) বুলবুল নামে এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়েতে কারা দোকান কিংবা বাস টিকিট কাউন্টার বসিয়েছে– এটা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। আমার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখা। আর আমি সেটাই করে যাচ্ছি।’
এক্সপ্রেসওয়েতে বাস কাউন্টার বা দোকান বসানো যাবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে ভাসমান দোকান কিংবা বাসের টিকিট কাউন্টার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। আমার জানামতে এগুলো বসানো আইনানুগ অপরাধ ও বটে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপ–কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান হোসেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ভাসমান দোকানপাট ও বাস কাউন্টারের বিষয়টি তার নজরে কেউ দেয়নি। এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বড় ছাতা টানিয়ে বসানো হয়েছে নানা পরিবহনের বাস কাউন্টার। সঙ্গে রয়েছে আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, ছোলা, শরবতসহ চায়ের বেশ কয়েকটি দোকান। প্রথম দেখায় মনে হবে এটি রাজধানীর গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ি, সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলীর মতো কোনো বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্য। কিন্তু আসলে তা বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্য নয়, এটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশের চিত্র। যেখানে গতানুগতিক গতির বাহিরে গিয়ে এ সড়কে যানবাহন চলাচল করে। এতে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি– দুটোই বাড়ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ওপরে ভাসমান দোকানপাট খোলার নিয়ম না থাকলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চলছে রমরমা ব্যবসা। এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশে প্রায় ২০-৩০টি অবৈধ বাস কাউন্টার ও ভাসমান দোকান বসানো হলেও পুলিশকে সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব ভাসমান দোকান ও বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। ফলে এক্সপ্রেসওয়ে যেন দোকান ও কাউন্টারের হাটে পরিণত হয়েছে। এতে সেখানে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দিনদিন অবৈধ দোকানের সঙ্গে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আবদুল্লাহপুর অংশে বড় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স। সেখানে লেখা রয়েছে আবদুল্লাহপুর পুলিশ বক্স, উত্তরা পশ্চিম থানা, উত্তরা বিভাগ ডিএমপি ঢাকা। তবে ওই সময়ে বক্সে কোনো পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

পুলিশ বক্সের আশেপাশেই মা-বাবা দোয়া, পিপিএল সুপার, মাইদা পরিবহন, এফ কে সুপার ডিলাক্স, হানিফ এক্সপ্রেস, আর্কিড এলিগ্যান্স, আর পি এলিগ্যান্স, সম্রাট পরিবহন, আল বাকারা পরিবহন, মা বাবার দোয়া কাউন্টার, সোনালী পরিবহনসহ প্রায় ২০-২৫টি রুটে চলাচলকারী বাস কাউন্টার বসানো হয়েছে। এসব কাউন্টারের পাশাপাশি ভাসমান দোকানিরা বসেছেন চা, শরবত, বিড়ি-সিগারেট, আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, ছোলাসহ হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে।
মো. শাহিন নামের এক শরবতের দোকানি বলেন, ‘এখানে সরকারি ভাবে বড়ধরনের কোনো অভিযান হয়নি। আমি এখানে এক বছর ধরে দোকান করছি। পুলিশ মাঝে মধ্যে এসে উঠিয়ে দেয়। পরে আবার আমরা বসি। এক্সপ্রেসওয়েতে বসা অবৈধ তবুও পেটের দায়ে বসি।’
কালাম নামের এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা বলেন, ‘আমি এখানে ছয় মাস ধরে দোকান করি। হকার বেশি হলে পুলিশ ৮-১০ দিন পরে একবার অভিযান করে উঠিয়ে দেয়। পরে আবার আগের মতোই হয়ে যায়। আমাদের দোকানদের উচ্ছেদ করলেও বাস কাউন্টার ঠিকই বসা থাকে। এগুলো দেখার কেউ নেই।’
এদিকে, ভাসমান দোকান ও কাউন্টারের জন্য দূরপাল্লার অনেক বাসকে ১০-১৫ মিনিট পর্যন্তও এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রী উঠা-নামা ও বাসগুলো দীর্ঘ অবস্থানের কারণে ওই জায়গায় অনেক সময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
বাবুল নামে বাস কাউন্টারের এক লাইনম্যান বলেন, এই কাউন্টারগুলো আগে এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছিল। নিচের রাস্তা বন্ধ হওয়ার পরে বছর খানেক ধরে এখানে বসছে। আগে আমাদের দৈনিক ৭০০-৮০০ টাকা ইনকাম হতো। এখন দৈনিক ৩০০ টাকা ইনকাম করতে কষ্ট হয়। গত ছয় মাস ধরে এখানে কোনো অভিযান হয় না।

তিনি আরও বলেন, বছর খানেক আগে এসব কাউন্টার স্থাপন নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। একে অপরের আধিপত্য বিস্তারে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এসব অবৈধ স্থাপনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রশাসনের নীরবতায় সেখানে অবৈধ দোকান ও কাউন্টারের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
সোহাগ নামের এক বাসযাত্রী বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে সিরাজগঞ্জ যেতে নিচের কাউন্টার থেকে ভাড়া হলো ৪০০ টাকা। আর এক্সপ্রেসওয়ের এই কাউন্টার থেকে ভাড়া নিলো ৩৫০ টাকা। কারণ এই কাউন্টারটি অবৈধভাবে বসানো। এগুলোর কারণে অনেক বাস এখানে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে অনেক সময় জ্যাম লেগে যায়। আবার অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করেন। ফলে যেকোন সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
বেশ কিছু সময় পর এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে থাকা ওই পুলিশ বক্সে উপপরিদর্শক (এসআই) বুলবুল নামে এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়েতে কারা দোকান কিংবা বাস টিকিট কাউন্টার বসিয়েছে– এটা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। আমার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখা। আর আমি সেটাই করে যাচ্ছি।’
এক্সপ্রেসওয়েতে বাস কাউন্টার বা দোকান বসানো যাবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে ভাসমান দোকান কিংবা বাসের টিকিট কাউন্টার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। আমার জানামতে এগুলো বসানো আইনানুগ অপরাধ ও বটে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপ–কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান হোসেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ভাসমান দোকানপাট ও বাস কাউন্টারের বিষয়টি তার নজরে কেউ দেয়নি। এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে অবৈধ স্থাপনার হিড়িক
মো. ইমরান হোসেন

বড় ছাতা টানিয়ে বসানো হয়েছে নানা পরিবহনের বাস কাউন্টার। সঙ্গে রয়েছে আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, ছোলা, শরবতসহ চায়ের বেশ কয়েকটি দোকান। প্রথম দেখায় মনে হবে এটি রাজধানীর গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ি, সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলীর মতো কোনো বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্য। কিন্তু আসলে তা বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্য নয়, এটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশের চিত্র। যেখানে গতানুগতিক গতির বাহিরে গিয়ে এ সড়কে যানবাহন চলাচল করে। এতে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি– দুটোই বাড়ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ওপরে ভাসমান দোকানপাট খোলার নিয়ম না থাকলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চলছে রমরমা ব্যবসা। এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশে প্রায় ২০-৩০টি অবৈধ বাস কাউন্টার ও ভাসমান দোকান বসানো হলেও পুলিশকে সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব ভাসমান দোকান ও বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। ফলে এক্সপ্রেসওয়ে যেন দোকান ও কাউন্টারের হাটে পরিণত হয়েছে। এতে সেখানে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দিনদিন অবৈধ দোকানের সঙ্গে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আবদুল্লাহপুর অংশে বড় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স। সেখানে লেখা রয়েছে আবদুল্লাহপুর পুলিশ বক্স, উত্তরা পশ্চিম থানা, উত্তরা বিভাগ ডিএমপি ঢাকা। তবে ওই সময়ে বক্সে কোনো পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

পুলিশ বক্সের আশেপাশেই মা-বাবা দোয়া, পিপিএল সুপার, মাইদা পরিবহন, এফ কে সুপার ডিলাক্স, হানিফ এক্সপ্রেস, আর্কিড এলিগ্যান্স, আর পি এলিগ্যান্স, সম্রাট পরিবহন, আল বাকারা পরিবহন, মা বাবার দোয়া কাউন্টার, সোনালী পরিবহনসহ প্রায় ২০-২৫টি রুটে চলাচলকারী বাস কাউন্টার বসানো হয়েছে। এসব কাউন্টারের পাশাপাশি ভাসমান দোকানিরা বসেছেন চা, শরবত, বিড়ি-সিগারেট, আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, ছোলাসহ হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে।
মো. শাহিন নামের এক শরবতের দোকানি বলেন, ‘এখানে সরকারি ভাবে বড়ধরনের কোনো অভিযান হয়নি। আমি এখানে এক বছর ধরে দোকান করছি। পুলিশ মাঝে মধ্যে এসে উঠিয়ে দেয়। পরে আবার আমরা বসি। এক্সপ্রেসওয়েতে বসা অবৈধ তবুও পেটের দায়ে বসি।’
কালাম নামের এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা বলেন, ‘আমি এখানে ছয় মাস ধরে দোকান করি। হকার বেশি হলে পুলিশ ৮-১০ দিন পরে একবার অভিযান করে উঠিয়ে দেয়। পরে আবার আগের মতোই হয়ে যায়। আমাদের দোকানদের উচ্ছেদ করলেও বাস কাউন্টার ঠিকই বসা থাকে। এগুলো দেখার কেউ নেই।’
এদিকে, ভাসমান দোকান ও কাউন্টারের জন্য দূরপাল্লার অনেক বাসকে ১০-১৫ মিনিট পর্যন্তও এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর অংশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রী উঠা-নামা ও বাসগুলো দীর্ঘ অবস্থানের কারণে ওই জায়গায় অনেক সময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
বাবুল নামে বাস কাউন্টারের এক লাইনম্যান বলেন, এই কাউন্টারগুলো আগে এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছিল। নিচের রাস্তা বন্ধ হওয়ার পরে বছর খানেক ধরে এখানে বসছে। আগে আমাদের দৈনিক ৭০০-৮০০ টাকা ইনকাম হতো। এখন দৈনিক ৩০০ টাকা ইনকাম করতে কষ্ট হয়। গত ছয় মাস ধরে এখানে কোনো অভিযান হয় না।

তিনি আরও বলেন, বছর খানেক আগে এসব কাউন্টার স্থাপন নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। একে অপরের আধিপত্য বিস্তারে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এসব অবৈধ স্থাপনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রশাসনের নীরবতায় সেখানে অবৈধ দোকান ও কাউন্টারের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
সোহাগ নামের এক বাসযাত্রী বলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে সিরাজগঞ্জ যেতে নিচের কাউন্টার থেকে ভাড়া হলো ৪০০ টাকা। আর এক্সপ্রেসওয়ের এই কাউন্টার থেকে ভাড়া নিলো ৩৫০ টাকা। কারণ এই কাউন্টারটি অবৈধভাবে বসানো। এগুলোর কারণে অনেক বাস এখানে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে অনেক সময় জ্যাম লেগে যায়। আবার অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করেন। ফলে যেকোন সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
বেশ কিছু সময় পর এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে থাকা ওই পুলিশ বক্সে উপপরিদর্শক (এসআই) বুলবুল নামে এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়েতে কারা দোকান কিংবা বাস টিকিট কাউন্টার বসিয়েছে– এটা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। আমার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখা। আর আমি সেটাই করে যাচ্ছি।’
এক্সপ্রেসওয়েতে বাস কাউন্টার বা দোকান বসানো যাবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে ভাসমান দোকান কিংবা বাসের টিকিট কাউন্টার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। আমার জানামতে এগুলো বসানো আইনানুগ অপরাধ ও বটে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপ–কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান হোসেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ভাসমান দোকানপাট ও বাস কাউন্টারের বিষয়টি তার নজরে কেউ দেয়নি। এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অনিয়ম: কাদেরসহ ১৩ সাবেক সচিবের নথি সংগ্রহ






