যুক্তরাষ্ট্র কি হরমুজকে নিজেদের ভূখণ্ডে পরিণত করতে পারবে

যুক্তরাষ্ট্র কি হরমুজকে নিজেদের ভূখণ্ডে পরিণত করতে পারবে
সিজেডএন ডেস্ক

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিকে খুব শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ট্রাম্পের এ হুমকি পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
জুনে দুই পক্ষের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ রবিবার (১৬ আগস্ট) শেষ হতে যাচ্ছে। তার আগেই দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে । অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও সামরিক নৌবহর দিয়ে ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে রেখে তাদের অর্থনীতিকে আরও সংকুচিত করার পথ বেছে নিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সুর ও সামরিক হুমকি এক অদ্ভুত ধরণ মেনে চলেছে। তিনি বারবার ইরানে বড় ধরনের হামলার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে পিছিয়ে যান। তেহরানের সঙ্গে চলমান এ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে ট্রাম্প নিজেই ‘দাবার খেলা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে শেষ পর্যন্ত কে আগে পিছু হটে, তা দেখাটাই এখন মূল বিষয়। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও বাস্তবতার নিরিখে প্রশ্ন উঠছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই কি বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক পথকে নিজেদের অংশ বানিয়ে নিতে পারে?

ট্রাম্প যা বলেছেন
ইরানকে পরাজিত করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড বানানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের এক পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান এখন চরম কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে, খুব শিগগিরই এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
নৌ অবরোধকে নির্দেশ করে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই আমেরিকার অধীনে চলে এসেছে। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী চারপাশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে ঢুকতেই পারবে না।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কিছুটা অমিল দেখা গেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলপথটি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। এমনকি সামুদ্রিক নেভিগেশনের বিভিন্ন তথ্যও বলছে, আমেরিকার কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু জাহাজ নিয়মিত এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে।
বিষয়টিকে ট্রাম্পের এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের মুখের মুচকি হাসিই প্রমাণ করে কথাটা তিনি খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। ভৌগোলিকভাবে এটি ইরান ও ওমানের আওতাধীন জলসীমা। মূলত প্রতিপক্ষকে খোঁচানো ট্রাম্পের একটি পরিচিত কৌশল, আর এবারও তিনি ইরানকে উত্যক্ত করতেই এসব কথা বলেছেন।

জবাবে ইরান যা বলেছে
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকির জবাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অলীক কল্পনা’ আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, এই প্রণালির ওপর কোনো মার্কিন কর্তৃত্ব মানা হবে না। সেই সঙ্গে জলপথটি আবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নতুন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে ইরান।
ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাবে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান প্রণালীটিকে ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে উল্লেখ করেন। একই কথা বলেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে, রণতরী পাঠিয়ে কিংবা নির্বাচনি মঞ্চে ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না। তিনি জানান, এ প্রণালি অতীতেও ইরানের ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কেবল ইরানের নির্দেশেই এটি খোলা বা বন্ধ করা হবে এবং আমেরিকা ভুল স্বীকার না করা পর্যন্ত তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে। এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধে তেহরান তাদের কূটনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল। এতদিন যেসব দাবি তারা যুদ্ধ থামানোর শর্ত হিসেবে রাখছিল, এখন কেবল আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই ছাড় চাইছে তারা।

ট্রাম্পের দাবি কি বাস্তবসম্মত
একতরফা ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো প্রণালি বা অন্য দেশের এলাকা নিজের করে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের একতিয়ারের বাইরে। আন্তর্জাতিক আইন তো বটেই, আমেরিকান সংবিধান অনুযায়ীও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনি বৈধতা নেই। এর আগেও তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করার কিংবা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার মতো বার্তা দিয়েছিলেন, যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি কোনো ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, তবে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট চুক্তি প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক শক্তিতে কোনো এলাকা দখল করাকে যুদ্ধাপরাধ বা আগ্রাসন হিসেবে ধরা হয়। সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ন্যাটালি ক্লেইন জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের ওপর আমেরিকার যেমন নিয়ন্ত্রণ ছিল, ঠিক তেমনি পুরো অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ট্রাম্পের এ দাবির আন্তর্জাতিক কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
ভৌগোলিকভাবেও হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একক অধিকার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলো তাদের সীমান্ত থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নিজেদের জলসীমা হিসেবে দাবি করতে পারে। ২১ নটিক্যাল মাইল চওড়া এই সংকীর্ণ পথটি ইরান ও ওমানের সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলপথ। এ আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোতে কোনো দেশই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, এসব বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প মূলত দেশের ভেতরের সমর্থকদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। একজন রিয়্যালিটি শো তারকা হিসেবে বড় বড় কথা বলা তার পুরানো অভ্যাস। তাই তার সব কথা আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার সুযোগ নেই। আইনি ও ভৌগোলিক কোনো দিক দিয়েই হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকার অংশে পরিণত করা সম্ভব নয়।
তবে এ ধরনের কথার মাধ্যমে ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন, দীর্ঘসময় ধরে চলা এ যুদ্ধে তিনি কোনোভাবেই ইরানের কাছে হার মানবেন না।
সূত্র: আল জাজিরা

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিকে খুব শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ট্রাম্পের এ হুমকি পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
জুনে দুই পক্ষের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ রবিবার (১৬ আগস্ট) শেষ হতে যাচ্ছে। তার আগেই দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে । অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও সামরিক নৌবহর দিয়ে ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে রেখে তাদের অর্থনীতিকে আরও সংকুচিত করার পথ বেছে নিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সুর ও সামরিক হুমকি এক অদ্ভুত ধরণ মেনে চলেছে। তিনি বারবার ইরানে বড় ধরনের হামলার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে পিছিয়ে যান। তেহরানের সঙ্গে চলমান এ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে ট্রাম্প নিজেই ‘দাবার খেলা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে শেষ পর্যন্ত কে আগে পিছু হটে, তা দেখাটাই এখন মূল বিষয়। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও বাস্তবতার নিরিখে প্রশ্ন উঠছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই কি বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক পথকে নিজেদের অংশ বানিয়ে নিতে পারে?

ট্রাম্প যা বলেছেন
ইরানকে পরাজিত করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড বানানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের এক পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান এখন চরম কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে, খুব শিগগিরই এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
নৌ অবরোধকে নির্দেশ করে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই আমেরিকার অধীনে চলে এসেছে। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী চারপাশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে ঢুকতেই পারবে না।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কিছুটা অমিল দেখা গেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলপথটি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। এমনকি সামুদ্রিক নেভিগেশনের বিভিন্ন তথ্যও বলছে, আমেরিকার কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু জাহাজ নিয়মিত এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে।
বিষয়টিকে ট্রাম্পের এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের মুখের মুচকি হাসিই প্রমাণ করে কথাটা তিনি খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। ভৌগোলিকভাবে এটি ইরান ও ওমানের আওতাধীন জলসীমা। মূলত প্রতিপক্ষকে খোঁচানো ট্রাম্পের একটি পরিচিত কৌশল, আর এবারও তিনি ইরানকে উত্যক্ত করতেই এসব কথা বলেছেন।

জবাবে ইরান যা বলেছে
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকির জবাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অলীক কল্পনা’ আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, এই প্রণালির ওপর কোনো মার্কিন কর্তৃত্ব মানা হবে না। সেই সঙ্গে জলপথটি আবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নতুন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে ইরান।
ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাবে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান প্রণালীটিকে ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে উল্লেখ করেন। একই কথা বলেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে, রণতরী পাঠিয়ে কিংবা নির্বাচনি মঞ্চে ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না। তিনি জানান, এ প্রণালি অতীতেও ইরানের ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কেবল ইরানের নির্দেশেই এটি খোলা বা বন্ধ করা হবে এবং আমেরিকা ভুল স্বীকার না করা পর্যন্ত তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে। এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধে তেহরান তাদের কূটনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল। এতদিন যেসব দাবি তারা যুদ্ধ থামানোর শর্ত হিসেবে রাখছিল, এখন কেবল আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই ছাড় চাইছে তারা।

ট্রাম্পের দাবি কি বাস্তবসম্মত
একতরফা ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো প্রণালি বা অন্য দেশের এলাকা নিজের করে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের একতিয়ারের বাইরে। আন্তর্জাতিক আইন তো বটেই, আমেরিকান সংবিধান অনুযায়ীও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনি বৈধতা নেই। এর আগেও তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করার কিংবা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার মতো বার্তা দিয়েছিলেন, যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি কোনো ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, তবে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট চুক্তি প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক শক্তিতে কোনো এলাকা দখল করাকে যুদ্ধাপরাধ বা আগ্রাসন হিসেবে ধরা হয়। সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ন্যাটালি ক্লেইন জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের ওপর আমেরিকার যেমন নিয়ন্ত্রণ ছিল, ঠিক তেমনি পুরো অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ট্রাম্পের এ দাবির আন্তর্জাতিক কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
ভৌগোলিকভাবেও হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একক অধিকার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলো তাদের সীমান্ত থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নিজেদের জলসীমা হিসেবে দাবি করতে পারে। ২১ নটিক্যাল মাইল চওড়া এই সংকীর্ণ পথটি ইরান ও ওমানের সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলপথ। এ আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোতে কোনো দেশই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, এসব বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প মূলত দেশের ভেতরের সমর্থকদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। একজন রিয়্যালিটি শো তারকা হিসেবে বড় বড় কথা বলা তার পুরানো অভ্যাস। তাই তার সব কথা আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার সুযোগ নেই। আইনি ও ভৌগোলিক কোনো দিক দিয়েই হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকার অংশে পরিণত করা সম্ভব নয়।
তবে এ ধরনের কথার মাধ্যমে ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন, দীর্ঘসময় ধরে চলা এ যুদ্ধে তিনি কোনোভাবেই ইরানের কাছে হার মানবেন না।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র কি হরমুজকে নিজেদের ভূখণ্ডে পরিণত করতে পারবে
সিজেডএন ডেস্ক

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিকে খুব শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ট্রাম্পের এ হুমকি পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
জুনে দুই পক্ষের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ রবিবার (১৬ আগস্ট) শেষ হতে যাচ্ছে। তার আগেই দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে । অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও সামরিক নৌবহর দিয়ে ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে রেখে তাদের অর্থনীতিকে আরও সংকুচিত করার পথ বেছে নিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সুর ও সামরিক হুমকি এক অদ্ভুত ধরণ মেনে চলেছে। তিনি বারবার ইরানে বড় ধরনের হামলার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে পিছিয়ে যান। তেহরানের সঙ্গে চলমান এ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে ট্রাম্প নিজেই ‘দাবার খেলা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে শেষ পর্যন্ত কে আগে পিছু হটে, তা দেখাটাই এখন মূল বিষয়। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও বাস্তবতার নিরিখে প্রশ্ন উঠছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই কি বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক পথকে নিজেদের অংশ বানিয়ে নিতে পারে?

ট্রাম্প যা বলেছেন
ইরানকে পরাজিত করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড বানানের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের এক পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান এখন চরম কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে, খুব শিগগিরই এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
নৌ অবরোধকে নির্দেশ করে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই আমেরিকার অধীনে চলে এসেছে। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী চারপাশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে ঢুকতেই পারবে না।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কিছুটা অমিল দেখা গেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলপথটি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। এমনকি সামুদ্রিক নেভিগেশনের বিভিন্ন তথ্যও বলছে, আমেরিকার কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু জাহাজ নিয়মিত এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে।
বিষয়টিকে ট্রাম্পের এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের মুখের মুচকি হাসিই প্রমাণ করে কথাটা তিনি খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। ভৌগোলিকভাবে এটি ইরান ও ওমানের আওতাধীন জলসীমা। মূলত প্রতিপক্ষকে খোঁচানো ট্রাম্পের একটি পরিচিত কৌশল, আর এবারও তিনি ইরানকে উত্যক্ত করতেই এসব কথা বলেছেন।

জবাবে ইরান যা বলেছে
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকির জবাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অলীক কল্পনা’ আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, এই প্রণালির ওপর কোনো মার্কিন কর্তৃত্ব মানা হবে না। সেই সঙ্গে জলপথটি আবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নতুন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে ইরান।
ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাবে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান প্রণালীটিকে ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে উল্লেখ করেন। একই কথা বলেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে, রণতরী পাঠিয়ে কিংবা নির্বাচনি মঞ্চে ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না। তিনি জানান, এ প্রণালি অতীতেও ইরানের ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কেবল ইরানের নির্দেশেই এটি খোলা বা বন্ধ করা হবে এবং আমেরিকা ভুল স্বীকার না করা পর্যন্ত তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে। এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধে তেহরান তাদের কূটনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল। এতদিন যেসব দাবি তারা যুদ্ধ থামানোর শর্ত হিসেবে রাখছিল, এখন কেবল আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই ছাড় চাইছে তারা।

ট্রাম্পের দাবি কি বাস্তবসম্মত
একতরফা ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো প্রণালি বা অন্য দেশের এলাকা নিজের করে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের একতিয়ারের বাইরে। আন্তর্জাতিক আইন তো বটেই, আমেরিকান সংবিধান অনুযায়ীও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনি বৈধতা নেই। এর আগেও তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করার কিংবা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার মতো বার্তা দিয়েছিলেন, যা বাস্তবে কখনোই সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি কোনো ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, তবে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট চুক্তি প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক শক্তিতে কোনো এলাকা দখল করাকে যুদ্ধাপরাধ বা আগ্রাসন হিসেবে ধরা হয়। সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ন্যাটালি ক্লেইন জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের ওপর আমেরিকার যেমন নিয়ন্ত্রণ ছিল, ঠিক তেমনি পুরো অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ট্রাম্পের এ দাবির আন্তর্জাতিক কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
ভৌগোলিকভাবেও হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একক অধিকার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলো তাদের সীমান্ত থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নিজেদের জলসীমা হিসেবে দাবি করতে পারে। ২১ নটিক্যাল মাইল চওড়া এই সংকীর্ণ পথটি ইরান ও ওমানের সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলপথ। এ আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোতে কোনো দেশই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, এসব বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প মূলত দেশের ভেতরের সমর্থকদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। একজন রিয়্যালিটি শো তারকা হিসেবে বড় বড় কথা বলা তার পুরানো অভ্যাস। তাই তার সব কথা আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার সুযোগ নেই। আইনি ও ভৌগোলিক কোনো দিক দিয়েই হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকার অংশে পরিণত করা সম্ভব নয়।
তবে এ ধরনের কথার মাধ্যমে ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন, দীর্ঘসময় ধরে চলা এ যুদ্ধে তিনি কোনোভাবেই ইরানের কাছে হার মানবেন না।
সূত্র: আল জাজিরা








