শিরোনাম

ক্ষয়ক্ষতির পর আলোচনায় বসতে আগ্রহী তালেবান

সিটিজেন ডেস্ক
ক্ষয়ক্ষতির পর আলোচনায় বসতে আগ্রহী তালেবান
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে পাহারায় থাকা এক পাকিস্তানি সেনা ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা ও চলমান সংঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান শাসকেরা।

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কাতারের জুনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। টেলিফোনে মুত্তাকি জানিয়েছেন, আফগানিস্তান বরাবরই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে যেকোনো সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদও নমনীয় সুরে বলেছেন, বর্তমান সংকট নিরসনে যুদ্ধের চেয়ে সংলাপকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তবর্তী তোরখাম সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় তালেবান নিরাপত্তাকর্মীরা ছবি: এএফপি
আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তবর্তী তোরখাম সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় তালেবান নিরাপত্তাকর্মীরা ছবি: এএফপি

গত কয়েক দিনে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনার পর এ সমঝোতার প্রস্তাব এল।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিযানে আফগান বাহিনীর ২৯৭ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের ৮৯টি সেনা চৌকি এবং ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির ২৯টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া চলমান সংঘাতে ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ২৭ সেনা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইরান, চীন ও রাশিয়ার মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।

এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধ মেটাতে প্রজ্ঞা ও সংযমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধগুলোর সমাধান করতে হবে।

এছাড়া, দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও আস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আরব আমিরাত প্রস্তুত রয়েছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।

জর্ডান বলেছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ঘটনা উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। লড়াই বন্ধে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও সমর্থন জানানোর কথা উল্লেখ করেছে দেশটি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ আল মাজালি এক বিবৃতিতে বলেন, বিরোধ ও সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নেওয়া সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জর্ডান সমর্থন করে।

মুখপাত্র আরও বলেন, জর্ডান সংযম প্রদর্শন, সংলাপ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও প্রতিবেশী দেশের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

/এমআর/