শিরোনাম

২৫তম সংশোধনী কী, ট্রাম্পকে অপসারণে কতটা কার্যকর

সিটিজেন ডেস্ক
২৫তম সংশোধনী কী, ট্রাম্পকে অপসারণে কতটা কার্যকর
ইনসেটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের দাবিতে আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের কথা বলছেন। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

২৫তম সংশোধনী কী?

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত হয়। ১৯৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পর এই সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার নির্ধারণ এবং তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এটি অতীতে এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়েছে, যখন কোনো রাষ্ট্রপতিকে স্বাস্থ্যগত কারণে সাময়িকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হয়েছে।

২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রথমবারের মতো এই সংশোধনীর ৩য় ধারা ব্যবহার করে কোলনোস্কপি (অজ্ঞান অবস্থায় চিকিৎসা) নেওয়ার সময় সাময়িকভাবে ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির কাছে হস্তান্তর করেন। পাঁচ বছর পর একই ধরনের চিকিৎসার সময় তিনি আবারও একই পদক্ষেপ নেন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রিগান গুলিবিদ্ধ হলেও তখন এই সংশোধনী প্রয়োগ করা হয়নি। পরে ১৯৮৫ সালে কোলনের পলিপ অপসারণের অস্ত্রোপচারের সময় তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের কাছে সাময়িকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করেননি।

রিগান সে সময় বলেছিলেন, যদিও তিনি সংশোধনীটি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, তবুও তার মতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে এর প্রয়োগের উদ্দেশ্য ছিল না। সংশোধনীটি নিয়ে জন ডি ফিরিকের লেখা একটি বই অনুযায়ী, সে সময় বুশ প্রায় আট ঘণ্টা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ধারা ৪ কী, এর মাধ্যমে কি ট্রাম্পকে অপসারণ করা যাবে?

ট্রাম্পকে ঘিরে ২৫তম সংশোধনীর আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে চতুর্থ ধারা। কারণ এই ধারা এমন পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে যেখানে একজন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অক্ষম কিন্তু স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন না।

চতুর্থ ধারা অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যকে একসঙ্গে ঘোষণা দিতে হবে যে ট্রাম্প রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে অক্ষম। এর মাধ্যমে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা যেতে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাম্প পরবর্তীতে যেকোনো সময় নিজেকে সক্ষম ঘোষণা করে দায়িত্বে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারেন। তবে পেন্স ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি ৪ দিনের মধ্যে সেই দাবির বিরোধিতা করেন, তাহলে বিষয়টি কংগ্রেসে গড়ায়।

সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ট্রাম্পকে অক্ষম ঘোষণা করলে পেন্সই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।

এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার আলোচনা কতদূর অগ্রসর হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ ফ্র্যাঙ্ক বোম্যান বলেন, ২৫তম সংশোধনীর ইতিহাস থেকে বোঝা যায় এটি মূলত শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম রাষ্ট্রপতিদের জন্য প্রণীত।

তিনি বলেন, এই সংশোধনীটি প্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ পেন্স তা করতে চাইবেন না। অন্যদিকে ট্রাম্প দায়িত্ব পালনে অক্ষম নন, বরং পদের জন্য অযোগ্য, এমন জোরালো যুক্তিও আছে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এরিক হ্যাম মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র রক্ষায় কংগ্রেসের উচিত ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানো, কারণ পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/