শিরোনাম

বিশ্বে অপ্রিয় দেশের তালিকায় শীর্ষে ইসরায়েল

সিটিজেন ডেস্ক
বিশ্বে অপ্রিয় দেশের তালিকায় শীর্ষে ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এক চাঞ্চল্যকর বৈশ্বিক জনমত জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে আলোচিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইসরায়েল। নিরা ডেটা পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, গাজায় পরিচালিত সামরিক অভিযান এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে বিশ্বজুড়ে দেশটির ভাবমূর্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। একইসঙ্গে জরিপে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হিসেবে উঠে এসেছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের নাটকীয় অবনতি, যা দেশটিকে বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার দৌড়ে রাশিয়া ও চীনের চেয়েও অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে।

১২৯টি দেশ এবং তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর পরিচালিত এ বিশদ গবেষণায় ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার মতামতের ভিত্তিতে নেতিবাচক অবস্থানের তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান এবং ইরান। বিপরীতে বিশ্বের মানুষের কাছে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির পাঁচটি দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন এবং ইতালি। মূলত গাজায় চলমান গণহত্যা, ফিলিস্তিনিদের গণউচ্ছেদ, পরিকল্পিত দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির নীতি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে ইসরাইলের গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি ধসে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের ক্রমাগত সতর্কবার্তা এ নেতিবাচক অবস্থানে বড় প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

জরিপটির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ওয়াশিংটনের অবস্থানের চরম পতন। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচটি দেশের একটি হলো আমেরিকা। ২০২৪ সালে দেশটির নেট পারসেপশন স্কোর ছিল +২২ শতাংশ, যা দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট কমে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েছে -১৬ শতাংশে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বৈদেশিক নীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক, চড়া শুল্ক আরোপ এবং ইউক্রেন সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়গুলো এ অবনতির মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলকে আমেরিকার নিরবচ্ছিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন বৈশ্বিক জনমতে দেশটিকে দায়মুক্তি ও অস্থিতিশীল যুদ্ধের সমার্থক করে তুলেছে। বিশ্বের বৃহত্তম বার্ষিক গণতান্ত্রিক জরিপে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিক সরাসরি অংশ নিয়ে তাদের নিজ দেশের বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে মতামত দিয়েছেন, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

/এমএকে/