শিরোনাম

আমাদের দেশটা ধ্বংস হয়ে যাবে: ইরানি তরুণ

সিটিজেন ডেস্ক
আমাদের দেশটা ধ্বংস হয়ে যাবে:  ইরানি তরুণ
হামলার পর কারাজ সেতু থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান ইন্টারনেট বিপর্যয়ের কারণে বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। এর মধ্যেও কেউ কেউ চরম ঝুঁকি ও উচ্চমূল্য দিয়ে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। তবে দেশটিতে স্টারলিংক ব্যবহার বা কাছে রাখার অপরাধে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

কঠিন এ পরিস্থিতির মধ্যে যারা বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের কথায় বর্তমান ইরান সরকার বিরোধী তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি সম্প্রতি কারাজ শহরের একটি সেতুতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে।

যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এমন প্রায় সকলেই বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে কারাজ শহরের সেতুতে হামলার ঘটনা সাধারণ নাগরিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। তেহরানের বাসিন্দা বিশোর্ধ্ব এক তরুণী কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার অসহায়ত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, 'আমি চরম অসহায় বোধ করছি। ট্রাম্প নির্লজ্জের মতো আমাদের সেতুতে হামলার কথা পোস্ট করছেন। আমি জানি না পরিস্থিতি আর কতদূর গড়াবে। কেউ কেন তাকে বাধা দিচ্ছে না? তিনি সত্যিই আমাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।'

দেশের এ পরিস্থিতিতে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন তেহরানের আরেক তরুণ বাসিন্দা। তিনি বলেন, 'আমাদের দেশটি শেষ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। আমি সবচেয়ে বেশি হতাশ ও ব্যথিত এই কারণে যে, চোখের সামনে নিজের দেশকে ধ্বংস হতে দেখছি অথচ কিছুই করতে পারছি না। প্রতিদিন আমার দেশ একটু একটু করে ধ্বংস হচ্ছে।'

অন্যদিকে, যারা নিজেদের যুদ্ধ-সমর্থক বলে দাবি করেন, তারাও সেতু হামলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারাজের বিশোর্ধ্ব এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, 'সেতুটি শহরের যানজট কমাতে পারত, অথচ দ্বিতীয় আঘাতেই তা ধ্বংস হয়ে গেল। এ হামলা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা সেতুতে আঘাত হানল।' তেহরানের চল্লিশোর্ধ্ব আরেক যুদ্ধ-সমর্থক নারী বলেন, 'সেতুতে আঘাত হানার বিষয়টি আমাকে সত্যিই অবাক করেছে, তবে আমি মনে করি এর পেছনে নিশ্চয়ই তাদের কোনো কারণ রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/