শিরোনাম

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং

সিটিজেন ডেস্ক
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিক রূপ দিলেন তিনি। ৫৯৪ সদস্যের পার্লামেন্টে ২৯৩ জন সংসদ সদস্যের ভোট পেয়ে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন এই সেনা কর্মকর্তা।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদটি নিজের দখলে নেওয়ার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল হ্লাইংয়ের। গত ডিসেম্বরে ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত একতরফা সাধারণ নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) ৮০ শতাংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া পার্লামেন্টে আগে থেকেই এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় তার এ বিজয় ছিল অনেকটাই সুনিশ্চিত। পশ্চিমা দেশগুলো ও বিশ্লেষকরা শুরু থেকেই এ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের মোড়কে এক প্রহসন বলে আখ্যায়িত করে আসছেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গত সোমবার দীর্ঘদিনের অনুগত সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন ও-কে সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন হ্লাইং। মূলত ২০১১ সাল থেকে তিনি নিজেই এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পোশাক ছেড়ে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পদক্ষেপটি মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ‘বেসামরিক সরকারের’ তকমা লাগিয়ে নিজেদের বৈধতা আদায়ের একটি কৌশল মাত্র। এর মধ্য দিয়ে গত ৬ দশকের মধ্যে অন্তত ৫ দশক ধরে চলা সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ শাসনের স্বার্থই সুরক্ষিত হলো।

একদিকে রাজধানীতে ক্ষমতার পালাবদল চললেও মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং সামরিক স্বৈরাচারকে পুরোপুরি নির্মূল করে একটি ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সু চির দলের একাংশ এবং বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো চলতি সপ্তাহেই নতুন একটি সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করেছে। তবে হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সক্ষম হয়, তবে আগামীতে প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরও কঠিন ও তীব্র চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/