শিরোনাম

পরমাণু সম্মেলনে অংশ নিতে বাধা: ইরানের নিন্দা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পরমাণু সম্মেলনে অংশ নিতে বাধা: ইরানের নিন্দা
ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন চলাকালে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম দেখছেন প্রতিনিধিরা

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বার্ষিক সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধানকে অংশ নিতে না দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অধিকারের ওপর এটি একটি ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে দাবি করেছে দেশটি।

আইএইএ-র সাধারণ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বলেছেন, ‘আমাদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি সংস্থাটির বৈঠকে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি কাঠামোর মূল ভাষা ও চেতনা উভয়েরই পরিপন্থী।’ মোহাম্মদ ইসলামিকে ভিসা না দেওয়ায় অস্ট্রিয়া স্বাগতিক দেশ হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তেহরান। এ ঘটনায় অস্ট্রিয়ার চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অস্ট্রিয়া দাবি করেছে, এ সিদ্ধান্তের পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। আইএইএ-তে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান এবনার জানিয়েছেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি নিষেধাজ্ঞা কমিটি ইসলামির ওপর থাকা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কারণে তারা তাকে ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য হননি।

আন্তর্জাতিক সংস্থার আয়োজক দেশ হিসেবে অস্ট্রিয়া সাধারণত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আবেদন জানাতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ ওই জাতিসংঘের কমিটির হাতে। এদিকে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভিয়েনায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানভ। তিনি মন্তব্য করেছেন, অস্ট্রিয়া স্বাগতিক দেশের দায়িত্বের ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ করেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো ভিসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে হিসাব চুকানোর নোংরা খেলায় নেমেছে।

গত বছর ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির উদ্যোগে কার্যকর হয় ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর জাতিসংঘের পুরোনো নিষেধাজ্ঞাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হয়। তবে ইরান, রাশিয়া ও চীন এ নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধতা মানে না।

ভিয়েনায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রেস্টন ওয়েলস গ্রিফিথ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আপত্তি তোলায় জাতিসংঘের কমিটি অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে দেয়। তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিজনিত চ্যালেঞ্জগুলোর কূটনৈতিক সমাধানের ওপর আমরা গুরুত্ব দিলেও, পারমাণবিক সুরক্ষা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ সহযোগিতা ছাড়া জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে ভ্রমণের অনুমতি আমরা দিতে পারি না।’

গত বছর জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তেহরান। এর ফলে অস্ত্র-প্রস্তুতির উপযোগীর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া প্রায় ৪৪০.৯ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করাও আইএইএ-র পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

পশ্চিমা দেশগুলোর জোরালো ধারণা, ইরানের কাছে থাকা গোপন ইউরেনিয়ামের অবশিষ্টাংশ ২০০৩ সাল পর্যন্ত চলা তাদের গোপন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বাস্তব প্রমাণ। যদিও তেহরান শুরু থেকেই এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।

সূত্র: এপি

/এমএকে/