দুই মাসেও কাটেনি মিরপুরের পানি সংকট, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

দুই মাসেও কাটেনি মিরপুরের পানি সংকট, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
মো. ইমরান হোসেন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে চলছে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ। স্বল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি দেখা দিলে মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে। তবে সূর্যের কড়া রোদে আবার তা রূপ নেয় বিষাদে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে প্রায় দুই মাস ধরে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। তবে কিছু জায়গায় এই সমস্যার সমাধান হলেও এখনো অনেক জায়গায় সংকট রয়ে গেছে। ফলে ওয়াসার গাড়ির পানি কিনতে হচ্ছে ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের।
এদিকে ওয়াসার পানি চাহিদা ও সময় মতো সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায় না। ওয়াসার গাড়িচালক ও সহকারীদের গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত ২০০-৪০০ টাকা দিলেই কেবল পানি পাচ্ছেন এলাকাবাসী। অতিরিক্ত টাকা না দিলে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও পানি পান না তারা। বিষয়টি ওয়াসাকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তাদের অভিযোগ, ওয়াসার কর্মীরা হয়তো ইচ্ছে করেই পানির সংকট দূর না করে তা জিইয়ে রেখেছেন।
তবে ঢাকা ওয়াসার দাবি, সার্বিকভাবে পানি সরবরাহে ঘাটতি নেই। তবে এলাকাভিত্তিক কিছু জায়গায় সাময়িক সমস্যা রয়েছে। মূলত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পানি উত্তোলনে গতি কম, অতিরিক্ত গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা ওয়াসার আওতায় থাকা কয়েকটি এলাকাতে কমবেশি পানির সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর ১১নং সেক্টরে ওয়াসা মোডস জোন ১০-এর আওতায় ২ ও ৪নং পাম্পের কয়েকটি এলাকায় পানি সংকট একটু বেশি।
মিরপুরের ১১নং সেক্টর বি ব্লক রোডের পাম্পে পানি নিতে এসে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর না পেয়ে টানা মোটরের সহায়তায় পানি নিতে দেখা যায় এলাকাবাসীকে।
পানির সংকটের বিষয়ে মিরপুর এলাকার ১১নং সেক্টরের বাসিন্দা আলিফ বলেন, ‘এই এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে পানির সংকট চলছে। ১১নং সেক্টরের চারটি পাম্প আছে। তবে সবগুলো পাম্পে প্রায় সময়ই পানির চাপ বা গতি কম থাকে। তার মধ্যে একটি পাম্পের পানি চাপ নেই বললেই চলে। এজন্য পাম্পটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা বাইজিদ বলেন, ‘লাইনের পানিতে জীবাণু থাকে। ফুটিয়ে খেতে হয়। তাই আমি ওয়াসার পানির বুথ থেকে কিনে খাই।’
বি ব্লকের ক্যাম্পের বাসিন্দা রিয়াজ বলেন, ‘গত দুই মাস আগে থেকেই আমাদের এলাকায় পানির সংকট। এখনো সংকট কাটেনি। লাইনে পানির চাপ থাকে না বললেই চলে। বিশেষ করে বড় বড় ভবনে যারা বসবাস করে তাদের ভোগান্তি বেশি। লাইনে চাপ কম থাকলে ৭/৮ তলা ভবনের মোটরে চাপ নিতে পারে না। এতে ওয়াসার গাড়ি থেকে পানি কিনতে হয় বাসিন্দাদের।’
আরেক বাসিন্দা শামিম হোসেন বলেন, ‘সারাদিন টানামোটর দিয়ে পানি উঠানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ চলার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। এমন সমস্যার জন্য দুই দিন পরপর পানির ট্যাংকের গাড়ির ডিমান্ড (প্রতি গাড়ি ৬০০, ৪০০ ও ৩০০ টাকা) দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য সমাধানের চেষ্টা করি। অনেক সময় ওয়াসার গাড়িচালক ও সহকারীদের গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত ২০০-৪০০ টাকা দিলেই কেবল পানি পাচ্ছেন বাসিন্দারা। ওয়াসার কর্মীরা হয়তো ইচ্ছে করেই পানির সংকট দূর না করে তা জিইয়ে রেখেছেন।’
বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার মডস জোন-১০ এর সহকারী প্রকৌশলী এম এম গোলাম আজম বলেন, ‘শুধু ১১নং সেক্টর নয়, পুরো মিরপুরে পানির টুকটাক সমস্যা রয়েছে। সংকট নিরসনে আমরা (ওয়াসা) কাজ করছি। পানির ট্যাংকারের গায়ে বড় অক্ষরে মূল্য লেখা থাকে। ৬০০, ৪০০ বা ৩০০ টাকা-যে মূল্য লেখা আছে, সেটিই পরিশোধ করার কথা। ৮০০ বা ৯০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি নিজের সুবিধার জন্য সিরিয়ালের আগে পানি পাওয়ার উদ্দেশ্যে কাউকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।’
ওয়াসার মডস জোন-১০ এর আরেক সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মিরপুরের এসব এলাকায় মূলত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এজন্য ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে চাপ কম। অন্যদিকে অতিরিক্ত গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, মিরপুরের এই এলাকার পানির লাইন নদী থেকে আসে না। মাটির গভীরে নিচে পাইপ বসিয়ে পাম্প থেকে উত্তোলন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পাম্প বসানোর কয়েক বছর পরে পানির লেয়ার নিচে নেমে যায়। এতে পানির সংকট সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী ও ওয়াসার সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা চেষ্টা করছি নতুন করে পাম্প বসানোর। এতে সংকট কমে আসবে বলে আশা করছি।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে চলছে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ। স্বল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি দেখা দিলে মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে। তবে সূর্যের কড়া রোদে আবার তা রূপ নেয় বিষাদে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে প্রায় দুই মাস ধরে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। তবে কিছু জায়গায় এই সমস্যার সমাধান হলেও এখনো অনেক জায়গায় সংকট রয়ে গেছে। ফলে ওয়াসার গাড়ির পানি কিনতে হচ্ছে ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের।
এদিকে ওয়াসার পানি চাহিদা ও সময় মতো সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায় না। ওয়াসার গাড়িচালক ও সহকারীদের গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত ২০০-৪০০ টাকা দিলেই কেবল পানি পাচ্ছেন এলাকাবাসী। অতিরিক্ত টাকা না দিলে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও পানি পান না তারা। বিষয়টি ওয়াসাকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তাদের অভিযোগ, ওয়াসার কর্মীরা হয়তো ইচ্ছে করেই পানির সংকট দূর না করে তা জিইয়ে রেখেছেন।
তবে ঢাকা ওয়াসার দাবি, সার্বিকভাবে পানি সরবরাহে ঘাটতি নেই। তবে এলাকাভিত্তিক কিছু জায়গায় সাময়িক সমস্যা রয়েছে। মূলত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পানি উত্তোলনে গতি কম, অতিরিক্ত গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা ওয়াসার আওতায় থাকা কয়েকটি এলাকাতে কমবেশি পানির সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর ১১নং সেক্টরে ওয়াসা মোডস জোন ১০-এর আওতায় ২ ও ৪নং পাম্পের কয়েকটি এলাকায় পানি সংকট একটু বেশি।
মিরপুরের ১১নং সেক্টর বি ব্লক রোডের পাম্পে পানি নিতে এসে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর না পেয়ে টানা মোটরের সহায়তায় পানি নিতে দেখা যায় এলাকাবাসীকে।
পানির সংকটের বিষয়ে মিরপুর এলাকার ১১নং সেক্টরের বাসিন্দা আলিফ বলেন, ‘এই এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে পানির সংকট চলছে। ১১নং সেক্টরের চারটি পাম্প আছে। তবে সবগুলো পাম্পে প্রায় সময়ই পানির চাপ বা গতি কম থাকে। তার মধ্যে একটি পাম্পের পানি চাপ নেই বললেই চলে। এজন্য পাম্পটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা বাইজিদ বলেন, ‘লাইনের পানিতে জীবাণু থাকে। ফুটিয়ে খেতে হয়। তাই আমি ওয়াসার পানির বুথ থেকে কিনে খাই।’
বি ব্লকের ক্যাম্পের বাসিন্দা রিয়াজ বলেন, ‘গত দুই মাস আগে থেকেই আমাদের এলাকায় পানির সংকট। এখনো সংকট কাটেনি। লাইনে পানির চাপ থাকে না বললেই চলে। বিশেষ করে বড় বড় ভবনে যারা বসবাস করে তাদের ভোগান্তি বেশি। লাইনে চাপ কম থাকলে ৭/৮ তলা ভবনের মোটরে চাপ নিতে পারে না। এতে ওয়াসার গাড়ি থেকে পানি কিনতে হয় বাসিন্দাদের।’
আরেক বাসিন্দা শামিম হোসেন বলেন, ‘সারাদিন টানামোটর দিয়ে পানি উঠানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ চলার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। এমন সমস্যার জন্য দুই দিন পরপর পানির ট্যাংকের গাড়ির ডিমান্ড (প্রতি গাড়ি ৬০০, ৪০০ ও ৩০০ টাকা) দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য সমাধানের চেষ্টা করি। অনেক সময় ওয়াসার গাড়িচালক ও সহকারীদের গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত ২০০-৪০০ টাকা দিলেই কেবল পানি পাচ্ছেন বাসিন্দারা। ওয়াসার কর্মীরা হয়তো ইচ্ছে করেই পানির সংকট দূর না করে তা জিইয়ে রেখেছেন।’
বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার মডস জোন-১০ এর সহকারী প্রকৌশলী এম এম গোলাম আজম বলেন, ‘শুধু ১১নং সেক্টর নয়, পুরো মিরপুরে পানির টুকটাক সমস্যা রয়েছে। সংকট নিরসনে আমরা (ওয়াসা) কাজ করছি। পানির ট্যাংকারের গায়ে বড় অক্ষরে মূল্য লেখা থাকে। ৬০০, ৪০০ বা ৩০০ টাকা-যে মূল্য লেখা আছে, সেটিই পরিশোধ করার কথা। ৮০০ বা ৯০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি নিজের সুবিধার জন্য সিরিয়ালের আগে পানি পাওয়ার উদ্দেশ্যে কাউকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।’
ওয়াসার মডস জোন-১০ এর আরেক সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মিরপুরের এসব এলাকায় মূলত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এজন্য ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে চাপ কম। অন্যদিকে অতিরিক্ত গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, মিরপুরের এই এলাকার পানির লাইন নদী থেকে আসে না। মাটির গভীরে নিচে পাইপ বসিয়ে পাম্প থেকে উত্তোলন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পাম্প বসানোর কয়েক বছর পরে পানির লেয়ার নিচে নেমে যায়। এতে পানির সংকট সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী ও ওয়াসার সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা চেষ্টা করছি নতুন করে পাম্প বসানোর। এতে সংকট কমে আসবে বলে আশা করছি।

দুই মাসেও কাটেনি মিরপুরের পানি সংকট, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
মো. ইমরান হোসেন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে চলছে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ। স্বল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি দেখা দিলে মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে। তবে সূর্যের কড়া রোদে আবার তা রূপ নেয় বিষাদে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে প্রায় দুই মাস ধরে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। তবে কিছু জায়গায় এই সমস্যার সমাধান হলেও এখনো অনেক জায়গায় সংকট রয়ে গেছে। ফলে ওয়াসার গাড়ির পানি কিনতে হচ্ছে ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের।
এদিকে ওয়াসার পানি চাহিদা ও সময় মতো সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায় না। ওয়াসার গাড়িচালক ও সহকারীদের গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত ২০০-৪০০ টাকা দিলেই কেবল পানি পাচ্ছেন এলাকাবাসী। অতিরিক্ত টাকা না দিলে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও পানি পান না তারা। বিষয়টি ওয়াসাকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তাদের অভিযোগ, ওয়াসার কর্মীরা হয়তো ইচ্ছে করেই পানির সংকট দূর না করে তা জিইয়ে রেখেছেন।
তবে ঢাকা ওয়াসার দাবি, সার্বিকভাবে পানি সরবরাহে ঘাটতি নেই। তবে এলাকাভিত্তিক কিছু জায়গায় সাময়িক সমস্যা রয়েছে। মূলত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পানি উত্তোলনে গতি কম, অতিরিক্ত গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা ওয়াসার আওতায় থাকা কয়েকটি এলাকাতে কমবেশি পানির সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর ১১নং সেক্টরে ওয়াসা মোডস জোন ১০-এর আওতায় ২ ও ৪নং পাম্পের কয়েকটি এলাকায় পানি সংকট একটু বেশি।
মিরপুরের ১১নং সেক্টর বি ব্লক রোডের পাম্পে পানি নিতে এসে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর না পেয়ে টানা মোটরের সহায়তায় পানি নিতে দেখা যায় এলাকাবাসীকে।
পানির সংকটের বিষয়ে মিরপুর এলাকার ১১নং সেক্টরের বাসিন্দা আলিফ বলেন, ‘এই এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে পানির সংকট চলছে। ১১নং সেক্টরের চারটি পাম্প আছে। তবে সবগুলো পাম্পে প্রায় সময়ই পানির চাপ বা গতি কম থাকে। তার মধ্যে একটি পাম্পের পানি চাপ নেই বললেই চলে। এজন্য পাম্পটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা বাইজিদ বলেন, ‘লাইনের পানিতে জীবাণু থাকে। ফুটিয়ে খেতে হয়। তাই আমি ওয়াসার পানির বুথ থেকে কিনে খাই।’
বি ব্লকের ক্যাম্পের বাসিন্দা রিয়াজ বলেন, ‘গত দুই মাস আগে থেকেই আমাদের এলাকায় পানির সংকট। এখনো সংকট কাটেনি। লাইনে পানির চাপ থাকে না বললেই চলে। বিশেষ করে বড় বড় ভবনে যারা বসবাস করে তাদের ভোগান্তি বেশি। লাইনে চাপ কম থাকলে ৭/৮ তলা ভবনের মোটরে চাপ নিতে পারে না। এতে ওয়াসার গাড়ি থেকে পানি কিনতে হয় বাসিন্দাদের।’
আরেক বাসিন্দা শামিম হোসেন বলেন, ‘সারাদিন টানামোটর দিয়ে পানি উঠানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ চলার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। এমন সমস্যার জন্য দুই দিন পরপর পানির ট্যাংকের গাড়ির ডিমান্ড (প্রতি গাড়ি ৬০০, ৪০০ ও ৩০০ টাকা) দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য সমাধানের চেষ্টা করি। অনেক সময় ওয়াসার গাড়িচালক ও সহকারীদের গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত ২০০-৪০০ টাকা দিলেই কেবল পানি পাচ্ছেন বাসিন্দারা। ওয়াসার কর্মীরা হয়তো ইচ্ছে করেই পানির সংকট দূর না করে তা জিইয়ে রেখেছেন।’
বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার মডস জোন-১০ এর সহকারী প্রকৌশলী এম এম গোলাম আজম বলেন, ‘শুধু ১১নং সেক্টর নয়, পুরো মিরপুরে পানির টুকটাক সমস্যা রয়েছে। সংকট নিরসনে আমরা (ওয়াসা) কাজ করছি। পানির ট্যাংকারের গায়ে বড় অক্ষরে মূল্য লেখা থাকে। ৬০০, ৪০০ বা ৩০০ টাকা-যে মূল্য লেখা আছে, সেটিই পরিশোধ করার কথা। ৮০০ বা ৯০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি নিজের সুবিধার জন্য সিরিয়ালের আগে পানি পাওয়ার উদ্দেশ্যে কাউকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।’
ওয়াসার মডস জোন-১০ এর আরেক সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মিরপুরের এসব এলাকায় মূলত ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এজন্য ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে চাপ কম। অন্যদিকে অতিরিক্ত গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, মিরপুরের এই এলাকার পানির লাইন নদী থেকে আসে না। মাটির গভীরে নিচে পাইপ বসিয়ে পাম্প থেকে উত্তোলন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পাম্প বসানোর কয়েক বছর পরে পানির লেয়ার নিচে নেমে যায়। এতে পানির সংকট সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী ও ওয়াসার সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা চেষ্টা করছি নতুন করে পাম্প বসানোর। এতে সংকট কমে আসবে বলে আশা করছি।

ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে প্রগতি সরণিতে ভোগান্তি
বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই মিরপুরে ফুটওভার ব্রিজ সংস্কার, ঝুঁকিতে পথচারী







