শিরোনাম

জার্মানিকে হুঁশিয়ারি ইরানের

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
জার্মানিকে হুঁশিয়ারি ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও ইরানের পতাকা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে এবার জার্মানিকে হুঁশিয়ারি দিলো ইরান। সম্প্রতি জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের টোল বা সেবা ফি আরোপের বিরোধিতা করেন। একইসঙ্গে প্রণালিতে মাইন অপসারণের ব্যয় শেষ পর্যন্ত ইরানকেই বহন করতে হবে বলেও জানান তিনি। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সহযোগিতার বিনিময়ে তেহরানকে কোনো ধরনের প্রণোদনা দেওয়া উচিত নয়।

হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা অর্থ আদায় ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ওয়াডেফুল।

তার এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটা জার্মান সাহিত্যিক ইয়োহান ভলফগ্যাং ফন গ্যোটের ফাউস্ট নাটকের ‘মেফিস্টোফিলিস’ চরিত্রের প্রতারণাপূর্ণ বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে জার্মানির ভূমিকার জন্য বার্লিনকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাঘাই। সেইসঙ্গে এর দায়ও বহন করতে হবে বলে জানান তিনি। তার দাবি, আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে জার্মানি এই যুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা বা ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের দায় এড়াতে পারবে না।

হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ইরানের সার্বভৌম দায়িত্বের অংশ বলে দাবি করে আসছে ইরানি কর্মকর্তারা। বর্তমানে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ ইউনিট কৌশলগত এই জলপথে চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব একমাত্র ইরানের। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

তেহরান জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে তারা একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে সামুদ্রিক সেবা ফি আদায়ের সুযোগও রয়েছে। তেহরানের দাবি, এটি একটি বৈধ সার্বভৌম পদক্ষেপ। এ বিষয়ে ওমানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সমর্থন রয়েছে।

বিবৃতিতে ইরান আরও অভিযোগ করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানি নিষেধাজ্ঞা, সামরিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নীতির সঙ্গে একাত্ম ছিল। এখন যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ‘মাইন অপসারণ’ বা ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতের’ অজুহাতে নতুন করে ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তেহরান এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

দেশটির আঞ্চলিক জলসীমা ও নিরাপত্তা বিষয়ে পশ্চিমা শক্তির নির্দেশ দেওয়ার সময় শেষ বলে জানিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি ওয়াডেফুলের বক্তব্যকে পশ্চিমা বিশ্বের ‘দ্বৈত নীতির’ উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেছে দেশটি।

সূত্র: প্রেস টিভি

/জেএইচ/