শিরোনাম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চায় ইসরায়েল

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চায় ইসরায়েল
ইসরায়েল ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ইরান যুদ্ধ অবসানে চুক্তির বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে। বিবদমান দুই পক্ষই আলোচনার পরবর্তী দফার জন্য শিগগিরই পুনরায় বৈঠকে বসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মধ্যস্থতাকারীরা আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হতে যাওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছেন। যাতে কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে উভয় পক্ষই ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিতর্কিত বিষয় পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন এবিসি নিউজের প্রতিবেদক জোনাথন কার্ল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্প মনে করেন না যে এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। এর পরিবর্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দুই দিন আপনারা চমকপ্রদ কিছু দেখতে চলেছেন। আমি সত্যিই তাই মনে করি।’

কার্লের মতে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাতের অবসান হয় আলোচনার মাধ্যমে, নয়তো ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংসের মাধ্যমে শেষ হতে পারে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও স্থায়ী সমাধানের পক্ষে। তিনি বলেন, শুধু সীমিত চুক্তি নয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়েও বিস্তৃত সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস অনেক বেশি, তাই চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

/জেএইচ/