শিরোনাম

ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের খাবার, পানি ও চিকিৎসা দিচ্ছে না ইসরায়েল

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের খাবার, পানি ও চিকিৎসা দিচ্ছে না ইসরায়েল
ফিলিস্তিনি নারী বন্দিকে ধমক দেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভির

ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে খাবার, পানি ও চিকিৎসার ন্যূনতম সুবিধার অভাবে চরম কষ্টে থাকার কথা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি নারী বন্দিরা। কিন্তু এ ঘটনায় কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের শাসিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

একটি ভিডিওতে ডেমন কারাগারের ফিলিস্তিনি নারী বন্দিরা তাদের মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে চরম ক্ষোভ জানান। এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দি অভিযোগ করেন, আমরা তিন দিন ধরে গোসল করতে পারিনি। আমরা চিকিৎসা পাচ্ছি না এবং আমাদের পোশাকও পরিষ্কার নয়। বন্দিরা জানান, নারী হিসেবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক স্যানিটেশন, পর্যাপ্ত পানি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা টুকুও দেওয়া হচ্ছে না।

তবে বন্দিদের এমন দুর্দশার কথা শুনে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত না হয়ে উল্টো ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন বেন-গভির। উল্টো বন্দিদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের কারাগারে বন্দিদের আগের মতো ভালো পরিস্থিতি আর নেই এবং আমি নিজেই এর জন্য সরাসরি দায়ী। কারাগারে ভালো পরিস্থিতির দিন শেষ। এখন এটাই বাস্তবতা এবং এর জন্য আমি সরাসরি দায়ী। এই পরিস্থিতিতে আমি সন্তুষ্ট।’

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি মন্ত্রী ফিলিস্তিনি বন্দিদের হাহাকার নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা একেবারেই ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং এটি করতে পেরে তিনি গর্বিত।

বেন-গভিরের এমন কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষসহ বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বন্দিবিষয়ক কমিশন এই আচরণকে ‘বর্বরতা, ঘৃণা ও বর্ণবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাব অভিযোগ করেছে, নারী বন্দিদের বন্দিদশার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়া তাদের মানবিক মর্যাদার ওপর নগ্ন আঘাত।

তবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে এই চরম ডানপন্থী মন্ত্রীর এমন উদ্ধত আচরণ এবারই প্রথম নয়। চলতি মাসের শুরুতেও এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দি খাবার ও পানির নিম্নমান নিয়ে আপত্তি জানালে বেন-গভির বলেছিলেন, খাবার ভালো হওয়া উচিত নয়। এটা কোনো হোটেল নয়। ২০২২ সালের শেষের দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনি বন্দিদের জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর করতে একের পর এক বিতর্কিত ও কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/