শিরোনাম

‘আগে ফ্রিজ ভরা মাছ থাকতো, এখন পুরো ফাঁকা’

মো. ইমরান হোসেন
মো. ইমরান হোসেন
‘আগে ফ্রিজ ভরা মাছ থাকতো, এখন পুরো ফাঁকা’
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ক্রেতাদের অপেক্ষায় মাছ বিক্রেতারা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

মাসের শেষে এসে পকেটে বাজার করার টাকা নেই। আগে ফ্রিজ ভরা মাছ থাকতো। এখন দাম বেশি, তাই ফ্রিজ ফাঁকা। মাছ কিনতে গিয়েই টাকা শেষ, অন্য কিছু কিনতে পারলাম না। বাজার করতে এসে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রেতারা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও কাপ্তান বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছের বাজারে ক্রেতাদের কিছুটা ভিড় থাকলেও অন্যান্য বাজারে সুনসান নীরবতা। ক্রেতা খুবই কম। বিক্রেতারা দোকানে বসে অলস সময় পার করছেন।

কারওয়ান বাজারে আসা প্রাইভেট কোম্পানির এক চাকরিজীবী বলেন, মাসের ৩১ তারিখ, এখনো বেতন পাইনি। ৫ তারিখের আগে বেতন পাবো কিনা সন্দেহ আছে।

তিনি বলেন, আগে বাসায় ফ্রিজ ভরা মাছ থাকতো। এখন পুরো ফাঁকা। হঠাৎ কোনো মেহমান এলে আলু ভর্তা আর ডাল-ভাত ছাড়া অন্য কিছু খাওয়ানো মুশকিল হয়ে যাবে। ছেলেমেয়েরা বড় মাছ খেতে পছন্দ করে, তাই হাতে অল্প যা টাকা ছিল তা দিয়েই কোনো রকমে মাছ কিনলাম।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্যের দোকানগুলোয় সুনসান নীরবতা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্যের দোকানগুলোয় সুনসান নীরবতা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ব্যাগ হাতে এক নারী মাছের বাজারে প্রায় আধা ঘণ্টা ঘুরছেন। তিনি কিনবেন লইট্যা মাছ। তার কাছে আছে ১৫০ টাকা। কিন্তু বেশিরভাগ দোকানে লইট্যা মাছের কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। হতাশ হয়ে তিনি মাছ না কিনে ডিম কেনেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন খারাপ করে চলে যান।

সবুজ আলম নামের এক ক্রেতা মাছ কেনার পর মুদির দোকানে যান। তবে প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে পারেননি। বাজার থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে তার সঙ্গে কথা হয়। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, মাসের শেষের এই সময়টাতে পরিবারের যোগান দেওয়া মুশকিল। বাসা থেকে বলেছে কিছু নদীর মাছ কিনতে। মাছ কিনেছি ঠিকই। কিন্তু তেল, ডাল ও মসলা কিনতে গিয়ে পকেট ফাঁকা। সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে।

কাপ্তান বাজারের এক ক্রেতা বলেন, বাসা থেকে যে তালিকা দিয়েছে, এর সব কিনতে হলে টাকা ধার করতে হবে। জিনিসপত্রের যে দাম, কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।

বিক্রেতারা জানান, প্রতিটি পণ্য তাদের আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর বিক্রি করছেন সীমিত লাভে।

/এফসি/