শিরোনাম

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি

ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক মিশনের অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠিয়েছে ইতালি। বুধবার (২০ মে) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত একটি বিশেষ জোটের অংশ হিসেবে ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে দুটি মাইনসুইপার জাহাজ ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে।

মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল এ জাহাজ দুটিকে চূড়ান্তভাবে মাইন অপসারণের কাজে নিয়োজিত করা হবে। কারণ, মাইন নিষ্ক্রিয় করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনার জন্য কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ও সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন।

ইতালি সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বা যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তি যেখানে এখনো অনেক দূরে, সেখানে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইতালীয় সামরিক জাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া হয়েছে। গাজা উপত্যকার দিকে অগ্রসরমান সাহায্যবাহী কনভয় নিউ ফ্রিডম ফ্লোটিলা জোটে থাকা একমাত্র ইতালীয় বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা দারিও ক্যারোটিনুতো এ বিষয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতালীয় সরকার এমন এক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের সহযোগী হয়ে উঠছে যার সাথে দেশের জনগণের স্বার্থের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান সংকটজনক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তোলে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান থেকে শুরু করে ভেনিজুয়েলা পর্যন্ত পশ্চিমা আধিপত্যবাদের মূলে রয়েছে কেবল সহিংসতা আর আগ্রাসন, এবং দুর্ভাগ্যবশত ইতালি সবসময় এ সহিংস শক্তির পক্ষাবলম্বন করে আসছে।

এদিকে, ইতালির মাইন অপসারণকারী জাহাজ দুটি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সিসিলির অগাস্টা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে আফ্রিকার জিবুতির পথে রয়েছে। তবে এ অঞ্চলে ইউরোপীয় সামরিক উপস্থিতিকে মোটেও সহজভাবে নিচ্ছে না ইরান। হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর যেকোনো সামরিক জাহাজ মোতায়েনের বিরুদ্ধে কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, এ কৌশলগত নৌ-পথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একক সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও অধিকার একমাত্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানেরই রয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

/এমএকে/