শিরোনাম

ইরানিদের দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানালো সিআইএ

ইরানিদের দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানালো সিআইএ
ইরানিদের গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ইরানের নাগরিকদের নিজ দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, সে সম্পর্কেও নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানিদের কাছে যদি মার্কিন সংস্থাটির জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য’ থাকে অথবা সিআইএর সঙ্গে কাজ করার মতো বিশেষ কোনো ‘দক্ষতা’ থাকে, তবে তাদের যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফারসি ভাষায় শেয়ার করা এক পোস্টে সিআইএ জানায়, ‘হ্যালো। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) আপনার কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে এবং আপনাকে সাহায্য করতে চায়। আমাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি নিরাপদে যোগাযোগ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিচে দেওয়া হলো।’

পোস্টটির সঙ্গে সিআইএর সঙ্গে যোগাযোগের উপায়-সংবলিত দুই মিনিটের একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে।

ভিডিওতে ইরানিরা কীভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন তার বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে অফিসের কম্পিউটার বা ফোন এড়িয়ে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) বা ‘টর’ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পোস্টটি এমন এক সময়ে করা হলো, যখন ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বিক্ষোভ চলছে। গত তিনদিন ধরে তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে না পৌঁছালে দেশটিকে সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি এবং ব্যাপক বিমান শক্তি মোতায়েনের ফলে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তেহরান আমেরিকানদের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব হস্তান্তর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প কূটনীতিকে প্রধান্য দিলেও সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি সব সময় খোলা রাখছেন।

এদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কেএএনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে মঙ্গলবার অন্তত ১২টি মার্কিন এফ-২২ ফাইটার জেট অবতরণ করেছে।

কেএএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মোতায়েনের অংশ হিসেবে ১২টি এফ-২২ জেট আজ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।’ এগুলো বিশ্বের সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানের মধ্যে অন্যতম। যার মূল কাজ শত্রু সীমানায় ঢুকা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা।

বর্তমান পরমাণু আলোচনার ব্যর্থতার আশঙ্কায় তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/জেএইচ/