আলোচনা ছাড়াই বুধবার শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, এরপর কী

আলোচনা ছাড়াই বুধবার শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, এরপর কী
মোসাদ্দেকুর রহমান
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৩০

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পতাকার গ্রাফিক্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার (২২ এপ্রিল) এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনাও ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।
মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা করবে, এমন পরিকল্পনা থাকলেও, তেহরান এখনো এতে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

সর্বশেষ পরিস্থিতি
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ইরানের জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ওই পথে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালায়।
সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করে। তেহরান এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের হুমকি দেয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান জানিয়ে দেয়, এমন পরিস্থিতিতে তারা আলোচনায় অংশ নিতে রাজি নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে চুক্তি না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজা মোহসেনি সানি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অগ্রহণযোগ্য’।

সামনে চারটি সম্ভাব্য পথ
এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আগামী কয়েক দিনের জন্য চারটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা কল্পনা করা যায়:
সফল আলোচনা, গোপন সমঝোতা
পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে আলোচনায় আনতে চেষ্টা করছে। মার্কিন দলের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচরদেরও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হতে পারে, যা যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খুলে দেবে।

সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো
চ্যাথাম হাউসের গবেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি মনে করেন, উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান এখনো অনেক। ফলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা কঠিন।
তবে, আলোচনায় বড় কোনো ফল না এলেও, কূটনৈতিক সুযোগ ধরে রাখতে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে পারে।
আলোচনা স্থগিত হলেও যুদ্ধবিরতি বহাল থাকতে পারে
ইরান যদি আলোচনায় অংশ না নেয়, তবুও শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি হবে অত্যন্ত নড়বড়ে পরিস্থিতি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আলী ভায়েজের ভাষায়, এটি ‘টেকসই শান্তি নয়, বরং সময়ক্ষেপণ’, যেখানে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

উভয়পক্ষের মধ্যে আবার তীব্র যুদ্ধ
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি হতে পারে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত আবার শুরু হতে পারে।
ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে ‘ব্যাপক বোমাবর্ষণ’ শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, গালিবফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরু হলে তা আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও, সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও সমানভাবে বিদ্যমান। আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা শান্তির পথে যাবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার (২২ এপ্রিল) এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনাও ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।
মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা করবে, এমন পরিকল্পনা থাকলেও, তেহরান এখনো এতে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

সর্বশেষ পরিস্থিতি
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ইরানের জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ওই পথে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালায়।
সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করে। তেহরান এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের হুমকি দেয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান জানিয়ে দেয়, এমন পরিস্থিতিতে তারা আলোচনায় অংশ নিতে রাজি নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে চুক্তি না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজা মোহসেনি সানি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অগ্রহণযোগ্য’।

সামনে চারটি সম্ভাব্য পথ
এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আগামী কয়েক দিনের জন্য চারটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা কল্পনা করা যায়:
সফল আলোচনা, গোপন সমঝোতা
পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে আলোচনায় আনতে চেষ্টা করছে। মার্কিন দলের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচরদেরও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হতে পারে, যা যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খুলে দেবে।

সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো
চ্যাথাম হাউসের গবেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি মনে করেন, উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান এখনো অনেক। ফলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা কঠিন।
তবে, আলোচনায় বড় কোনো ফল না এলেও, কূটনৈতিক সুযোগ ধরে রাখতে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে পারে।
আলোচনা স্থগিত হলেও যুদ্ধবিরতি বহাল থাকতে পারে
ইরান যদি আলোচনায় অংশ না নেয়, তবুও শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি হবে অত্যন্ত নড়বড়ে পরিস্থিতি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আলী ভায়েজের ভাষায়, এটি ‘টেকসই শান্তি নয়, বরং সময়ক্ষেপণ’, যেখানে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

উভয়পক্ষের মধ্যে আবার তীব্র যুদ্ধ
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি হতে পারে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত আবার শুরু হতে পারে।
ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে ‘ব্যাপক বোমাবর্ষণ’ শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, গালিবফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরু হলে তা আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও, সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও সমানভাবে বিদ্যমান। আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা শান্তির পথে যাবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে।

আলোচনা ছাড়াই বুধবার শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, এরপর কী
মোসাদ্দেকুর রহমান
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৩০

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পতাকার গ্রাফিক্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার (২২ এপ্রিল) এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনাও ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।
মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা করবে, এমন পরিকল্পনা থাকলেও, তেহরান এখনো এতে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

সর্বশেষ পরিস্থিতি
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ইরানের জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ওই পথে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালায়।
সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করে। তেহরান এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের হুমকি দেয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান জানিয়ে দেয়, এমন পরিস্থিতিতে তারা আলোচনায় অংশ নিতে রাজি নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে চুক্তি না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজা মোহসেনি সানি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অগ্রহণযোগ্য’।

সামনে চারটি সম্ভাব্য পথ
এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আগামী কয়েক দিনের জন্য চারটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা কল্পনা করা যায়:
সফল আলোচনা, গোপন সমঝোতা
পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে আলোচনায় আনতে চেষ্টা করছে। মার্কিন দলের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচরদেরও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হতে পারে, যা যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খুলে দেবে।

সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো
চ্যাথাম হাউসের গবেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি মনে করেন, উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান এখনো অনেক। ফলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা কঠিন।
তবে, আলোচনায় বড় কোনো ফল না এলেও, কূটনৈতিক সুযোগ ধরে রাখতে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে পারে।
আলোচনা স্থগিত হলেও যুদ্ধবিরতি বহাল থাকতে পারে
ইরান যদি আলোচনায় অংশ না নেয়, তবুও শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি হবে অত্যন্ত নড়বড়ে পরিস্থিতি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আলী ভায়েজের ভাষায়, এটি ‘টেকসই শান্তি নয়, বরং সময়ক্ষেপণ’, যেখানে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

উভয়পক্ষের মধ্যে আবার তীব্র যুদ্ধ
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি হতে পারে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত আবার শুরু হতে পারে।
ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে ‘ব্যাপক বোমাবর্ষণ’ শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, গালিবফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরু হলে তা আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও, সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও সমানভাবে বিদ্যমান। আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা শান্তির পথে যাবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে।
/এমআর/




