ইসরায়েল চুক্তি মেনে চলবে কি না সন্দিহান লেবানিজরা

ইসরায়েল চুক্তি মেনে চলবে কি না সন্দিহান লেবানিজরা
সিজেডএন ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময় এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করার কথা ছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সেটা ভেস্তে যেতে বসেছিল। অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহির হামলায় ৪ জন ইসরায়েলি সৈন্যও নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু পরে একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের বাহিনী তাৎক্ষণিক হুমকিগুলো দূর করা অব্যাহত রাখবে।
লেবাননের ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নাবাতিয়েহ শহরের উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১২টি বিমান হামলা হয়েছে।
এই প্রাণঘাতী উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও একটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে করা চুক্তির ভাগ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে নেই।
সমঝোতা স্মারকে লেবাননে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। যার ফলে তেহরান ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছে।
ট্রাম্প নিজেই তার মিত্র ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন অভিযোগ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছেন।
দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও সমস্যা তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বললেও ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইসরায়েলি সৈন্যদের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘লেবানন পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। একজন ইসরায়েলি মায়ের প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর জন্য ১,০০০ লেবানিজ মাকে কাঁদতে হবে’।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েলকে ‘স্থায়ী যুদ্ধ’ চাওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের দায় ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে’।
ট্রাম্পের চুক্তির সফলতা উভয় পক্ষের কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংযম প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু এর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত দলটি বলেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন যতদিন চলবে, তারাও হামলা চালিয়ে যাবে।
সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র এফি ডেফ্রিন বলেছেন, ইসরায়েল ‘তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করা, হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া এবং আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা অব্যাহত রাখবে’।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, ‘হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলিদের আমাদের ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সরে যেতে হবে।’
দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এই হামলায় গাইডেড মিসাইলের সাহায্যে তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করা হয় এবং রকেট ও কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে সৈন্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নিহত চার সৈন্যের মধ্যে একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ছিলেন।
এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার হারুফে ৯ জন, হাবুশে ৭ জন এবং আল-দুয়াইরে একজন শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নাবাতিয়েহ জেলাজুড়ে রাতভর চালানো বোমাবর্ষণকে ইসরায়েলের চালানো তীব্রতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির হলেও বাস্তুচ্যুত লেবানিজ জনগণের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। কারণ তারা সন্দিহান যে ইসরায়েল শান্তিচুক্তি মেনে চলবে কি না।
এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘চুক্তিটি ভালো এবং আমরা সবাই একটি চুক্তি চাই। কিন্তু ইসরায়েলিরা তা মেনে চলে না।’
‘তারা কতবার চুক্তি করেছে? একবারও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি’, বলেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘স্থায়ী শান্তি’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
লেবাননের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় অনুসারে, দেশটির রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রয়োজন। যার অধীনে লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হবে।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই লেবানন তাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা এক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বোমা হামলা শুরু করে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নেয়, যার লক্ষ্য ছিল উত্তর সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হটিয়ে দেওয়া।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে নারী ও শিশুসহ ৩,৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১১,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এর ফলে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক ডজন জনপদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময় এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করার কথা ছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সেটা ভেস্তে যেতে বসেছিল। অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহির হামলায় ৪ জন ইসরায়েলি সৈন্যও নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু পরে একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের বাহিনী তাৎক্ষণিক হুমকিগুলো দূর করা অব্যাহত রাখবে।
লেবাননের ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নাবাতিয়েহ শহরের উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১২টি বিমান হামলা হয়েছে।
এই প্রাণঘাতী উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও একটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে করা চুক্তির ভাগ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে নেই।
সমঝোতা স্মারকে লেবাননে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। যার ফলে তেহরান ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছে।
ট্রাম্প নিজেই তার মিত্র ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন অভিযোগ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছেন।
দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও সমস্যা তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বললেও ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইসরায়েলি সৈন্যদের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘লেবানন পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। একজন ইসরায়েলি মায়ের প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর জন্য ১,০০০ লেবানিজ মাকে কাঁদতে হবে’।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েলকে ‘স্থায়ী যুদ্ধ’ চাওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের দায় ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে’।
ট্রাম্পের চুক্তির সফলতা উভয় পক্ষের কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংযম প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু এর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত দলটি বলেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন যতদিন চলবে, তারাও হামলা চালিয়ে যাবে।
সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র এফি ডেফ্রিন বলেছেন, ইসরায়েল ‘তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করা, হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া এবং আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা অব্যাহত রাখবে’।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, ‘হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলিদের আমাদের ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সরে যেতে হবে।’
দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এই হামলায় গাইডেড মিসাইলের সাহায্যে তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করা হয় এবং রকেট ও কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে সৈন্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নিহত চার সৈন্যের মধ্যে একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ছিলেন।
এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার হারুফে ৯ জন, হাবুশে ৭ জন এবং আল-দুয়াইরে একজন শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নাবাতিয়েহ জেলাজুড়ে রাতভর চালানো বোমাবর্ষণকে ইসরায়েলের চালানো তীব্রতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির হলেও বাস্তুচ্যুত লেবানিজ জনগণের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। কারণ তারা সন্দিহান যে ইসরায়েল শান্তিচুক্তি মেনে চলবে কি না।
এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘চুক্তিটি ভালো এবং আমরা সবাই একটি চুক্তি চাই। কিন্তু ইসরায়েলিরা তা মেনে চলে না।’
‘তারা কতবার চুক্তি করেছে? একবারও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি’, বলেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘স্থায়ী শান্তি’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
লেবাননের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় অনুসারে, দেশটির রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রয়োজন। যার অধীনে লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হবে।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই লেবানন তাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা এক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বোমা হামলা শুরু করে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নেয়, যার লক্ষ্য ছিল উত্তর সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হটিয়ে দেওয়া।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে নারী ও শিশুসহ ৩,৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১১,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এর ফলে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক ডজন জনপদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি

ইসরায়েল চুক্তি মেনে চলবে কি না সন্দিহান লেবানিজরা
সিজেডএন ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময় এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করার কথা ছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সেটা ভেস্তে যেতে বসেছিল। অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহির হামলায় ৪ জন ইসরায়েলি সৈন্যও নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু পরে একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের বাহিনী তাৎক্ষণিক হুমকিগুলো দূর করা অব্যাহত রাখবে।
লেবাননের ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নাবাতিয়েহ শহরের উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১২টি বিমান হামলা হয়েছে।
এই প্রাণঘাতী উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও একটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে করা চুক্তির ভাগ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে নেই।
সমঝোতা স্মারকে লেবাননে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। যার ফলে তেহরান ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছে।
ট্রাম্প নিজেই তার মিত্র ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন অভিযোগ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছেন।
দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও সমস্যা তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বললেও ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইসরায়েলি সৈন্যদের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘লেবানন পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। একজন ইসরায়েলি মায়ের প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর জন্য ১,০০০ লেবানিজ মাকে কাঁদতে হবে’।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েলকে ‘স্থায়ী যুদ্ধ’ চাওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের দায় ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে’।
ট্রাম্পের চুক্তির সফলতা উভয় পক্ষের কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংযম প্রদর্শনের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু এর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত দলটি বলেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন যতদিন চলবে, তারাও হামলা চালিয়ে যাবে।
সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র এফি ডেফ্রিন বলেছেন, ইসরায়েল ‘তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করা, হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া এবং আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা অব্যাহত রাখবে’।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, ‘হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলিদের আমাদের ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সরে যেতে হবে।’
দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এই হামলায় গাইডেড মিসাইলের সাহায্যে তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করা হয় এবং রকেট ও কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে সৈন্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নিহত চার সৈন্যের মধ্যে একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ছিলেন।
এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার হারুফে ৯ জন, হাবুশে ৭ জন এবং আল-দুয়াইরে একজন শিশুসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নাবাতিয়েহ জেলাজুড়ে রাতভর চালানো বোমাবর্ষণকে ইসরায়েলের চালানো তীব্রতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির হলেও বাস্তুচ্যুত লেবানিজ জনগণের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। কারণ তারা সন্দিহান যে ইসরায়েল শান্তিচুক্তি মেনে চলবে কি না।
এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘চুক্তিটি ভালো এবং আমরা সবাই একটি চুক্তি চাই। কিন্তু ইসরায়েলিরা তা মেনে চলে না।’
‘তারা কতবার চুক্তি করেছে? একবারও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি’, বলেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘স্থায়ী শান্তি’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
লেবাননের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় অনুসারে, দেশটির রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রয়োজন। যার অধীনে লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হবে।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই লেবানন তাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা এক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বোমা হামলা শুরু করে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নেয়, যার লক্ষ্য ছিল উত্তর সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হটিয়ে দেওয়া।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে নারী ও শিশুসহ ৩,৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১১,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এর ফলে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক ডজন জনপদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল
লেবাননে ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করেছে ইরান
লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলা ‘চুক্তি ভেস্তে দিতে পারে’

