শিরোনাম

যৌন নিপীড়ন, অশালীন ভঙ্গিসহ নানা অভিযোগ ব্রিটিশ অভিনেতার বিরুদ্ধে

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
যৌন নিপীড়ন, অশালীন ভঙ্গিসহ নানা অভিযোগ ব্রিটিশ অভিনেতার বিরুদ্ধে

যৌন নিপীড়ন ও জনসমক্ষে অশালীন আচরণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নোয়েল ক্লার্ক। সম্প্রতি গোয়েন্দাদের জমা দেওয়া প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ব্রিটেনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশকে অভিযোগ গঠনের অনুমতি দিয়েছে।

‘ডক্টর হু’ খ্যাত এ তারকাকে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে লন্ডনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশের সেন্ট্রাল স্পেশালিস্ট ক্রাইম কমান্ডের উদ্যোগে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যদিও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ তখন গ্রেপ্তারের কারণ প্রকাশ না করলেও নেপথ্যে যে বড় ধরনের তদন্ত চলছিল, তা এখন স্পষ্ট। তল্লাশির প্রায় এক বছর পর অবশেষে তদন্তের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের পথ সুগম হলো।

ব্রিটিশ অভিনেতা নোয়েল ক্লার্ক
ব্রিটিশ অভিনেতা নোয়েল ক্লার্ক

এর আগে অবশ্য আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন ক্লার্ক। ২০২৫ সালের আগস্টে ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর বিরুদ্ধে করা এক মানহানির মামলায় হেরে যান তিনি। মূলত ২০২১ সালে গার্ডিয়ান এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০ জনের বেশি নারীর অভিযোগ তুলে ধরে ক্লার্কের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের খবর প্রকাশ করেছিল। এর প্রতিবাদে ক্লার্ক মানহানির মামলা করলেও ছয় সপ্তাহের দীর্ঘ বিচারে এক ডজনের বেশি নারী আদালতে উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত হয়রানির সাক্ষ্য দেন। ফলে মামলা হেরে গিয়ে উল্টো গার্ডিয়ানের আইনি খরচ বাবদ ৩০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৪০ লাখ ডলার) পরিশোধের নির্দেশ পান তিনি।

প্রসিকিউশনের এ সিদ্ধান্তের পর গার্ডিয়ান নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রধান সম্পাদক ক্যাথরিন ভিনার বলেন, ‘এই রায় নোয়েল ক্লার্কের আচরণের কারণে ভুক্তভোগী নারীদের জন্য একটি বিজয়।’ ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে যাওয়া কঠিন ও মানসিক চাপের বিষয়। তারপরও ২০ জনের বেশি নারী উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন এবং তারা ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করেননি।’ তবে শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এ অভিনেতা।

/এমএকে/