শিরোনাম

ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে রেকর্ড

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে আবারও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে নতুন করে সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিফিং দেবেন এমন খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও দিনের শেষভাগে তা কিছুটা কমে ১১৪ ডলারে নামে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর তেলের দামে এমন ঊর্ধ্বগতি আর দেখা যায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় দেশটির ওপর ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী’ বিমান হামলার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে সেখানে পদাতিক সেনা পাঠানোর পদক্ষেপও বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানে আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে এই পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর।

এদিকে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইরানে নতুন করে হামলা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামাতে পারে। শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্যপণ্যের দাম ও উড়োজাহাজের ভাড়াও আকাশচুম্বী হতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন গ্রাহকদের ওপর যেন না পড়ে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধের স্থায়িত্ব বাড়লে মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এরই মধ্যে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই গত বুধবার একদিনে ইসরায়েলে সাড়ে ৬ হাজার টন সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এসব সরঞ্জাম কার্গো জাহাজ ও সামরিক বিমানের মাধ্যমে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইফা ও আসোদ বন্দরে পৌঁছানো চালানে হাজার হাজার গোলাবারুদ, স্থল অস্ত্র, সামরিক ট্রাক, হালকা যুদ্ধযান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল। পরে এসব সামগ্রী ট্রাকে করে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানো হয়।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র আমির বারাম জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের সরঞ্জাম আনার প্রক্রিয়া আগামী কয়েকদিনেও চলবে এবং এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইসরায়েল, আল জাজিরা

/জেএইচ/