শিরোনাম

৫ সপ্তাহের চেষ্টায় জার্মান উপকূলে আটকা পড়া সেই তিমি উদ্ধার

সিটিজেন ডেস্ক
৫ সপ্তাহের চেষ্টায় জার্মান উপকূলে আটকা পড়া সেই তিমি উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির উপকূলে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা একটি হাম্পব্যাক তিমিকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিশেষ পানিপূর্ণ বার্জের মাধ্যমে তিমিটিকে এখন উত্তর সাগরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান সফল হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মাঝে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও, সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞরা প্রাণীটির দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তিমিটিকে সফলভাবে বার্জে তোলা সম্ভব হয়। এ উদ্ধারকাজে অর্থায়ন করেছেন কারিন ওয়াল্টার-মোমার্ট এবং ওয়াল্টার গুঞ্জ নামের দুই জার্মান উদ্যোক্তা। মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী টিল ব্যাকহাউস এ মিশনকে জার্মানির জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী দুই দিনের মধ্যেই তিমিটি উত্তর সাগরে পৌঁছাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিমিটি বর্তমানে ভালো আছে। পোল দ্বীপের কাছের অগভীর জলে টানা ২৯ দিন কাটানোর পর এ সফলতায় স্বভাবতই দারুণ খুশি উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকারী দলের কারিগরি প্রধান ফেলিক্স বোনস্যাক সবার প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, মিশনটি এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয়।

উদ্ধারকারী পরিবহন জাহাজ ফরচুনা বি বার্জটিকে টেনে নিয়ে ইতিমধ্যে জার্মান জলসীমা অতিক্রম করেছে। জাহাজটি বাল্টিক সাগর হয়ে ডেনমার্কের জলসীমায় প্রবেশ করে স্কাগেরাক প্রণালি দিয়ে উত্তর সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২৩ মার্চ তিমেনডোরফার সৈকতে প্রথম আটকা পড়ার পর থেকেই তিমিটি জার্মানির মানুষের কাছে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। জালে আটকে পড়ার কারণে প্রথম বিপদে পড়েছিল এটি। উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় গণমাধ্যম আদর করে তিমিটির নাম দিয়েছে টিমি বা হোপ।

উদ্ধারকারীদের এমন উচ্ছ্বাসের বিপরীতে সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। ইন্টারন্যাশনাল হোয়েলিং কমিশনের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানিয়েছে, তিমিটি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং গভীর সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হলেও এর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। হোয়েল অ্যান্ড ডলফিন কনজারভেশন (ডব্লিউডিসি) জানিয়েছে, বাল্টিক সাগরের পানিতে লবণের স্বল্পতার কারণে তিমির ত্বকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে এর ত্বক পুরোপুরি সেরে ওঠার পাশাপাশি নিজে থেকে খাবার খোঁজার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। জার্মান ওশানোগ্রাফিক মিউজিয়ামও সতর্ক করেছে, চরম দুর্বলতার কারণে যেকোনো সময় তিমিটি ডুবে যেতে পারে। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ফ্যাবিয়ান রিটার জানিয়েছেন, তিমিটির মধ্যে বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও এ ধরনের নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান তার ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/