মুসলমানদের অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

মুসলমানদের অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বসবাসকারী মূলত বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষদের কোনো ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের সীমান্ত পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আর বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে দুই দেশের মাঝামাঝি ‘শূন্য রেখা’ বা নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় অনেক পরিবার আটকে পড়ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ২১টি পৃথক ঘটনায় দুইশর বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করেছে। তাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি ঘোষণা করেন। তার দাবি, এই নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’কে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোর মৌলিক মানবাধিকার উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে মানুষ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
প্রতিবেদন তৈরির জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ রাতের বেলায় একদল মানুষকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ পরে তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চগড়ে সাক্ষীরা জানিয়েছেন, ৫ জুন বিএসএফ শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, দলটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ ফুট ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। স্থানীয়রা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের খবর দেয় এবং বাহিনী আসার পর তারা পিছু হটে একটি বাঁধের ওপর ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ অবস্থান নেয়।
রুবেল বলেন, প্রথম রাতে তারা বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ছিলেন। দ্বিতীয় দিন বিএসএফ তাদের কিছু শুকনো খাবার দেয়। একাধিক পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।
একইভাবে ৬ জুন ভোরে দুটি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ৬ সদস্যকে (৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু) তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। তবে বিএসএফ তাদের আবার ভারতে ফেরত যেতে দেয়নি, ফলে তারা সীমান্তেই আটকে পড়ে। পরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর ভারতীয় পক্ষ তাদের ফেরত নেয়।
এরপর, গত ৮ জুন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা জানায়, ‘শূন্য রেখায়’ এক গর্ভবতী মা ও তার শিশুসহ মোট ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকে থাকার পর বিএসএফ আবার তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়। শূন্য রেখা হলো দুই দেশের সীমান্ত বরাবর অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৯০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক মানুষের বিরুদ্ধে আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালে আসামে নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রমের ফলে ১৯ লাখের বেশি মানুষ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক। এর ফলে বহু মানুষ রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন।
আসামের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাভাষী মুসলমানদের বারবার আক্রমণ করে তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, আমরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি একটি সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যাই এবং সত্যি বলতে তাদের জোর করে সীমান্ত পার করিয়ে দিই। এখন আসামে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে বহু অবৈধ বাংলাদেশি নিজেরাই স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে শুরু করেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হাসিবুর ইসলাম জানান, তিনি শিলিগুড়ি থেকে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরিবারটির সদস্যদের কাছে ভারতের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র ‘আধার কার্ড’ ছিলো। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তিন দিন সীমান্তে আটকে থাকার পর তারা আবার ভারতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বহু বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং তাদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সত্যিকারের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, এমনকী সহায়তাসহ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ভারত জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বা জোর করে বহিষ্কার করা উচিত নয়। পাশাপাশি কিছু সাক্ষাৎকারে যেভাবে অভিযোগ উঠেছে, তেমনভাবে মানুষকে তাদের নথিপত্র, অর্থ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত করাও উচিত নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় শত শত কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মুসলিম, যদিও কিছু হিন্দুও রয়েছেন।
ভারতীয় এক অধিকারকর্মীর জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৪০০ জনকে আটক রাখা হয়েছে। অনেককে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পর আটক করা হয়েছে। তার মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াই এখন গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো কাউকে গ্রহণ করা হবে না। প্রত্যাবাসন হতে হবে যথাযথ যাচাই এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ভারত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ এবং জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অধীনে বাধ্য, যেখানে বলা হয়েছে– জাতি, বর্ণ, বংশ বা জাতীয়/জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং সবার মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক ও বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। খাবার, পানি, আশ্রয় বা চিকিৎসা ছাড়া মানুষকে ফেলে রাখা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের শামিল হতে পারে। ভারত সরকারের উচিত বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তিকে মৌলিক প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য পাওয়া, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া এবং বহিষ্কার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ।
সংস্থাটি আরও বলেছে, শিশুদের বহিষ্কার বা সীমান্তে আটকে রাখা শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্রকে শিশুদের জাতীয়তা রক্ষার অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং তাদের স্বেচ্ছাচারীভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে জাতীয়তা যাচাই এবং নাগরিকদের সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এসব প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ দুই সীমান্ত বাহিনীর মাঝখানে আটকে পড়ছে, যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, জাতীয়তা যাই হোক না কেন, কাউকে দুই সারি সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীর মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতকে এই ধরনের বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং দুই দেশকেই নিশ্চিত করতে হবে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের মৌলিক মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বসবাসকারী মূলত বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষদের কোনো ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের সীমান্ত পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আর বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে দুই দেশের মাঝামাঝি ‘শূন্য রেখা’ বা নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় অনেক পরিবার আটকে পড়ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ২১টি পৃথক ঘটনায় দুইশর বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করেছে। তাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি ঘোষণা করেন। তার দাবি, এই নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’কে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোর মৌলিক মানবাধিকার উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে মানুষ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
প্রতিবেদন তৈরির জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ রাতের বেলায় একদল মানুষকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ পরে তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চগড়ে সাক্ষীরা জানিয়েছেন, ৫ জুন বিএসএফ শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, দলটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ ফুট ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। স্থানীয়রা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের খবর দেয় এবং বাহিনী আসার পর তারা পিছু হটে একটি বাঁধের ওপর ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ অবস্থান নেয়।
রুবেল বলেন, প্রথম রাতে তারা বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ছিলেন। দ্বিতীয় দিন বিএসএফ তাদের কিছু শুকনো খাবার দেয়। একাধিক পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।
একইভাবে ৬ জুন ভোরে দুটি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ৬ সদস্যকে (৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু) তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। তবে বিএসএফ তাদের আবার ভারতে ফেরত যেতে দেয়নি, ফলে তারা সীমান্তেই আটকে পড়ে। পরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর ভারতীয় পক্ষ তাদের ফেরত নেয়।
এরপর, গত ৮ জুন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা জানায়, ‘শূন্য রেখায়’ এক গর্ভবতী মা ও তার শিশুসহ মোট ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকে থাকার পর বিএসএফ আবার তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়। শূন্য রেখা হলো দুই দেশের সীমান্ত বরাবর অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৯০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক মানুষের বিরুদ্ধে আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালে আসামে নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রমের ফলে ১৯ লাখের বেশি মানুষ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক। এর ফলে বহু মানুষ রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন।
আসামের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাভাষী মুসলমানদের বারবার আক্রমণ করে তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, আমরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি একটি সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যাই এবং সত্যি বলতে তাদের জোর করে সীমান্ত পার করিয়ে দিই। এখন আসামে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে বহু অবৈধ বাংলাদেশি নিজেরাই স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে শুরু করেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হাসিবুর ইসলাম জানান, তিনি শিলিগুড়ি থেকে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরিবারটির সদস্যদের কাছে ভারতের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র ‘আধার কার্ড’ ছিলো। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তিন দিন সীমান্তে আটকে থাকার পর তারা আবার ভারতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বহু বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং তাদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সত্যিকারের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, এমনকী সহায়তাসহ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ভারত জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বা জোর করে বহিষ্কার করা উচিত নয়। পাশাপাশি কিছু সাক্ষাৎকারে যেভাবে অভিযোগ উঠেছে, তেমনভাবে মানুষকে তাদের নথিপত্র, অর্থ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত করাও উচিত নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় শত শত কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মুসলিম, যদিও কিছু হিন্দুও রয়েছেন।
ভারতীয় এক অধিকারকর্মীর জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৪০০ জনকে আটক রাখা হয়েছে। অনেককে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পর আটক করা হয়েছে। তার মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াই এখন গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো কাউকে গ্রহণ করা হবে না। প্রত্যাবাসন হতে হবে যথাযথ যাচাই এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ভারত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ এবং জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অধীনে বাধ্য, যেখানে বলা হয়েছে– জাতি, বর্ণ, বংশ বা জাতীয়/জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং সবার মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক ও বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। খাবার, পানি, আশ্রয় বা চিকিৎসা ছাড়া মানুষকে ফেলে রাখা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের শামিল হতে পারে। ভারত সরকারের উচিত বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তিকে মৌলিক প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য পাওয়া, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া এবং বহিষ্কার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ।
সংস্থাটি আরও বলেছে, শিশুদের বহিষ্কার বা সীমান্তে আটকে রাখা শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্রকে শিশুদের জাতীয়তা রক্ষার অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং তাদের স্বেচ্ছাচারীভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে জাতীয়তা যাচাই এবং নাগরিকদের সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এসব প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ দুই সীমান্ত বাহিনীর মাঝখানে আটকে পড়ছে, যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, জাতীয়তা যাই হোক না কেন, কাউকে দুই সারি সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীর মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতকে এই ধরনের বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং দুই দেশকেই নিশ্চিত করতে হবে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের মৌলিক মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয়।

মুসলমানদের অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বসবাসকারী মূলত বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষদের কোনো ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের সীমান্ত পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আর বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে দুই দেশের মাঝামাঝি ‘শূন্য রেখা’ বা নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় অনেক পরিবার আটকে পড়ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ২১টি পৃথক ঘটনায় দুইশর বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করেছে। তাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি ঘোষণা করেন। তার দাবি, এই নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’কে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোর মৌলিক মানবাধিকার উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে মানুষ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
প্রতিবেদন তৈরির জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ রাতের বেলায় একদল মানুষকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ পরে তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চগড়ে সাক্ষীরা জানিয়েছেন, ৫ জুন বিএসএফ শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, দলটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ ফুট ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। স্থানীয়রা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের খবর দেয় এবং বাহিনী আসার পর তারা পিছু হটে একটি বাঁধের ওপর ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ অবস্থান নেয়।
রুবেল বলেন, প্রথম রাতে তারা বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ছিলেন। দ্বিতীয় দিন বিএসএফ তাদের কিছু শুকনো খাবার দেয়। একাধিক পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।
একইভাবে ৬ জুন ভোরে দুটি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ৬ সদস্যকে (৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু) তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। তবে বিএসএফ তাদের আবার ভারতে ফেরত যেতে দেয়নি, ফলে তারা সীমান্তেই আটকে পড়ে। পরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর ভারতীয় পক্ষ তাদের ফেরত নেয়।
এরপর, গত ৮ জুন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা জানায়, ‘শূন্য রেখায়’ এক গর্ভবতী মা ও তার শিশুসহ মোট ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকে থাকার পর বিএসএফ আবার তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়। শূন্য রেখা হলো দুই দেশের সীমান্ত বরাবর অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ৯০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক মানুষের বিরুদ্ধে আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালে আসামে নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রমের ফলে ১৯ লাখের বেশি মানুষ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক। এর ফলে বহু মানুষ রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন।
আসামের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাভাষী মুসলমানদের বারবার আক্রমণ করে তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, আমরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি একটি সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যাই এবং সত্যি বলতে তাদের জোর করে সীমান্ত পার করিয়ে দিই। এখন আসামে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে বহু অবৈধ বাংলাদেশি নিজেরাই স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে শুরু করেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হাসিবুর ইসলাম জানান, তিনি শিলিগুড়ি থেকে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরিবারটির সদস্যদের কাছে ভারতের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র ‘আধার কার্ড’ ছিলো। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তিন দিন সীমান্তে আটকে থাকার পর তারা আবার ভারতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বহু বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং তাদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সত্যিকারের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, এমনকী সহায়তাসহ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ভারত জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বা জোর করে বহিষ্কার করা উচিত নয়। পাশাপাশি কিছু সাক্ষাৎকারে যেভাবে অভিযোগ উঠেছে, তেমনভাবে মানুষকে তাদের নথিপত্র, অর্থ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত করাও উচিত নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় শত শত কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মুসলিম, যদিও কিছু হিন্দুও রয়েছেন।
ভারতীয় এক অধিকারকর্মীর জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৪০০ জনকে আটক রাখা হয়েছে। অনেককে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পর আটক করা হয়েছে। তার মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াই এখন গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো কাউকে গ্রহণ করা হবে না। প্রত্যাবাসন হতে হবে যথাযথ যাচাই এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ভারত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ এবং জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অধীনে বাধ্য, যেখানে বলা হয়েছে– জাতি, বর্ণ, বংশ বা জাতীয়/জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং সবার মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক ও বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। খাবার, পানি, আশ্রয় বা চিকিৎসা ছাড়া মানুষকে ফেলে রাখা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের শামিল হতে পারে। ভারত সরকারের উচিত বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তিকে মৌলিক প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য পাওয়া, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া এবং বহিষ্কার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ।
সংস্থাটি আরও বলেছে, শিশুদের বহিষ্কার বা সীমান্তে আটকে রাখা শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্রকে শিশুদের জাতীয়তা রক্ষার অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং তাদের স্বেচ্ছাচারীভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে জাতীয়তা যাচাই এবং নাগরিকদের সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এসব প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ দুই সীমান্ত বাহিনীর মাঝখানে আটকে পড়ছে, যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, জাতীয়তা যাই হোক না কেন, কাউকে দুই সারি সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীর মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতকে এই ধরনের বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং দুই দেশকেই নিশ্চিত করতে হবে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের মৌলিক মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয়।

রৌমারী সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশ ইন চেষ্টা, প্রতিরোধ বিজিবির


