শিরোনাম

মোদি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মোদি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে এবার নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের জেরে গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন করছে তারা। সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর দলটি জানিয়েছে, এ দাবিতে কোনো আপস করা হবে না।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানী দিল্লির ভিঠলভাই প্যাটেল হাউসে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপির পক্ষে মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ দুই প্রতিনিধি অংশ নেন।

সিজেপি জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, নিহতদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি দলটির জন্য আপসহীন দাবি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে শনিবার বেলা ২টা পর্যন্ত সরকারকে সময় দেওয়া হয়েছে।

সরকারের অনুরোধে শনিবার পর্যন্ত যন্তর মন্তরে চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সিজেপি সম্মত হয়েছে সিজেপি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে নতুন মাত্রায় আন্দোলন শুরু হবে।

কিন্তু এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সূত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার দাবি প্রত্যাখ্যান করলে দেশজুড়ে আরও বড় পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, চলমান সংকট নিরসনে শনিবার সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, দি স্টেটসম্যান জানিয়েছে যে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে পুলিশ রাতারাতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার শনি ও রবিবার যন্তরমন্তরে একটি বড় সমাবেশের আশঙ্কা করছে। তারা আমাকেসহ সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করতে পারে।

দীপকে সতর্ক করে বলেন, ‘এমন পদক্ষেপ নিলে বিরাট ভুল হবে। কারণ এটি আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। যখন তারা সোনম ওয়াংচুককে আটক করেছিল, তখন আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়েছিল। যখন ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করে আহত করা হয়েছিল, তখন প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছিল। এখন যদি আমাদেরও আটক করা হয়, তাহলে এই আন্দোলন দেশজুড়ে আরও ছড়িয়ে পড়বে।’

দীপকে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই আন্দোলন অবসানর একমাত্র সমাধান বলে জানিয়েছেন।

তবে সরকারি সূত্রগুলো দৃঢ় মনোভাব দেখিয়েছে।

এনডিটিভিকে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, ‘পদত্যাগের পরিবর্তে সরকার মন্ত্রীর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে।’

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি গত দুই মাসে গতি লাভ করেছে এবং দিল্লির যন্তরমন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু, এনডিটিভি

/জেএইচ/