দিল্লিতে মেস ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোদিকে নিশানা সিজেপির

দিল্লিতে মেস ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোদিকে নিশানা সিজেপির
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি মেসবাড়ি ধসে অন্তত ৭ জন নিহত হওয়ার একদিন পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খননকাজ শুরু করেছেন। ভবনটিতে কয়েক ডজন মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে।
রবিবার সামাজিকমাধ্য এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশালদের’ বিষোদ্গার করলেন, অথচ অবকাঠামো না থাকা ও অবহেলার দরুন দেশের কোণে কোণে ছাত্রদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। আর কত কাল দেশের ছাত্রদের সরকারি অবহেলা ও অবকাঠামো না থাকার খেসারত দিতে হবে বলে প্রশ্ন রেখেছেন অভিজিৎ?
তিনি বলেন, ‘আদিবাসী এলাকাগুলোয় ন্যূনতম পরিষেবার অভাবে শিক্ষার্থীদের মরতে হচ্ছে। এবার খোদ দিল্লিতেও মরতে হলো মেসবাড়ি ধসের কারণে। রাজধানীতেও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নন।’
অভিজিৎ আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বেশি কিছু চায় না। তারা চান নিরাপদ ক্লাসরুম, নিরাপদ হোস্টেল ও ন্যূনতম সম্মান। এটা কি খুব বেশি চাওয়া? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অভিজিৎ বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কি আর একবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ব্যাখ্যা করবেন, কেন এমন ঘটল?’
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ভবনটি ধসে পড়ে। ফলে এর ভেতরে থাকা বহু শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভেতরে আরও অনেকেই আটকে আছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এ ভবনটির বেসমেন্টে কিছুদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছিল, যা ভবনের কাঠামোকে আরও দুর্বল করে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় মানুষ নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। ভারী কোনো যন্ত্রপাতির অপেক্ষা না করেই তারা খালি হাতে কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে আটকা পড়াদের বের করার চেষ্টা করেন। ধসে পড়া স্ল্যাবের নিচ থেকে অনেক শিক্ষার্থী বাঁচার আকুতি জানিয়ে বন্ধুদের কাছে ফোন করছিলেন, যা চারপাশের পরিবেশকে ভারি করে তোলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও স্থানীয়দের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে যুক্ত হয় দিল্লি পুলিশ, এনডিআরএফ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত দল। উদ্ধারকাজ তদারকি করতে নিউ দিল্লির জয়েন্ট সিপি এবং সাউথ-ওয়েস্ট জেলার পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বড় বড় স্ল্যাব সরানোর জন্য ১২টি ফায়ার টেন্ডার ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের ভবন খালি করে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ।
সিজেপি নেতারা গতকালই ঘটনাস্থলে যান। বিকালে অভিজিৎ ওই পোস্ট করেন এবং দিল্লির মেসবাড়ি ও হোস্টেলগুলোর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অডিট করানোরও দাবি জানান।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে কথা বলেন, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘লাল কেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় আমি ছোট্ট করে দিমাগি নকশাল বলেছিলাম। ওটা ছিল হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো। হোমিওপ্যাথি ওষুধ পড়লে শুরুতেই রোগ বেড়ে যায়। তারপর কমে। তেমনই দিমাগি নকশাল বলামাত্র তাদের প্রশ্রয়দাতারা হই হই শুরু করেছে। জনগণ তাদের আসল রূপ দেখতে পাচ্ছে।’
অভিজিৎ দিপকে ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা ক্ষেত্রের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা না বলে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন। তরুণ প্রজন্মকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে তকমা লাগালেন।’
সিজেপির নেতারা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যখন শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষালয়ের অবকাঠামোর বেহাল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করছে, প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের ‘বোকা বোকা তকমা’ (স্টুপিড লেবেলস) দিচ্ছেন।’ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এ ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ বলেও জানান তারা।
দুর্ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোয়ায় দলীয় এক অফিস ভবন উদ্ঘাটন করছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে অনুষ্ঠান কাটছাঁট করে দেন। এ প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেন, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির বড় বড় পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে। অথচ পড়ুয়ারা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন অসুরক্ষিত ভবনে।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি মেসবাড়ি ধসে অন্তত ৭ জন নিহত হওয়ার একদিন পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খননকাজ শুরু করেছেন। ভবনটিতে কয়েক ডজন মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে।
রবিবার সামাজিকমাধ্য এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশালদের’ বিষোদ্গার করলেন, অথচ অবকাঠামো না থাকা ও অবহেলার দরুন দেশের কোণে কোণে ছাত্রদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। আর কত কাল দেশের ছাত্রদের সরকারি অবহেলা ও অবকাঠামো না থাকার খেসারত দিতে হবে বলে প্রশ্ন রেখেছেন অভিজিৎ?
তিনি বলেন, ‘আদিবাসী এলাকাগুলোয় ন্যূনতম পরিষেবার অভাবে শিক্ষার্থীদের মরতে হচ্ছে। এবার খোদ দিল্লিতেও মরতে হলো মেসবাড়ি ধসের কারণে। রাজধানীতেও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নন।’
অভিজিৎ আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বেশি কিছু চায় না। তারা চান নিরাপদ ক্লাসরুম, নিরাপদ হোস্টেল ও ন্যূনতম সম্মান। এটা কি খুব বেশি চাওয়া? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অভিজিৎ বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কি আর একবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ব্যাখ্যা করবেন, কেন এমন ঘটল?’
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ভবনটি ধসে পড়ে। ফলে এর ভেতরে থাকা বহু শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভেতরে আরও অনেকেই আটকে আছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এ ভবনটির বেসমেন্টে কিছুদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছিল, যা ভবনের কাঠামোকে আরও দুর্বল করে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় মানুষ নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। ভারী কোনো যন্ত্রপাতির অপেক্ষা না করেই তারা খালি হাতে কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে আটকা পড়াদের বের করার চেষ্টা করেন। ধসে পড়া স্ল্যাবের নিচ থেকে অনেক শিক্ষার্থী বাঁচার আকুতি জানিয়ে বন্ধুদের কাছে ফোন করছিলেন, যা চারপাশের পরিবেশকে ভারি করে তোলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও স্থানীয়দের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে যুক্ত হয় দিল্লি পুলিশ, এনডিআরএফ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত দল। উদ্ধারকাজ তদারকি করতে নিউ দিল্লির জয়েন্ট সিপি এবং সাউথ-ওয়েস্ট জেলার পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বড় বড় স্ল্যাব সরানোর জন্য ১২টি ফায়ার টেন্ডার ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের ভবন খালি করে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ।
সিজেপি নেতারা গতকালই ঘটনাস্থলে যান। বিকালে অভিজিৎ ওই পোস্ট করেন এবং দিল্লির মেসবাড়ি ও হোস্টেলগুলোর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অডিট করানোরও দাবি জানান।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে কথা বলেন, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘লাল কেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় আমি ছোট্ট করে দিমাগি নকশাল বলেছিলাম। ওটা ছিল হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো। হোমিওপ্যাথি ওষুধ পড়লে শুরুতেই রোগ বেড়ে যায়। তারপর কমে। তেমনই দিমাগি নকশাল বলামাত্র তাদের প্রশ্রয়দাতারা হই হই শুরু করেছে। জনগণ তাদের আসল রূপ দেখতে পাচ্ছে।’
অভিজিৎ দিপকে ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা ক্ষেত্রের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা না বলে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন। তরুণ প্রজন্মকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে তকমা লাগালেন।’
সিজেপির নেতারা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যখন শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষালয়ের অবকাঠামোর বেহাল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করছে, প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের ‘বোকা বোকা তকমা’ (স্টুপিড লেবেলস) দিচ্ছেন।’ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এ ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ বলেও জানান তারা।
দুর্ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোয়ায় দলীয় এক অফিস ভবন উদ্ঘাটন করছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে অনুষ্ঠান কাটছাঁট করে দেন। এ প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেন, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির বড় বড় পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে। অথচ পড়ুয়ারা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন অসুরক্ষিত ভবনে।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

দিল্লিতে মেস ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোদিকে নিশানা সিজেপির
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি মেসবাড়ি ধসে অন্তত ৭ জন নিহত হওয়ার একদিন পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খননকাজ শুরু করেছেন। ভবনটিতে কয়েক ডজন মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে।
রবিবার সামাজিকমাধ্য এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশালদের’ বিষোদ্গার করলেন, অথচ অবকাঠামো না থাকা ও অবহেলার দরুন দেশের কোণে কোণে ছাত্রদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। আর কত কাল দেশের ছাত্রদের সরকারি অবহেলা ও অবকাঠামো না থাকার খেসারত দিতে হবে বলে প্রশ্ন রেখেছেন অভিজিৎ?
তিনি বলেন, ‘আদিবাসী এলাকাগুলোয় ন্যূনতম পরিষেবার অভাবে শিক্ষার্থীদের মরতে হচ্ছে। এবার খোদ দিল্লিতেও মরতে হলো মেসবাড়ি ধসের কারণে। রাজধানীতেও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নন।’
অভিজিৎ আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বেশি কিছু চায় না। তারা চান নিরাপদ ক্লাসরুম, নিরাপদ হোস্টেল ও ন্যূনতম সম্মান। এটা কি খুব বেশি চাওয়া? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অভিজিৎ বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কি আর একবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ব্যাখ্যা করবেন, কেন এমন ঘটল?’
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ভবনটি ধসে পড়ে। ফলে এর ভেতরে থাকা বহু শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভেতরে আরও অনেকেই আটকে আছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এ ভবনটির বেসমেন্টে কিছুদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছিল, যা ভবনের কাঠামোকে আরও দুর্বল করে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় মানুষ নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। ভারী কোনো যন্ত্রপাতির অপেক্ষা না করেই তারা খালি হাতে কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে আটকা পড়াদের বের করার চেষ্টা করেন। ধসে পড়া স্ল্যাবের নিচ থেকে অনেক শিক্ষার্থী বাঁচার আকুতি জানিয়ে বন্ধুদের কাছে ফোন করছিলেন, যা চারপাশের পরিবেশকে ভারি করে তোলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও স্থানীয়দের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে যুক্ত হয় দিল্লি পুলিশ, এনডিআরএফ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত দল। উদ্ধারকাজ তদারকি করতে নিউ দিল্লির জয়েন্ট সিপি এবং সাউথ-ওয়েস্ট জেলার পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বড় বড় স্ল্যাব সরানোর জন্য ১২টি ফায়ার টেন্ডার ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের ভবন খালি করে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ।
সিজেপি নেতারা গতকালই ঘটনাস্থলে যান। বিকালে অভিজিৎ ওই পোস্ট করেন এবং দিল্লির মেসবাড়ি ও হোস্টেলগুলোর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অডিট করানোরও দাবি জানান।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে কথা বলেন, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘লাল কেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় আমি ছোট্ট করে দিমাগি নকশাল বলেছিলাম। ওটা ছিল হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো। হোমিওপ্যাথি ওষুধ পড়লে শুরুতেই রোগ বেড়ে যায়। তারপর কমে। তেমনই দিমাগি নকশাল বলামাত্র তাদের প্রশ্রয়দাতারা হই হই শুরু করেছে। জনগণ তাদের আসল রূপ দেখতে পাচ্ছে।’
অভিজিৎ দিপকে ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা ক্ষেত্রের অবকাঠামোর উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা না বলে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন। তরুণ প্রজন্মকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে তকমা লাগালেন।’
সিজেপির নেতারা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যখন শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষালয়ের অবকাঠামোর বেহাল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করছে, প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের ‘বোকা বোকা তকমা’ (স্টুপিড লেবেলস) দিচ্ছেন।’ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এ ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ বলেও জানান তারা।
দুর্ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোয়ায় দলীয় এক অফিস ভবন উদ্ঘাটন করছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে অনুষ্ঠান কাটছাঁট করে দেন। এ প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেন, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির বড় বড় পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে। অথচ পড়ুয়ারা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন অসুরক্ষিত ভবনে।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

দিল্লিতে ছয় তলা ভবন ধস: নিহত ৩, জীবিত উদ্ধার ৯







