শিরোনাম

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ভারতের

সিটিজেন ডেস্ক
প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ভারতের
ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র

পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে ভারত। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা (এসআইপআরআই) তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নয়াদিল্লির কয়েক দশকের নীতি থেকে ব্যাপক বিচ্যুতি। ইতোপূর্বে দেশটিতে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হতো।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রথমবার ভারতের অস্ত্রাগারকে মজুত অবস্থার পরিবর্তে কার্যক্ষমভাবে মোতায়েনকৃত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা উচ্চতর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সদ্য মোতায়েন করা এই ১২টি ওয়ারহেডের মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা অভিযানরত বাহিনীর ঘাঁটিতে সেগুলো স্থাপন করেছে।

এসআইপআরআইর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনে (এসএসবিএন) অল্প সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার পাশাপাশি গত বছর ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

সোমবার প্রকাশিত এসআইপআরআই তার ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ জানিয়েছে, ভারতের কাছে এখন মোট ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এক বছর আগেও যা ছিল ১৮০টি।

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, ভারত শান্তিকালীন সময়ে তার পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো মোতায়েনকৃত লঞ্চার থেকে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে রাখা এবং সমুদ্র-ভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার মতো দেশটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভারত শান্তিকালীন সময়ে তার কিছু ওয়ারহেডকে লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত করার দিকে ঝুঁকতে পারে।

পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারত ‘প্রথম ব্যবহার না করার’ নীতি অনুসরণ করে। অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র শুধুমাত্র ভারতীয় ভূখণ্ডে বা যেকোনো স্থানে ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ব্যবহার করা হবে। ভারতের একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। এই সক্ষমতা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানোর জন্য নয়, বরং কেবল সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভারতের বৃহত্তর পারমাণবিক আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টার ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। এসআইপআরআই বলেছে, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ভারত ২০২৫ সালের মধ্যে আরও একবার তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার সামান্য সম্প্রসারিত করেছে এবং নতুন ধরনের পারমাণবিক সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে।’

ইনস্টিটিউটটির মতে, ভারতের আধুনিকীকরণ কর্মসূচি ক্রমশ চীনজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম দীর্ঘ-পাল্লার ব্যবস্থা তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে। যদিও এই পরিকল্পনা পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বারা প্রভাবিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ১২টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করেছে, অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর তুলনায় এই সংখ্যাটি নগণ্য।

এসআইপআরআইর অনুমান অনুযায়ী, চীনের কাছে বর্তমানে ৬২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে ৩৪টি মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চীনের মোতায়েনকৃত যুদ্ধাস্ত্রের সংখ্যা ২০২৫ সালে ২৪টি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৩৪টি হবে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, চীন অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণ করছে।

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

/জেএইচ/