শিরোনাম

মমতার গাড়িতে বিক্ষোভকারীদের হামলা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মমতার গাড়িতে বিক্ষোভকারীদের হামলা
হামলার শিকার হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ায় পুলিশ হেফাজতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল তুলকালাম কান্ড। মৃত কর্মীর শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, তার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হলো ইট, কাদা ও জুতো। এ ঘটনায় রাজ্য সরকার ও বিজেপির দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি।

রবিবার (৯ আগস্ট) কাঁচরাপাড়ায় মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়িতে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় হঠাৎ করেই একদল মানুষ তার গাড়ি ঘিরে ধরে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। ‘চোর চোর’ ও ‘ডাকাতের রানি’ ধ্বনিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চারপাশ। একপর্যায়ে গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও কাদা ছিটানো হয়। গাড়িতে মমতার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন।

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সুরক্ষার বদলে দুষ্কৃতীদের পাহারা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মমতা আরও বলেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত, এমনকি তার প্রাণহানিও হতে পারত। পুরো রাজ্যটাই এখন লুম্পেনদের দখলে চলে গেছে দাবি করে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে বলেন, পুলিশ ও মাফিয়াদের দিয়ে রাজত্ব চালানো হচ্ছে।

তবে তৃণমূলের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এ বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপির কোনো কর্মী বা সমর্থক যুক্ত ছিলেন না। তার দাবি, এলাকায় অশান্তি তৈরি করতে গিয়েছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, আর তাতেই সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রাজনৈতিক এ উত্তাপের সূত্রপাত মূলত হালিশহর থানার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কাঁচরাপাড়া পৌরসভার পদত্যাগ করা কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও শনিবার (৮ আগস্ট) পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যুর খবর আসে। জেনির অভিযোগ, থানার ভেতরে বেধড়ক মারধর করেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/