শিরোনাম

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: অভিজিৎ দীপকে

সিটিজেন ডেস্ক
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: অভিজিৎ দীপকে
দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ কর্মসূচিতে অভিজিৎ দীপকে। ছবি: পিটিআই

দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়োগ পরীক্ষায় নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। রবিবার (৭ জুন) তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই বিক্ষোভ থামবে না। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যের পিঠে ব্যঙ্গাত্মকভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি এখন পরীক্ষা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জাতীয় ইস্যুতে রূপ নিয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তরে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রায় ৭ হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে এই আন্দোলনের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন দীপকে। রবিবার (৭ জুন) সকালে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার এমআইডিসি ওয়ালুজ এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীপকে বলেন, যন্তরমন্তরের সফল প্রতিবাদের পর এবার আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দীপকের বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আগে যেখানে ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন ছিল, এখন স্থানীয় থানা ও নগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত বল পাঠিয়ে তা ১৫ জনে উন্নীত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দিল্লির বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তেলাপোকার মুখোশ পরে অংশ নেন এবং দীপকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দেন। সিজেপির মুখপাত্রদের পক্ষ থেকে কেন্দ্র সরকারকে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত বা তার পদত্যাগ নিশ্চিত না করা হলে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হবে। উল্লেখ্য, এ আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি দীপকের গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় প্রয়োজনে ছয় সপ্তাহের অনশনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সমাবেশে আন্দোলনকারীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে কোনো সংঘাতে না গিয়ে পুলিশ কর্মীদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে এক অনন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নজির গড়েন। একই সঙ্গে, তারা শাসক দল বিজেপিকে বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানান। মূলত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বেকার যুবকদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাসের উপস্থিতিতে তেলাপোকা জনতা পার্টি গঠিত হয়। এটি এখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এক অন্যতম মূল মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/এমএকে/