শিরোনাম

ভারতীয় বিমানবাহিনী ছাড়লেন পাকিস্তানে আটক সেই পাইলট

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভারতীয় বিমানবাহিনী ছাড়লেন পাকিস্তানে আটক সেই পাইলট
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক ফাইটার পাইলট অভিনন্দন বর্তমান। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

পাকিস্তানের আকাশে বিমান ভূপাতিত হয়ে বন্দি হওয়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিচিত মুখ সাবেক ফাইটার পাইলট অভিনন্দন বর্তমান আবারও সংবাদের শিরোনামে। সামরিক জীবনের দীর্ঘ ২২ বছরের পাট চুকিয়ে তিনি এবার যুক্ত হয়েছেন একটি বেসরকারি এয়ারলাইনস-এ। যুদ্ধবিমান ছেড়ে তিনি এখন দায়িত্ব নিয়েছেন যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, বীর চক্র পদকপ্রাপ্ত সাবেক এ গ্রুপ ক্যাপ্টেন আগস্ট মাসে গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইন ‘ফ্লাই৯১’-এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। অবশ্য নিজের এ নতুন জীবন বা ক্যারিয়ার পরিবর্তন নিয়ে অভিনন্দন এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি। অন্যদিকে ফ্লাই৯১ কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা তাদের নীতি, তাই এ বিষয়ে তারা কিছু বলবেন না। ২০২৪ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করা এয়ারলাইনটি বর্তমানে ছয়টি উড়োজাহাজ নিয়ে গোয়া ও হায়দরাবাদ থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সামরিক বিমান ছেড়ে সাধারণ বিমানে নাম লেখানো এই চালকের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ভারতীয় সিআরপিএফের ৪০ জন সদস্য নিহত হন। এর জবাবে ভারত পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ-ই-মোহাম্মদের এক প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলা চালায়। পরদিনই পাকিস্তানি বিমানবাহিনী পাল্টা জবাব দিলে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়।

সেই উত্তাল পরিস্থিতিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি আকাশযুদ্ধে অংশ নেন তৎকালীন উইং কমান্ডার অভিনন্দন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিজের পুরোনো মিগ-২১ বাইসন দিয়ে তিনি পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেন। তবে লড়াইয়ের একপর্যায়ে তার বিমানটিও গুলিবিদ্ধ হয়ে ধ্বংস হয় এবং তিনি প্যারাস্যুট নিয়ে পাকিস্তানের সীমানায় গিয়ে পড়েন। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে আটক করে তিন দিন বন্দি রাখে। ১ মার্চ রাতে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক দরকষাকষির পর তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভূপাতিত বিমান থেকে ইজেক্ট করার সময় অভিনন্দন শরীরে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আকাশযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের জন্য তাকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন সম্মাননা ‘বীর চক্র’ প্রদান করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/