শিরোনাম

চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি নেপালের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি নেপালের
নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ভবন এ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ( ইনসেটে)। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

হিমালয়ের বরফ ও বিশাল পাথর ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১০০-র বেশি মানুষ, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন। ‘হিমালয়ান সুনামি’ নামে পরিচিতি পাওয়া এ দুর্যোগে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতুসহ বিপুল অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগের ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরবারে ক্ষতিপূরণের দাবি করছে কাঠমান্ডু।

নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে নেমে আসা ভোতেকোশি নদীর তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাগমতী প্রদেশের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলা। স্থানীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নেপালের অন্তত চার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এটি দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশ। চরম এ সংকট মোকাবেলায় নেপাল ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সমর্থিত ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি সহায়তার আবেদন করেছে।

নেপাল সরকার জানিয়েছে, হিমালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার মূল দায় বিশ্বের শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো শিল্পোন্নত বড় অর্থনীতির দেশগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলেই নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে মাশুল গুনতে হচ্ছে। এই ক্ষতিপূরণের দাবি আন্তর্জাতিক দরবারে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কাঠমান্ডু।

দুর্যোগকে কেবল ত্রাণ বা অনুদানের বিষয় হিসেবে দেখতে নারাজ দেশটির প্রতিনিধিরা। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ‘এটি দাতব্যের বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, নেপালের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অর্থ প্রদান করা বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর আইনি দায়িত্ব।

অবশ্য মোট নিঃসরণে ভারত শীর্ষ তালিকায় থাকলেও মাথাপিছু ও ঐতিহাসিক নিঃসরণের বিচারে উন্নত দেশগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে। ইউরোপীয় কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৩ টন, চীনে ১১ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ টনেরও বেশি। তাই নয়া দিল্লি বরাবরই বলে আসছে, অতীতে যারা দ্রুত শিল্পায়ন ঘটিয়ে নির্গমন বাড়িয়েছে তাদেরকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে।

ভূমিকম্পপ্রবণ এ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় চীন নির্মিত বিভিন্ন পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। নেপাল পুলিশের তথ্যানুযায়ী উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও, হিমালয় অঞ্চলের এ পরিবর্তন ও জলবায়ুর সুনির্দিষ্ট প্রভাব জানতে আরও গভীরভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/