শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে গভীর সংকটে মার্কিন সামরিক বাহিনী

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে গভীর সংকটে মার্কিন সামরিক বাহিনী
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন (বাঁয়ে) ও মার্কিন সেনা সদস্যরা (ডানে)। কোলাজ: সিজেডএন ডেস্ক

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ, সেনা কমান্ডারদের পদত্যাগ এবং প্যাট্রিয়টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ভান্ডার ফুরিয়ে আসার আশঙ্কা- সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি পরিচালনায় বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদে সামরিক কমান্ডে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রায় ২০ জনের বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং কয়েক ডজন কমান্ডারের পদোন্নতি আটকে থাকার বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড শৃঙ্খলের মূল ভিতকেই নড়বড়ে করে তুলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না। সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে নীতির চরম মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক দূরত্ব নয়। বরং উচ্চতর কমান্ড পরিচালনা ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ স্তরে বড় ধরনের রদবদলের ধরন নিয়ে তাদের মধ্যে সৃষ্ট গভীর বিরোধেরই প্রকাশ। আধুনিক যুদ্ধে কেবল অত্যাধুনিক বিমান বা যুদ্ধজাহাজ থাকলেই চলে না, কমান্ডারদের কৌশলগত অভিজ্ঞতা এবং সামরিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বের পারস্পরিক আস্থাই যুদ্ধক্ষেত্রে আসল শক্তির জোগান দেয়। ফলে এই নেতৃত্ব সংকট বাহিনীর সার্বিক যুদ্ধ সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ ধাক্কার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মার্কিন অস্ত্রের মজুদে মারাত্মক টান ফেলেছে। ওয়াশিংটন যুদ্ধের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার দেখিয়েছে। ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ নতুন করে তৈরি করা, যুদ্ধ সরঞ্জাম মেরামত এবং সৈন্যদের দীর্ঘমেয়াদে মোতায়েন রাখার বিপুল ব্যয় এ অঙ্কের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ও নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। ফলে নিজস্ব মজুত কমে যাওয়ায় মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ও মিত্রদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ চরম রূপ নিয়েছে।

এই অস্ত্রসংকট কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপ থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় ওয়াশিংটনকে সর্বদা সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে অপচয় হওয়া প্রতিটি অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম আমেরিকার সার্বিক বৈশ্বিক সক্ষমতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরাশক্তি হিসেবে প্রতিযোগিতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল কৌশলগত ঝুঁকি। বিশেষ করে এশিয়ার মিত্রদেশগুলো অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, প্রকৃত সংকটে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা পৌঁছাতে ওয়াশিংটন কতটা প্রস্তুত।

এ ক্ষয়ক্ষতি ও নেতৃত্ব সংকট কাটিয়ে উঠে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে মারাত্মক চাপ পড়বে এবং খালি হয়ে যাওয়া অস্ত্রের গুদাম ভরতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল মার্কিন সামরিক শক্তিমত্তা প্রমাণের জন্য, কিন্তু এখন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকেই ফুটিয়ে তুলছে। এ যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য হয়তো আজই পুরোপুরি পরিমাপ করা যাবে না। তবে কয়েক বছর পর ওয়াশিংটনকে যখন চীন-রাশিয়ার সামনে আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঘাম ঝরাতে হবে, তখনই বোঝা যাবে এ সংঘাত কতটা ব্যয়বহুল ছিল।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

/এমএকে/