শিরোনাম

মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকলো ৬০ হাজার অভিবাসী, ৩৪ জনের মৃত্যু

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকলো ৬০ হাজার অভিবাসী, ৩৪ জনের মৃত্যু
অনেক যুবককে সাঁতরে সেউতায় ঢুকতে বা স্থল সীমান্ত পার হতে দেখা গেছে। ছবি: বিবিসি

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ অঞ্চল সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। মাত্র ৮৩ হাজার ৬০০ জনসংখ্যার এ ছোট স্বায়ত্তশাসিত শহরে এক দিনে এত মানুষের আগমনে স্থানীয় জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। সমুদ্রপথে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের সময় অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল বলে বর্ণনা করেছেন। উদ্ভূত এ বিশৃঙ্খলাকে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার ওপর আক্রমণ আখ্যা দিয়ে সেখানে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।

হঠাৎ এমন গণ-অনুপ্রবেশের পেছনে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সাম্প্রতিক রায়কে দায়ী করা হচ্ছে। রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। মানবপাচারকারী চক্র এই আইনি সুযোগ ও ছড়ানো গুজবকে কাজে লাগিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে কোনো বাধা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষকে সাঁতরে কিংবা জেটির পাথর ঘুরে সেউতার সৈকতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রবেশকারীদের মধ্যে প্রধানত তরুণেরা থাকলেও বড় একটি অংশ শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক, যার সংখ্যা অন্তত ৭ হাজার। পারাপারের সময় মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা কেন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকলো ৬০ হাজার অভিবাসী, ৩৪ জনের মৃত্যু (1)
সারারাত ধরে মরক্কো ও স্পেনের সীমান্তে ভিড় জমেছিল। ছবি: রয়টার্স

বিশাল জনস্রোতের কারণে সেউতার রাস্তায় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং হাসপাতালগুলোর ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। সাঁতরে সীমান্ত পার হওয়া অভিবাসীরা এখন মূল ভূখণ্ডে যেতে না পেরে সেখানেই আটকা পড়ে আছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, পৌঁছানো অভিবাসীদের অনেকেই সহযাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা দেখে অন্যদের এই বিপজ্জনক পথে না আসার আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘিরে সমগ্র ইউরোপজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্পেনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ইতালি, ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মতো দেশগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে স্পেনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটিকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে শেনজেন জোনের মুক্ত চলাচল চুক্তি স্থগিতের ইঙ্গিত দিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। স্পেন ইতোমধ্যেই মাদ্রিদে নিযুক্ত ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠাতে মরক্কো সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/