শিরোনাম

ন্যাটোর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মুখে পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া রাশিয়ার

সিটিজেন ডেস্ক
ন্যাটোর সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মুখে পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া রাশিয়ার
বেলারুশের একটি অজ্ঞাত স্থানে পারমাণবিক শক্তির মহড়ার সময় রাশিয়ান ইস্কান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্রে সামরিক সদস্যরা একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করছেন। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বাল্টিক অঞ্চলে ড্রোন তৎপরতা নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার মাঝেই বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্রের এক বিশাল সামরিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে বৃহত্তম পারমাণবিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬৪ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিচ্ছেন। মূলত যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের কৌশলগত পারমাণবিক শক্তির প্রস্তুতি ও ব্যবহারিক সক্ষমতা যাচাই করাই ৩ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।

রাশিয়া ও বেলারুশ জুড়ে শুরু হওয়া বিশেষ মহড়ায় দেশটির কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর, বিমান বাহিনী এবং লেনিনগ্রাদ ও মধ্য সামরিক জেলার ইউনিটগুলো অংশ নিচ্ছে। নিজেদের শক্তির জানান দিতে ক্রেমলিন ইতোমধ্যে বোরি-শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন, ইল-৩৮ ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী বিমান, কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং আরএস-২৪ ইয়ার্স আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র প্রদর্শন করেছে। রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকে শেষ উপায় হিসেবে উল্লেখ করলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখতে এ পারমাণবিক ত্রয়ী অপরিহার্য বলে জোর দিয়েছেন।

মহড়ার অংশ হিসেবে বেলারুশের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটকে ভ্রাম্যমাণ ইস্কান্দার-এম কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য বিশেষ যুদ্ধাস্ত্র গ্রহণের নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ত্রিপল দিয়ে ঢাকা সামরিক ট্রাকে করে ন্যূনতম নিরাপত্তায় ডামি ওয়ারহেডগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বকে মস্কো একটি অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কিয়েভের সমর্থনে পশ্চিমাদের খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করার সতর্কবার্তা হিসেবে পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যদিও ইউক্রেন ও পশ্চিমা নেতারা একে দায়িত্বজ্ঞানহীন শক্তিপ্রদর্শন বলে নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে, বাল্টিক অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার করে উত্তর রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার সুযোগ দেওয়ার জন্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে মস্কো, যা ন্যাটো সরাসরি অস্বীকার করেছে। পাল্টা জবাবে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর দাবি, রাশিয়া নিজেই ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলোর গতিপথ ঘুরিয়ে তাদের আকাশসীমায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস মন্তব্য করেছিলেন, রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ ছিটমহলে অনুপ্রবেশে ন্যাটোর সক্ষমতা কতটা তা মস্কোকে দেখানো উচিত। ক্রেমলিন এ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ প্রায় দশ লাখ জনসংখ্যার একটি অত্যন্ত সামরিকায়িত অঞ্চল, রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/