শিরোনাম

রচনাচুরি বিতর্কে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদত্যাগ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
রচনাচুরি বিতর্কে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদত্যাগ
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আরডে

গবেষণায় রচনাচুরি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মুখে থেকে পদত্যাগ করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আরডে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানানোর পরপরই তিনি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক আরডের বিরুদ্ধে প্রথম এই অভিযোগ তোলেন মার্কিন গবেষক নাথান কফনাস। সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেন, বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে জেসনের পিএইচডি থিসিস পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মূল উৎসের সম্পাদনার ভুলসহ বিভিন্ন অংশ সেখানে সরাসরি কপি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নাথান কফনাস অতীতে বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে কেমব্রিজের একটি পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

২০২৩ সালে কেমব্রিজের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জেসন আরডে। কাজের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করলেও তিনি নিজেকে মিথ্যাবাদী বলতে নারাজ। জেসনের দাবি, অন্যের কাজ অনুকরণ করতে গিয়ে লেখায় কিছু ভুল থেকে গেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) নীতির বিরোধীরা জাতিগত উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে সুসংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছে। নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিবারের সুরক্ষার জন্যই তিনি এ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গবেষণার পাশাপাশি জেসনের কিছু ব্যক্তিগত ও দাতব্য দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন দৌড়ানো এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড সংগ্রহের যে দাবি তিনি করেছিলেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। জবাবে জেসন জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সহযোগীদের নিয়ে এই অর্থ তোলা হয়েছে এবং গোপনীয়তা চুক্তির কারণে তিনি দাতাদের নাম প্রকাশ করতে পারছেন না।

বর্তমানে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও জেসাস কলেজ যৌথভাবে জেসনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তার আসন্ন স্মৃতিকথার প্রকাশক ‘সাইমন অ্যান্ড শুস্টার’ জেসনের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, জেসনকে ইমেইল করার কারণে এক সংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির তদন্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা পরে ভুল পদক্ষেপ ছিল বলে পুলিশ স্বীকার করে। আপাতত কিছুদিন বিরতি নিয়ে সুস্থ হয়ে আবারও কাজে ফেরার আশা ব্যক্ত করেছেন এই অধ্যাপক।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/