দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ফ্রান্সে ৪০ জনের মৃত্যু

দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ফ্রান্সে ৪০ জনের মৃত্যু
সিটিজেন ডেস্ক

তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডসহ অধিকাংশ দেশই এখন চরম গরমের কবলে। কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, আবার কোথাও তা সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ফ্রান্সে। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা তীব্র তাপপ্রবাহে আক্রান্ত। প্রচণ্ড গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি খুঁজতে নদী, খাল ও বিভিন্ন জলাশয়ে নামছেন মানুষ। তবে সেই চেষ্টাই অনেকের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনে নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক জরুরি বৈঠকের আগে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, গত ১৮ জুন থেকে বিভিন্ন অনিরাপদ জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। তীব্র গরমের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষই জলাশয়ের দিকে ছুটছেন, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেন, দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে মানুষের আকুতি স্বাভাবিক। তবে নিষিদ্ধ বা অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটার ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দাবদাহের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা খাতেও। দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৪৫টি স্কুল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র সকালবেলায় ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) ফ্রান্সে চলতি তাপপ্রবাহের মধ্যে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর পইটিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। একটি বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গরমের মধ্যে গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নাগরিকদের গরম থেকে রক্ষা করতে প্যারিস সিটি কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। ২৫ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় উষ্ণতার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরোপ। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়া বিন্যাসের কারণে মহাদেশটির বড় অংশজুড়ে স্থায়ী তাপবলয় তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে দাবদাহ ও অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
পরিবহন ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব
প্রচণ্ড গরমের কারণে ইউরোপের পরিবহন ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপে পড়েছে। রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় প্যারিস থেকে ব্রাসেলসগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
ফ্রান্সে বৈদ্যুতিক পাখার চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে প্যারিসের অনেক দোকানেই ফ্যানের মজুত শেষ হয়ে গেছে। দেশটির বৃহত্তম নিয়োগকর্তা সংগঠন ‘মেদেফ’-এর প্রধান প্যাট্রিক মার্টিন জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেটওয়ার্ক রেল’ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রীদের ট্রেন ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে লন্ডন ও হিথ্রো বিমানবন্দর এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।
জার্মানিতেও কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, খুব শিগগিরই তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। দেশটিতে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের কার্যক্রমও আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইতালি, স্পেন ও বেলজিয়ামেও সতর্কতা
দাবদাহের কারণে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। পাশাপাশি কিছু খাতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে ইতালির তুরিন শহরে জেনারেটরের সহায়তা নিতে হচ্ছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থাও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর আগে আন্দুজার এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রিরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল।
বেলজিয়ামে অতিরিক্ত গরমের কারণে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা শ্রেণিকক্ষ থেকে সরিয়ে কাছের একটি শীতল গির্জায় আয়োজন করা হয়েছে।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যেও। অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করছে। দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান চার দিনের দাবদাহে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। এমনটি হলে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের জুন মাসের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।
বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডসহ অধিকাংশ দেশই এখন চরম গরমের কবলে। কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, আবার কোথাও তা সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ফ্রান্সে। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা তীব্র তাপপ্রবাহে আক্রান্ত। প্রচণ্ড গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি খুঁজতে নদী, খাল ও বিভিন্ন জলাশয়ে নামছেন মানুষ। তবে সেই চেষ্টাই অনেকের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনে নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক জরুরি বৈঠকের আগে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, গত ১৮ জুন থেকে বিভিন্ন অনিরাপদ জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। তীব্র গরমের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষই জলাশয়ের দিকে ছুটছেন, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেন, দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে মানুষের আকুতি স্বাভাবিক। তবে নিষিদ্ধ বা অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটার ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দাবদাহের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা খাতেও। দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৪৫টি স্কুল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র সকালবেলায় ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) ফ্রান্সে চলতি তাপপ্রবাহের মধ্যে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর পইটিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। একটি বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গরমের মধ্যে গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নাগরিকদের গরম থেকে রক্ষা করতে প্যারিস সিটি কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। ২৫ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় উষ্ণতার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরোপ। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়া বিন্যাসের কারণে মহাদেশটির বড় অংশজুড়ে স্থায়ী তাপবলয় তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে দাবদাহ ও অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
পরিবহন ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব
প্রচণ্ড গরমের কারণে ইউরোপের পরিবহন ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপে পড়েছে। রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় প্যারিস থেকে ব্রাসেলসগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
ফ্রান্সে বৈদ্যুতিক পাখার চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে প্যারিসের অনেক দোকানেই ফ্যানের মজুত শেষ হয়ে গেছে। দেশটির বৃহত্তম নিয়োগকর্তা সংগঠন ‘মেদেফ’-এর প্রধান প্যাট্রিক মার্টিন জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেটওয়ার্ক রেল’ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রীদের ট্রেন ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে লন্ডন ও হিথ্রো বিমানবন্দর এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।
জার্মানিতেও কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, খুব শিগগিরই তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। দেশটিতে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের কার্যক্রমও আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইতালি, স্পেন ও বেলজিয়ামেও সতর্কতা
দাবদাহের কারণে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। পাশাপাশি কিছু খাতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে ইতালির তুরিন শহরে জেনারেটরের সহায়তা নিতে হচ্ছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থাও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর আগে আন্দুজার এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রিরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল।
বেলজিয়ামে অতিরিক্ত গরমের কারণে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা শ্রেণিকক্ষ থেকে সরিয়ে কাছের একটি শীতল গির্জায় আয়োজন করা হয়েছে।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যেও। অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করছে। দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান চার দিনের দাবদাহে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। এমনটি হলে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের জুন মাসের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।
বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ফ্রান্সে ৪০ জনের মৃত্যু
সিটিজেন ডেস্ক

তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডসহ অধিকাংশ দেশই এখন চরম গরমের কবলে। কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, আবার কোথাও তা সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ফ্রান্সে। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা তীব্র তাপপ্রবাহে আক্রান্ত। প্রচণ্ড গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি খুঁজতে নদী, খাল ও বিভিন্ন জলাশয়ে নামছেন মানুষ। তবে সেই চেষ্টাই অনেকের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনে নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক জরুরি বৈঠকের আগে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, গত ১৮ জুন থেকে বিভিন্ন অনিরাপদ জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। তীব্র গরমের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষই জলাশয়ের দিকে ছুটছেন, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেন, দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে মানুষের আকুতি স্বাভাবিক। তবে নিষিদ্ধ বা অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটার ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দাবদাহের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা খাতেও। দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৪৫টি স্কুল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র সকালবেলায় ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) ফ্রান্সে চলতি তাপপ্রবাহের মধ্যে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর পইটিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। একটি বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গরমের মধ্যে গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নাগরিকদের গরম থেকে রক্ষা করতে প্যারিস সিটি কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। ২৫ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় উষ্ণতার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরোপ। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়া বিন্যাসের কারণে মহাদেশটির বড় অংশজুড়ে স্থায়ী তাপবলয় তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে দাবদাহ ও অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
পরিবহন ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব
প্রচণ্ড গরমের কারণে ইউরোপের পরিবহন ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপে পড়েছে। রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় প্যারিস থেকে ব্রাসেলসগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
ফ্রান্সে বৈদ্যুতিক পাখার চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে প্যারিসের অনেক দোকানেই ফ্যানের মজুত শেষ হয়ে গেছে। দেশটির বৃহত্তম নিয়োগকর্তা সংগঠন ‘মেদেফ’-এর প্রধান প্যাট্রিক মার্টিন জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেটওয়ার্ক রেল’ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রীদের ট্রেন ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে লন্ডন ও হিথ্রো বিমানবন্দর এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।
জার্মানিতেও কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, খুব শিগগিরই তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। দেশটিতে তাপপ্রবাহজনিত কারণে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের কার্যক্রমও আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইতালি, স্পেন ও বেলজিয়ামেও সতর্কতা
দাবদাহের কারণে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। পাশাপাশি কিছু খাতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে ইতালির তুরিন শহরে জেনারেটরের সহায়তা নিতে হচ্ছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থাও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর আগে আন্দুজার এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রিরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল।
বেলজিয়ামে অতিরিক্ত গরমের কারণে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা শ্রেণিকক্ষ থেকে সরিয়ে কাছের একটি শীতল গির্জায় আয়োজন করা হয়েছে।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যেও। অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করছে। দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান চার দিনের দাবদাহে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। এমনটি হলে ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের জুন মাসের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।
বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।




