শিরোনাম

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ সামরিক মহড়া স্থগিতের নির্দেশ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ সামরিক মহড়া স্থগিতের নির্দেশ
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ছবি: বিবিসি

আর্থিক টানাপোড়েন সামলাতে এবার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী। খরচ কাটছাঁটের লক্ষ্যে ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসেবে বিবেচিত প্রশিক্ষণ ও সামরিক মহড়াগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এবং এই মুহূর্তে জরুরি কোনো অভিযানে মোতায়েনের অপেক্ষায় নেই- এমন ইউনিটগুলোর যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়বে। তবে বিদেশে দায়িত্বরত কিংবা নতুন অভিযানে মোতায়েনের প্রস্তুতিতে থাকা দলগুলোর প্রশিক্ষণ যথারীতি চালু থাকছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এস্তোনিয়া, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কিংবা সাইপ্রাসের মতো জায়গায় যেসব সেনাসদস্য বর্তমানে দায়িত্বরত কিংবা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের প্রশিক্ষণে কোনো কাটছাঁট করা হচ্ছে না। মূলত যুক্তরাজ্যের মাটিতে থাকা যেসব ইউনিটের তাৎক্ষণিক কোনো অভিযান পরিকল্পনা নেই, তাদেরই বড় আকারের যৌথ মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ এসেছে।

সামরিক মহড়ায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরা
সামরিক মহড়ায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরা

মন্ত্রণালয়ের সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, ‘থাকলে ভালো হয়’ এমন ধরনের প্রশিক্ষণগুলোই আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে উইল্টশায়ারের স্যালিসবারি প্লেইন কিংবা ওয়েলসের সেনিব্রিজের মতো প্রশিক্ষণ এলাকায় বড় পরিসরে সরাসরি গুলি ছোড়ার মহড়া এবং প্লাটুনের হামলা কৌশল অনুশীলন অন্যতম। ইতোমধ্যে রয়্যাল ট্যাংক রেজিমেন্টের সরাসরি গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ এবং ট্যাংক ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের সমন্বয়ে নির্ধারিত একটি বড় মহড়া বাতিল করা হয়েছে। সেনাসদস্যদের অনিচ্ছাসত্ত্বেও তীব্র আর্থিক চাপের কারণেই এই বিরতি দিতে হচ্ছে। ‌

তবে মহড়া সীমিত করলেও সেনাবাহিনীকে আধুনিক করার প্রক্রিয়া থেমে থাকছে না। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ড্রোন পরিচালনা এবং ড্রোনবিরোধী যুদ্ধের কৌশল শেখানোর মতো জরুরি প্রশিক্ষণগুলো চালু থাকছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণের আবেদন এখন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করেই অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের ওপর চাপ বাড়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত সামনে এলো। আগামী বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জাতীয় আয়ের ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে সরকারের এই টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। বার্নহামের পূর্বসূরি স্যার কিয়ার স্টারমারের সরকারের পতনের পেছনেও সশস্ত্র বাহিনীর বাজেট সংক্রান্ত অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছিল। এমনকি স্টারমারের অর্থায়ন পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিও। সরকারের বর্তমান প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ডিআইপি) অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার কথা থাকলেও, পরের সময়টা নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা মেলেনি।

বিবিসি জানিয়েছে, নতুন বরাদ্দের একটা বড় অংশই নির্ধারিত রয়েছে দূরপাল্লার নতুন অস্ত্র কর্মসূচির মতো প্রকল্পগুলোর জন্য। ফলে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার পরও সার্বিকভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ খাতের বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে এবং যেসব প্রশিক্ষণ সরাসরি প্রস্তুতি, মোতায়েনের সক্ষমতা ও সামরিক কার্যকারিতায় সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে, সেগুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আগামী ১৫ বছরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আমরা ২০০ কোটি পাউন্ডও বিনিয়োগ করছি।’

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/