শিরোনাম

সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে পাপুয়ায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ

সিটিজেন ডেস্ক
সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে পাপুয়ায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ
ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাপুয়াতে সেনা উপস্থিতির প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহ দমনে মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহারের দাবিতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এ বিক্ষোভে ওই অঞ্চলের কয়েকশ বাসিন্দা অংশ নেন।

সম্পতি একটি সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। ওই অভিযানটি চালানো হয় অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে।

পাপুয়া প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র কাহইয়ো সুকার্নিতো জানান, প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারী রাজধানী জয়াপুরার তিনটি স্থানে সমাবেশ শেষে শহরের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা পাপুয়ার ছয়টি প্রদেশ থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং দীর্ঘদিনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, একটি স্থানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন এবং তাদের হাতে ব্যাটন রয়েছে।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে কর্মসূচি পুনরায় শান্তিপূর্ণভাবে চলতে থাকে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন আইনপ্রণেতা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো শোনেন।

উল্লেখ্য, পাপুয়া অঞ্চলটি প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে অবস্থিত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ও তামার খনি গ্রাসবার্গ খনি, যা ইন্দোনেশিয়া সরকার ও মার্কিন কোম্পানি ফ্রিপোর্ট-ম্যাকমোরান-এর যৌথ মালিকানাধীন।

ঐতিহাসিকভাবে, ছয় দশকের বেশি সময় ডাচ ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৯৬৯ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এক ভোটের মাধ্যমে অঞ্চলটি ইন্দোনেশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই সময় থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো।

সূত্র: রয়টার্স

/এমআর/