শিরোনাম

ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পুনরায় হামলার হুমকি ট্রাম্পের

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পুনরায় হামলার হুমকি ট্রাম্পের

যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবকে অপর্যাপ্ত ও অর্থহীন আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউজ। তেহরানের অনমনীয় অবস্থানের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুদ্ধ শুরুসহ সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৯ মে) হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বলে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আলোচনার টেবিল ছেড়ে বোমার মাধ্যমে কথা বলা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং ইরান যদি নমনীয়তা না দেখায়, তবে তাদের এর চেয়েও বড় ও কঠোর আঘাতের মুখোমুখি হতে হবে।

পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো ইরানের নতুন প্রস্তাবে পূর্ববর্তী সংস্করণের চেয়ে কেবল সামান্য কিছু শাব্দিক পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন খসড়ায় পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ইরানের মৌখিক প্রতিশ্রুতি কিছুটা বাড়লেও, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা কিংবা তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। এদিকে, আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে কিছু তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করলেও, ওয়াশিংটন তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়া হবে না।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সামান্য পরিবর্তন করে ইরানের নতুন প্রস্তাব দেওয়ার প্রবণতা এটাই প্রমাণ করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বেশ শঙ্কিত। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছেন এবং সময় আসলে ইরানের পক্ষেই রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা না হলেও, ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা কেমন হবে তা নির্ধারণে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

সূত্র: এ্যাক্সিওস

/এমএকে/