ইরানের হামলার ভয়ে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

ইরানের হামলার ভয়ে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন সংস্কার করা উড়োজাহাজে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি ছিল উড়োজাহাজটির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। তবে সফর শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন বিমানটি ব্যবহার না করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন। পরে ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে নেমে আবার নতুন উড়োজাহাজে উঠে ওয়াশিংটনের পথে যাত্রা করেন।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়। তাঁদের ভাষ্য, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সুপারিশেই সফরের শেষ পর্যায়ে উড়োজাহাজ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নতুন উড়োজাহাজটি আগেভাগে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সেটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান। তিনি নতুন বিমানটিকে "অসাধারণ" বলেও মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সক্ষমতা এতে সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভ্রান্তিমূলক কৌশলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
তবে উড়োজাহাজটির সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তা, যাঁরা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, জানিয়েছেন নতুন উড়োজাহাজে এখনো পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের প্রতিরক্ষা সুবিধা যুক্ত হয়নি। তাঁদের মতে, তুরস্ক থেকে ফেরার সময় উড়োজাহাজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
তুরস্কে অবস্থানকালে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালায়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, "পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে" তিনি আঙ্কারা থেকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই যাত্রা করবেন। একই সঙ্গে নতুন বিমানটি মিলডেনহলে পাঠানো হবে, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সেটি দেখতে পারেন।
তবে সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভাষ্য, ট্রাম্প আঙ্কারা ত্যাগের সময় অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে পুরোনো বিমানে ওঠেন। এ কারণে তাঁর বিমানে ওঠার প্রচলিত দৃশ্য ধারণের সুযোগ পাননি সংবাদকর্মীরা। এছাড়া উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সম্ভাব্য হুমকির কারণেই হয়তো এমন সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একটি সাধারণ বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে পূর্ণাঙ্গ এয়ার ফোর্স ওয়ানে রূপান্তর করতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক বিস্ফোরণের তড়িৎচৌম্বকীয় অভিঘাত প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থাসহ বহু জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করতে হয়।
প্রতিরক্ষা শিল্প ও পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের উন্নয়নকাজে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে এবং সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যদিও বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় ই. মেইঙ্ক কংগ্রেসে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের ব্যয় সম্ভবত ৪০ কোটি ডলারের কম হবে।
বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী সচিব অ্যান্ড্রু পি. হান্টার বলেন, একটি উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থে এয়ার ফোর্স ওয়ানের মানে উন্নীত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। তাঁর মতে, কাতারের উপহার দেওয়া উড়োজাহাজটি সংস্কারের জন্য যে সময় পাওয়া গেছে, তাতে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত বড় ধরনের নিরাপত্তা পরিবর্তন সম্পন্ন করা কঠিন।
এদিকে কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পারমাণবিক তড়িৎচৌম্বকীয় অভিঘাত প্রতিরোধী প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন সংস্কার করা উড়োজাহাজে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি ছিল উড়োজাহাজটির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। তবে সফর শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন বিমানটি ব্যবহার না করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন। পরে ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে নেমে আবার নতুন উড়োজাহাজে উঠে ওয়াশিংটনের পথে যাত্রা করেন।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়। তাঁদের ভাষ্য, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সুপারিশেই সফরের শেষ পর্যায়ে উড়োজাহাজ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নতুন উড়োজাহাজটি আগেভাগে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সেটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান। তিনি নতুন বিমানটিকে "অসাধারণ" বলেও মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সক্ষমতা এতে সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভ্রান্তিমূলক কৌশলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
তবে উড়োজাহাজটির সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তা, যাঁরা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, জানিয়েছেন নতুন উড়োজাহাজে এখনো পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের প্রতিরক্ষা সুবিধা যুক্ত হয়নি। তাঁদের মতে, তুরস্ক থেকে ফেরার সময় উড়োজাহাজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
তুরস্কে অবস্থানকালে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালায়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, "পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে" তিনি আঙ্কারা থেকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই যাত্রা করবেন। একই সঙ্গে নতুন বিমানটি মিলডেনহলে পাঠানো হবে, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সেটি দেখতে পারেন।
তবে সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভাষ্য, ট্রাম্প আঙ্কারা ত্যাগের সময় অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে পুরোনো বিমানে ওঠেন। এ কারণে তাঁর বিমানে ওঠার প্রচলিত দৃশ্য ধারণের সুযোগ পাননি সংবাদকর্মীরা। এছাড়া উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সম্ভাব্য হুমকির কারণেই হয়তো এমন সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একটি সাধারণ বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে পূর্ণাঙ্গ এয়ার ফোর্স ওয়ানে রূপান্তর করতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক বিস্ফোরণের তড়িৎচৌম্বকীয় অভিঘাত প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থাসহ বহু জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করতে হয়।
প্রতিরক্ষা শিল্প ও পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের উন্নয়নকাজে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে এবং সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যদিও বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় ই. মেইঙ্ক কংগ্রেসে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের ব্যয় সম্ভবত ৪০ কোটি ডলারের কম হবে।
বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী সচিব অ্যান্ড্রু পি. হান্টার বলেন, একটি উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থে এয়ার ফোর্স ওয়ানের মানে উন্নীত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। তাঁর মতে, কাতারের উপহার দেওয়া উড়োজাহাজটি সংস্কারের জন্য যে সময় পাওয়া গেছে, তাতে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত বড় ধরনের নিরাপত্তা পরিবর্তন সম্পন্ন করা কঠিন।
এদিকে কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পারমাণবিক তড়িৎচৌম্বকীয় অভিঘাত প্রতিরোধী প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইরানের হামলার ভয়ে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন সংস্কার করা উড়োজাহাজে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি ছিল উড়োজাহাজটির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। তবে সফর শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন বিমানটি ব্যবহার না করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন। পরে ইংল্যান্ডের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে নেমে আবার নতুন উড়োজাহাজে উঠে ওয়াশিংটনের পথে যাত্রা করেন।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়। তাঁদের ভাষ্য, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সুপারিশেই সফরের শেষ পর্যায়ে উড়োজাহাজ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নতুন উড়োজাহাজটি আগেভাগে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সেটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান। তিনি নতুন বিমানটিকে "অসাধারণ" বলেও মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সক্ষমতা এতে সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভ্রান্তিমূলক কৌশলসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
তবে উড়োজাহাজটির সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তা, যাঁরা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, জানিয়েছেন নতুন উড়োজাহাজে এখনো পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের প্রতিরক্ষা সুবিধা যুক্ত হয়নি। তাঁদের মতে, তুরস্ক থেকে ফেরার সময় উড়োজাহাজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
তুরস্কে অবস্থানকালে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালায়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, "পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে" তিনি আঙ্কারা থেকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই যাত্রা করবেন। একই সঙ্গে নতুন বিমানটি মিলডেনহলে পাঠানো হবে, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সেটি দেখতে পারেন।
তবে সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভাষ্য, ট্রাম্প আঙ্কারা ত্যাগের সময় অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে পুরোনো বিমানে ওঠেন। এ কারণে তাঁর বিমানে ওঠার প্রচলিত দৃশ্য ধারণের সুযোগ পাননি সংবাদকর্মীরা। এছাড়া উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সম্ভাব্য হুমকির কারণেই হয়তো এমন সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একটি সাধারণ বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে পূর্ণাঙ্গ এয়ার ফোর্স ওয়ানে রূপান্তর করতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক বিস্ফোরণের তড়িৎচৌম্বকীয় অভিঘাত প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থাসহ বহু জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করতে হয়।
প্রতিরক্ষা শিল্প ও পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের উন্নয়নকাজে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে এবং সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যদিও বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় ই. মেইঙ্ক কংগ্রেসে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের ব্যয় সম্ভবত ৪০ কোটি ডলারের কম হবে।
বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী সচিব অ্যান্ড্রু পি. হান্টার বলেন, একটি উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থে এয়ার ফোর্স ওয়ানের মানে উন্নীত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। তাঁর মতে, কাতারের উপহার দেওয়া উড়োজাহাজটি সংস্কারের জন্য যে সময় পাওয়া গেছে, তাতে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত বড় ধরনের নিরাপত্তা পরিবর্তন সম্পন্ন করা কঠিন।
এদিকে কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পারমাণবিক তড়িৎচৌম্বকীয় অভিঘাত প্রতিরোধী প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।




