শিরোনাম

বিতর্কের মুখে মার্কিন রণতরী পরিদর্শনে সেন্টকম কমান্ডার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিতর্কের মুখে মার্কিন রণতরী পরিদর্শনে সেন্টকম কমান্ডার
সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার

দীর্ঘ ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ সফরের অংশ হিসেবে জাহাজটিতে যান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। সেখানে নাবিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাদের সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কুপারের মতে, আধুনিক সামরিক ইতিহাসের অন্যতম কঠিন ও তাৎপর্যপূর্ণ অভিযান সম্পন্ন করেছে রণতরীর নাবিকেরা।

ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জাহাজে থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নসহ একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্য নিয়ে পরিচালিত রণতরীটির এ মিশন চলতি বছরের মে মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির প্রয়োজনে দফায় দফায় মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও বিশেষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে জাহাজটি পরিদর্শন করেছিলেন কুপার।

তবে রণতরীটি কেবল যুদ্ধের ময়দানে সাফল্যের কারণেই আলোচনায় আসেনি। জাহাজের ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আনুযায়ী, জাহাজটিতে নাবিকদের পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছিল এবং গোসলখানাগুলোতে ছত্রাক জন্মে পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছিল। চরম মানসিক চাপে পড়ে কয়েকজন নাবিক এমনকি জাহাজ থেকে সাগরে লাফ দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা যায়।

এসব খবর সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেনাসদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও রুবেন গালেগো রণতরীটিতে একটি যৌথ ও নিরপেক্ষ পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত নৌ-সচিব হং কাও ঘোষণা দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচির অংশ হিসেবেই ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’কে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সেখানে মোতায়েন করা হচ্ছে আরেক মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’।

সূত্র: দ্য হিল

/এমএকে/